Categories
কুলিক রোববার দেশের খবর প্রথম পাতা বিনোদন জগত রাজনীতি

কুলিক রোববার :নর্দান আয়ারল্যান্ড : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর-বৈচিত্র্যময় দ্বীপভূমি

উৎপল ঝা

ষষ্ঠ পর্ব

বেলফাস্টের বিখ্যাত দেওয়াল নিয়ে আরও কিছু কথা

বেলফাস্টের শান্তি-প্রাচীর নিয়ে প্রায় কিছুই বলা হয়নি । আমাদের ক্যাব-চালক জানালেন , এই প্রাচীরের কিছু দূরে দূরে ছোট ছোট কয়েকটি গেট আছে ,সেখান প্রহরীও থাকে এবং সন্ধের পর একটি-দুটি গেট খোলা রেখে বেশিরভাগই বন্ধ করে দেওয়া হয় । সন্ধের পর কেউই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিপক্ষ এলাকায় পা রাখে না । ক্যাব- চালক আরও জানালেন, শাসক-অনুগত প্রটেস্ট্যান্টরা যেমন ক্যাথলিকদের ‘ওরা ‘ বলে চিহ্নিত করে , বিরোধী ক্যাথলিকরাও প্রটেস্ট্যান্টদের ‘ওরা’ বলেই সম্বোধন করে থাকে ।


একথা শুনে আমার খুব কৌতূহল হচ্ছিল ,আমাদের ক্যাব-চালকদ্বয় কোন পক্ষীয় ! তাঁদের কথা থেকে কিছুই বোঝার উপায় নেই, কারণ নৈর্ব্যক্তিক ভাবেই তাঁরা ইতিহাসের বয়ান তুলে ধরেছিলেন ট্যুরিস্টদের কাছে , এবং সেটাই অবশ্য যুক্তিযুক্ত। ।
আয়ারল্যান্ডের বিভাজনের পর পর ১৯২০-১৯২২ সালে এবং ষাটের দশকে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে নর্দান আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের সশস্ত্র আন্দোলনে ব্রিটিশ সৈন্যদের হাতে বহু মানুষের প্রাণ যায় বা তারা আহত হন এবং অনেক ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। ১৯৭০-১৯৮০ সালে রিপাবলিকান নেতাদের আন্দোলনের সমর্থনে বেলফাস্টের ফলস রোডে প্রথম ম্যুরাল-চিত্রের আবির্ভাব ঘটে । ১৯৮১ সালে আন্দোলনকারী জনপ্রিয় নেতা ববি স্যান্ডস্ অনশনরত অবস্থায় মারা যান ।

তাঁর সেই ম্যুরাল জ্বলজ্বল করছে আজও । যাইহোক, ১৯৯৮ সালের Good Friday Agreement-এর মাধ্যমে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে ।

আমরা ,দেখলাম জনপ্রিয় ফুটবল প্লেয়ার জর্জ বেস্ট-এর দেওয়াল-চিত্র , যিনি আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের খ্যাতিমান ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন, ২০০৬ সালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে । এই মানুষটির প্রতি উভয় গোষ্ঠীরই প্রবল অনুরাগের কথা জানা গেল । তিনি সম্প্রীতির এক প্রতীক হিসেবে চিত্রিত ।
এই দেওয়ালে আন্দোলনকারীদের ছবির সঙ্গেই ব্রিটিশ সামরিক নেতাদেরও ঘোড়সওয়ার ছবি দেখা গেল । এছাড়া বেশ কিছু লেখক ও শিল্পীর ছবিও শোভা পাচ্ছে । নর্থ-ফেস্টিভ্যাল নামক বার্ষিক উৎসবের সময় নাকী সারা পৃথিবীর গ্রাফিটি-মার্চেন্টরা এখানে সমবেত হয়ে ছবি এঁকে থাকেন । সে এক অপরূপ উৎসব।
যাইহোক, আজ একটি উদ্ধৃতি দিয়ে এই দেওয়াল-কথা শেষ করা যাক :
If the Walls could Talk – Artistic Mirror for Political discontentant and cultural disjunction across the last century — they reflect the troubled history of North Ireland .

39

Leave a Reply