Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি : ২৩

সাধন দাস

বাশারদার আন্ডারগ্রাউন্ড। 

তখন বহরমপুরে, মাসিমার কাছেই থাকি। 

অন্ধকার রাত।

ঠক্‌ ঠক্‌, ঠক্‌ ঠক্‌ 

একজোড়া ভয়ার্ত চোখ জানলায়। 

– সাধন, দরজা খোলো। 

– বাশারদা? এতো রাতে?  

কাদা মাখা পাজামা। ছেঁড়া পাঞ্জাবী। উসকোখুসকো চুল। ধ্বস্ত মানুষটা বিছানায় বসে পড়লো।   

– সাহানাকে নিয়ে গঙ্গার ঘাটে বসেছিলাম, বদমাস ছোকরারা টাকাফাকা কেড়ে কী হাল করেছে! 

পাতিচাষা বাশারদা খানদানি ঘরানায় সাহানার সাথে প্রেম করেছে। কেউ মেনে নিচ্ছে না। 

শাশুড়ি বলেছে, কেরানীর শখ কতো? 

সাহানার দিদি বলেছে, কথাগাঁথা মিস্ত্রি!  

সমাজ বলেছে, ট্যাঁকারায়পুরে ঢুকলে ঠ্যাং ভেঙে দেবে। 

ভয়ে বাশারদা আমার ঘরেই থেকে গেলো। একথালায় একজনের খাবার দু’জন ভাগ করে খায়। এক বিছানায় ঠেলাঠেলি করি। ঘুম আসে না। উঠে বসি। বাশারদা গল্প লেখা শেখায়। কেমন করে- গল্পের শব্দ চিনতে হয়, শব্দের পর শব্দের সিমেন্টিংয়ে কী করে বাক্যদের দিয়ে কথা বলাতে হয়, কোথায় গল্প খুঁজতে হয়।  

বিড়ির স্টক ফুরিয়ে গেলে মেঝেময় ছড়ানো আধখাওয়া বিড়িতে আগুন লাগিয়ে দু’জনে মিলে ফের টানি। সেও ফুরিয়ে গেলে, রাতের অন্ধকারে দুই স্যাঙাৎ বিছানার চাদর, কম্বল মুড়ি দিয়ে বেড়িয়ে পড়ি চা বিড়ি দেশলাইয়ের খোঁজে। সারা রাস্তা সাহানার গল্প। সাহানা সাহানা – কান মাথা ঝালাপালা ধরে যায়। সাহানার মাপে রাতের বহরমপুর ছোট হয়ে এলে ফিরে আসি বিছানায়। বাশারদা জিজ্ঞেস করে- সাধন, সে এখন কী করছে? 

-দূর! ঘুমোও তো! কাল অফিস আছে। 

ফ্যাসফেসে স্বরে শোনাবার ভান করে নিজে বলে নিজেই শোনে – হয়তো খেতে দেয়নি। তালা বন্ধ রেখেছে। বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদছে।  

পাশ ফেরে। চোখের জলের সুর শুনতে পাই, আয়ে না বালম, কেয়া কর সজনী…  

ভোরের বালিশে দেখি, বাশারদার চোখের জলে আঁকা বাসন্তি রঙের ছবি। 

বাশারদা বলে- সাহানার মুখ, না!

60

Leave a Reply