Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার :নর্দান আয়ারল্যান্ড : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর-বৈচিত্রময় দ্বীপভূমি 

উৎপল ঝা

দ্বিতীয় পর্ব

নর্দান আয়ারল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে :

( পারিবারিক কিছু ব্যস্ততায় এই ভ্রমণ বিষয়ে আর অগ্রসর হতে পারিনি , ফলে কিছুটা খেই হারাতে বসেছে , তাই আজ ফিরে আসা )
Portrush বন্দরটি গড়ে উঠেছিল আজ থেকে প্রায় দু’শো বছর আগে, ১৮২৭ সালে ; মূলত স্কটল্যান্ড থেকে আসা পর্যটক এবং মৎস্যজীবীদের সৌজন্যে । এখানে তিনটি (সমুদ্র) বেলাভূমি রয়েছে East Strand, West Strand এবং White Rocks .আমরা যেখানে সমুদ্র দর্শন করলাম সেটি বোধকরি West Strand ,যদিও কোথাও কিছু লেখা ছিল না । শুনেছি কাছেই Portrush Golf Club, গ্রেট ব্রিটেনের বাইরে ইংল্যান্ডের একমাত্র গল্ফ কোর্স । সে অবশ্য দেখবার সুযোগ হয়নি সময়াভাবে ।


শৌভিক জানিয়ে রেখেছিল পরদিন আমাদের তিন তিনটি দর্শনীয় স্থান দেখে সন্ধের আগে পৌঁছাতে হবে নর্দান আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট-এ। স্বভাবতই, পরদিন ব্রেকফাস্ট সেরেই আমরা রওনা দিলাম প্রথম দ্রষ্টব্য Giants Causeway নামক ইংল্যান্ডের চতুর্থ, জনশ্রুতিতে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য দেখবার জন্য । কিন্তু কাছাকাছি পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই শুরু হল প্রবল বৃষ্টি । গতকালের বৃষ্টিতে আমার একটু ঠান্ডা লেগেছিল। তাই যতই আকর্ষণীয় হোক, আজ ঐ বৃষ্টিতে হেঁটে এক মাইল যাওয়ার সাহস হল না । অন্যরা সবাই অদম্য তপেনবাবুকে অনুসরণ করলেন ।

ওনাদের নামিয়ে গাড়ি অনেকটা দূরে সরিয়ে এনে পার্ক করতে হল, কাছাকাছি পার্ক করলেই মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে ।
গাড়িতে আমি , আমার গিন্নি এবং শৌভিক। কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি একটু কমে এলো । আমরা সেই সুযোগে গাড়ি থেকে নেমে সবুজ ঘাসে ঢাকা প্রান্তরে বেশ কিছু ভেড়াকে চরে বেড়াতে দেখে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ নিলাম।

এতদিন দূরে দূরেই তাদের দেখেছি, হাতের নাগালে পাইনি । তারাও সানন্দে ক্যামেরার সামনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিলেন।

তপেনবাবুরা যতক্ষণ ফিরে না আসেন Giants Causeway সম্পর্কে যেসব জনশ্রুতি আছে তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাক। নর্দান আয়ারল্যান্ডে Finn Macool নামে এক বিশালকার দৈত্য ছিল। স্কটল্যান্ডের আরও বিশালকার দৈত্য Benandonner তাকে চ্যালেঞ্জ করে বসে । তখন Finn সমুদ্রে উপরে Causeway নামক রাস্তাটি তৈরি করে । Benandonner যুদ্ধের জন্য হাজির হলে তার বিশালকার চেহারা দেখে Finn- এর বৌ Finn-কে একটি দোলনায় শুইয়ে দিয়ে তাকে Finn-এর শিশুপুত্র বলে পরিচয় দেয় । শিশুপুত্রের আকার যদি এতবড় হয় তাহলে তার বাবা আরও কতবড় হবে ভেবে ,ভয় পেয়ে Bennandonner স্কটল্যান্ডে পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার পথে Finn-এর তৈরি রাস্তাটিও ভাঙতে ভাঙতে যায় যাতে Finn তার পেছনে ধাওয়া করতে না পারে ।

আসল ঘটনা হল , পঞ্চাশ- ষাট মিলিয়ন বছর আগে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির উৎক্ষেপণে উদ্গত গলিত লাভা সমুদ্রের বুকে এই মালভূমির সৃষ্টি করেছিল । সেই মালভূমিতে সমুদ্র তীরে চল্লিশ হাজারের মতো বিভিন্ন আকৃতির ( চতুর্ভুজ, পঞ্চভুজ, ষড়ভুজ) স্তম্ভ দেখা দিয়েছে , যার সর্বোচ্চ উচ্চতা ৯২ ফুট, যদিও অনেকটাই সমুদ্রে নিমজ্জিত। পরবর্তীকালে সমতলের চাপে তার অনেকাংশে ভাঙনের ফলে বিস্কুটের আকারে সমুদ্রের ওপরে সেগুলি জেগে আছে ।
বুঝতেই পারছেন অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে এই বর্ণনা তুলে ধরা । যতটা দেরি হবে ভেবেছিলাম তার আগেই তপেনবাবুরা ফিরে এলেন, যতটা উৎসাহ নিয়ে গিয়েছিলেন ততটা যেন তৃপ্তির চিহ্ন চোখেমুখে ফুটে ওঠেনি এইভেবে কিছুটা সান্ত্বনা নিয়ে এবং ভেড়াদের সাক্ষাৎকারের বিবরণ চেপে গিয়ে, দুঃখী দুঃখী মুখ করে বসে রইলাম। এরপরের গন্তব্যস্থল Carrick-a-Rede , প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি নয়, মানুষের উদ্ভাবনী শক্তির যা এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

সে বিবরণ পরের পর্বে …. ।

91

Leave a Reply