Categories
কুলিক রোববার প্রথম পাতা

কুলিক রোববার :নর্দান আয়ারল্যান্ড : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর-বৈচিত্র্যময় দ্বীপভূমি

উৎপল ঝা

সপ্তম পর্ব

বেশ কয়েকদিন বিরতি নিয়ে আজ ফিরে আসছি বেলফাস্ট ভ্রমণ পর্বে । প্রথম দিন প্রাচীর দেখে ফিরে বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তপেনবাবুরা লেগে পড়লেন খিচুড়ি রান্নায়।
তারপর খাওয়ার ঘরে যখন আমাদের প্লেটে ঘি সহযোগে মুগ ডালের স্বর্ণাভ খিচুড়ি পরিবেশিত হল তখন পাউরুটি চিবোন বন্ধ রেখে দেশ-বিদেশের ফর্সা চামড়ার ট্যুরিস্টরা কেউ বা বিস্ময়ে , কেউবা কৌতুহলে আবার কেউ বিরক্তি নিয়েই সেই অদ্ভুতদর্শন খাদ্য-পদার্থটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।আমাদের অবশ্য অখণ্ড মনযোগ ছিল প্লেটের দিকে । তবে সাহেবদের দেশে আমরা হাতের বদলে চামচ ব্যবহার করেছিলাম।

ইতিমধ্যে আমি দীর্ঘকায় এক বয়স্ক ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে নিয়েছিলাম , তিনি ম্যাঞ্চেস্টার থেকে বেড়াতে এসেছেন। ভারতের রাজস্থান এবং তামিলনাড়ু ঘুরে গেছেন। কিন্তু তিনি সিস্টার নিবেদিতার নাম শোনেননি জেনে বিস্মিত হলাম। বেলফাস্ট থেকে বাসে এক ঘন্টা দূরত্বেই নিবেদিতার জন্মভূমি । সময়াভাবে আমাদের সেখানে যাওয়া হয়ে ওঠেনি । ডাক্তার শঙ্কর নাথ প্রায় দু’মাস স্কটল্যান্ড এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডে ছিলেন — তিনি সিস্টার নিবেদিতার জন্মস্থানে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছিলেন, কারণ সেই বাড়িটিতে তাঁর কোন স্মৃতিচিহ্নই রক্ষিত হয়নি ।
যাইহোক, পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা ছুটলাম সেন্ট অ্যানিস ক্যাথিড্রাল দেখতে । কিন্তু সেখানেও প্রবেশমূল্য দিয়ে ঢুকতে হবে জেনে আমরা বাইরে থেকেই তাকে নমস্কার জানালাম।
কেউ বলেন চার্চটি ভার্জিন মেরীর মা অ্যানি-র নামে , আবার কেউ বলেন লর্ড ডোনেগালস-এর স্ত্রীর নামে চার্চটির নামকরণ হয়েছে । অষ্টাদশ শতকের প্রাচীন চার্চটির কিছু অংশ ভেঙে ১৮৯৫ সালে রোমান স্থাপত্যের অনুকরণে অর্ধ-বৃত্তাকার এই চার্চটি নির্মিত হয় । দীর্ঘকাল ধরে বহু শিল্পী এবং আর্কিটেকটের প্রচেষ্টায় নির্মিত এই চার্চ।

এরপর আমরা হাজির হই , বেলফাস্ট শহরের অন্যতম দ্রষ্টব্য ‘ সিটি হল ‘ দেখবার জন্য। প্রসঙ্গত বলার, গেইলিক শব্দ ‘বেলফাস্ট ‘-এর অর্থ Mouth of the River . ১৮৮৮ সালে কুইন ভিক্টোরিয়া বেলফাস্টকে ‘সিটি ‘ হিসেবে ঘোষণার পর , ১৮৯৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ১৯০৬ সালে সিটি হলের উদ্বোধন হয় । নির্মাণে খরচ হয়েছিল তিন লক্ষ ষাট হাজার পাউন্ড। এই বিল্ডিংটি বেলফাস্ট শহরের পৌর নিগম, যাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটও ঘোষণা করা হয়েছে । মজার ব্যাপার হল, সিটি হলের সঙ্গে টাইটানিক জাহাজের একটা সংযোগ রয়েছে , দুটোরই পরিকল্পক হলেন উইলিয়াম পিয়েরি, যিনি ১৮৯৬-৯৭ সালে বেলফাস্ট-এর লর্ড মেয়র ছিলেন। স্থপতি ব্রুমওয়েল টমাসের তত্ত্বাবধানে রেনেসাঁস স্টাইলে পোর্টল্যান্ড পাথরে আয়তাকার এই অপূর্ব সিটি হলটি নির্মিত হয় । ৬৮ ফুট লম্বা, ৩৮ ফুট চওড়া এবং ১৭ ফুট উঁচু কাউন্সিল চেম্বার ছাড়াও এখানে রয়েছে দ্য গ্রেট হল ( ১২০ফুট×৫৭ফুট× ৪০ফুট ), রিসেপশন হল , ভিজিটারস গ্যালারি এবং বিশালকার সুসজ্জিত সিঁড়ি , যা অনায়াসে ট্যুরিস্টদের সমীহ আদায় করে নেয় ।
হলের প্রবেশ- পথের ঠিক ওপরে তুঁতে রংয়ের বিশালকার গম্বুজটি বহুদূর থেকেই দৃশ্যমান।

সিটি হলের বাইরের দৃশ্য


সিটি হল নিয়ে আরও অনেক কথা বলার আছে যা পরের দিন বলা যাবে ।

77

Leave a Reply