Categories
কুলিক রোববার প্রথম পাতা

কুলিক রোববার :নর্দান আয়ারল্যান্ড : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর-বৈচিত্র্যময় দ্বীপভূমি 

উৎপল ঝা

তৃতীয় পর্ব

ক্যারিক-এ- রিড থেকে রওনা দিয়ে আধ ঘন্টার মধ্যেই আমরা এসে পৌঁছালাম Dark Hedges নামে কথিত এক বিস্ময়কর স্থানে । এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে ঘিরে নানান কিংবদন্তী ডালপালা মেলেছে । আর সেইসব গল্পগাথা সাহেবদের কুসংস্কারের নমুনা বহন করছে জেনে খুব মজাও পেয়েছি ।

১৭২৫ খ্রিস্টাব্দে , মানে আজ থেকে প্রায় ২৪৫ বছর আগে , জেমস স্টুয়ার্ড নামে এক স্থানীয় ভূস্বামী তাঁর মৃতা স্ত্রী Grace Lynd – এর স্মৃতিতে দুটি নিকটবর্তী স্থানের সংযোগকারী একটি রাস্তার দু’পাশে বেলাভূমিতে জন্মায় এমন ১৫০টি গাছ লাগিয়েছিলেন । কালক্রমে সেই গাছগুলি বড় হয়ে আঁকাবাঁকা ডালপালা নিয়ে অদ্ভুত আকার ধারণ করে । রাস্তার দুদিকের ডালপালা যেন রাস্তার ওপর বহুদূর বিস্তৃত সবুজ এক তোরণ তৈরি করেছে ।

কিন্তু গাছগুলির এই আঁকাবাঁকা ডালপালা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে বিস্ময় আর সেইসূত্রে ভীতির সঞ্চার করেছে, জন্ম দিয়েছে নানা ভৌতিক গল্পের। অষ্টাদশ শতকেই এই গল্প ছড়িয়ে পড়ে যে Halloween -এর বিশেষ দিনে স্টুয়ার্ডের স্ত্রী বা কন্যা কিম্বা রহস্যজনক ভাবে মৃত গৃহসেবিকার আত্মার আমন্ত্রণে স্থানীয় পরিত্যক্ত কবরখানার প্রেতাত্মারা এইসব গাছে ভিড় করে এবং একডাল থেকে আর এক ডালে নাচানাচি করে বেড়ায়। আর তার ফলেই গাছগুলি অমন কিম্ভূতকিমাকার আকার ধারণ করেছে ।

ঝড়বৃষ্টিতে বেশকিছু গাছ উপড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গাছের সংখ্যা নব্বইয়ের কাছাকাছি । অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানের মতো এই গাছগুলির সংরক্ষণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে । এই রাস্তায় সাধারণত গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কিন্তু আমরা ঐ রাস্তায় এক বৃদ্ধ ভদ্রলোককে একটি ভিনটেজ কার চালিয়ে যেতে দেখেছি ।

যাইহোক, এই গাছগুলি শুধু পর্যটকদের কাছেই জনপ্রিয় নয় ।’ গেমস অফ থ্রোন’ সহ বহু বিদেশি চলচ্চিত্রের শ্যুটিংও হয়েছে এখানে । যখন সেসব দেখে ফিরছি তখন এক তরুণ-দম্পতিকে রাস্তার মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি । দেখি তারা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে । বুঝলাম কিছু বলতে চায় তারা কিন্তু বাদামী চামড়ার বিদেশিকে বলা যায় কিনা বুঝে উঠতে পারছে না । আমি নিজেই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করায় মেয়টি বলল গাছগুলির ব্যাকগ্রাউন্ডে তাদের যদি একটি ছবি তুলে দিই । আমি সানন্দে এই তরুণ জুটির তিন-চারটি ছবি তুলে দেওয়ায় তারা বারবার কৃতজ্ঞতা জানাতে থাকে । সঙ্কোচ এবং তৃপ্তি মেশানো সেই ধন্যবাদ আমার একটি অপ্রত্যাশিত পাওনা হল ।
আমরা ফিরে চললাম দূরে পার্ক করা গাড়ির দিকে । পথে পড়ল একটি প্রাসাদোপম বাড়ি যেখানে ফুটে রয়েছে আমাদের চেনা কলাবতী ফুলের মতো কিছু হলুদ রঙের ফুল । গাড়িগুলি যেখানে পার্ক করানো হয়েছে সেখানে রিসেপশন সেন্টারে রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি রয়েছে সেসব বহুকষ্টে উপেক্ষা করে আমরা গাড়িতে গিয়ে বসলাম। গাড়ি ছুটে চলল উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট-এর দিকে ।

46

Leave a Reply