Categories
GADGETগুরু

নজর কাড়া লুকস ও ফিচার নিয়ে হাজির আইফোন ১৩ ও অ্যাপেল ওয়াচ ৭! বিক্রি শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে!

ওয়েবডেস্কঃ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে লঞ্চ করা হলো iPhone 13 lineup এবং the Apple Watch Series 7। সেইসঙ্গে প্রকাশ্যে এলো iPads, Mac – এর নতুন মডেল। মঙ্গলবার অ্যাপল ” California Streaming” করে সামনে নিয়ে এলো এই গ্যাজেটগুলি।

যে মডেলগুলি এদিন লঞ্চ করলো সেগুলি-
১) iPhone 13 Pro, iPhone 13 Pro Max
২) iPhone 13 Mini, Phone 13 Mini
৩) Apple Watch Series 7
৪) iPad Mini এবং
৫) iPad 2021

Phone 13 Pro দাম শুরু হচ্ছে ১০৯৯ ডলার থেকে। বিক্রি শুরু হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। এদিন মোট ৪টি আইফোন লঞ্চ হল।

iPhone 13 এবং iPhone 13 mini লঞ্চ করা হয়েছে মোট তিনটি স্টোরেজ ভ্যারিয়্যান্ট সহযোগে। তাদের মধ্যে iPhone 13 ফোনটির 128GB স্টোরেজ মডেলের দাম 79,900 টাকা, 256GB স্টোরেজ মডেলের দাম 89,900 টাকা এবং 512GB স্টোরেজ মডেলের দাম ভারতে 99,900 টাকা। অন্য দিকে আবার iPhone 13 mini মডেলের 128GB, 256GB এবং 512GB স্টোরেজ মডেলের দাম যথাক্রমে 69,900 টাকা, 79,900 টাকা এবং 99,900 টাকা।

iPhone 13 Pro এবং iPhone 13 Pro Max এই দুটি ফোনেই সর্বাধিক 1TB পর্যন্ত স্টোরেজের অপশন উপলব্ধ। iPhone 13 Pro-এর 128GB স্টোরেজ মডেলের দাম 1,19,900 টাকা, 256GB মডেলের দাম 1,29,900 টাকা, 512GB মডেলের দাম 1,49,900 টাকা এবং 1TB স্টোরেজ স্পেসের দাম ভারতে 1,69,900 টাকা। অন্য দিকে এই একই স্টোরেজ স্পেসের প্রতিটি মডেলের iPhone 13 Pro Max-এর দাম যথাক্রমে 1,29,900 টাকা, 1,39,900 টাকা, 1,59,900 টাকা এবং 1,79,900 টাকা। এখনও পর্যন্ত এই আইফোনের ইতিহাসে এই আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্সের দামই সবথেকে বেশি।

প্রসেসর ও সফ্টওয়্যার – Apple-এর এই নতুন iPhone মডেলগুলিতে দেওয়া হয়েছে কোম্পানির নতুন A15 Bionic প্রসেসর, যাতে 6 core CPU, তার সঙ্গে দুটি হাই-পারফরম্যান্স এবং চারটি এফিশিয়েন্ট কোরস এবং একটি 16-কোর নিউরাল ইঞ্জিন থাকছে। এই সব মডেল পূর্ববর্তী প্রজন্মের থেকে অন্তত 50% উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম। এদের মধ্যে আবার iPhone 13 এবং iPhone 13 mini এই দুটি ফোনেই যে A15 Bionic চিপ দেওয়া হয়েছে, তাতে চার-কোর GPU থাকছে। অন্য দিকে আবার iPhone 13 Pro এবং iPhone 13 Pro Max-এ থাকছে পাঁচ-কোরের ইন্টিগ্রেটেড GPU।

RAM ও ব্যাটারি – যদিও, এই নতুন চারটি আইফোন মডেলে কত RAM দেওয়া হয়েছে এবং কতটা শক্তিশালী ব্যাটারিই বা থাকছে, সে বিষয়ে Apple-এর পক্ষ থেকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। তবে, Apple-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিরিজের পূর্ববর্তী মডেল অর্থাৎ iPhone 12 সিরিজের থেকে iPhone 13 mini এবং iPhone 13 Pro এই দুটি ফোনই 1.5 ঘণ্টা অধিক ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। অন্য দিকে আবার iPhone 13 এবং iPhone 13 Pro Max ফোন দুটিতে আগের থেকে আরও 2.5 ঘণ্টা অধিক ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যাবে।

ডিসপ্লে – আইফোন ১২-র থেকে এই নতুন আইফোন ১৩ সিরিজের প্রতিটি মডেলেরই স্ক্রিন সাইড প্রায় এক। তবে, iPhone 13 সিরিজে এমনই নচ দেওয়া হয়েছে, যা অন্তত আগের প্রজন্মের থেকে 20 শতাংশ সংকীর্ণ। iPhone 13, iPhone 13 mini, iPhone 13 Pro এবং iPhone 13 Pro Max প্রতিটি মডেলেই রয়েছে পরিণত ব্রাইটনেস। প্রো মডেল দুটিতে রয়েছে Apple-এর ProMotion ফিচার, যা 120Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। পাশাপাশিই, এই প্রো মডেলগুলি 10Hz থেকে 120Hz পর্যন্ত ডায়নামিকালি নিজেদের রিফ্রেশ রেট অ্যাডজাস্ট করতে পারে। তবে, তা নির্ভর করছে ইউজারেরা ইনপুটের উপরে যেমন, অতিরিক্ত রেসপন্স এবং পাওয়ার-এফিশিয়েন্ট সিস্টেমের জন্য সোয়াইপ স্পিড। iPhone 13 এবং iPhone 13 Pro মডেলে দিনের বেলা 800nits এবং 1000nits ব্রাইটেনস পাওয়া যাবে। এছাড়াও, প্রতিটি মডেলই 1200nits HDR ব্রাইটনেস সাপোর্ট করবে। শুধু তাই নয়। Dolby Vision, HDR10, এবং HLG-ও সাপোর্ট করবে।

ডিজাইন ও কালার – iPhone 13 এবং iPhone 13 mini-তে আগের প্রজন্মের মতো একই ফ্ল্যাট-এজ অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম রয়েছে। সেই সঙ্গেই আবার সামনে সিরামিক শিল্ড উপাদান থাকছে এবং ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্সের জন্য থাকছে IP68 রেটিং। আইফোন ১৩ এবং আইফোন ১৩ মিনি এই দুই ফোনের মোট পাঁচটি কালার ভ্যারিয়্যান্ট রয়েছে। সেগুলি হল – গোলাপি, নীল, মিডনাইট, স্টারলাইট এবং (প্রডাক্ট) লাল। প্লাস্টিকের জলের বোতল রিসাইকল করে এই প্রতিটি ফোন ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যাপল আইফোন ১৩ প্রো মডেলে সার্জিক্যাল গ্রেড স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহৃত হয়েছে। এটি আসলে একটি কাস্টম ফিনিশ যা ঘর্ষণ এবং ক্ষয় প্রতিরোধী। এই প্রো মডেল দুটির নতুন চারটি কালার অপশন থাকছে – গ্রাফাইট, গোল্ড, সিলভার এবং সিয়েরা ব্লু। এছাড়াও, এতে ন্যানোমিটার-স্কেল সিরামিকের একাধিক স্তর ব্যবহার করা হয়েছে এবং আরও পরিণত গ্রিপের জন্য ম্যাট টেক্সচার্ড রিয়ার দেওয়া হয়েছে।

ক্যামেরা – iPhone 13 এবং iPhone 13 mini এই দুই ফোনে একটি নতুন ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা থাকছে, যা যে কোনও ছবিকে 47 শতাংশ অতিরিক্ত আলো, কম নয়েজ় এবং উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। রয়েছে 1.7um সেন্সর পিক্সেলস, একটি f/1.6 অ্যাপার্চার এবং সেই সঙ্গেই প্লাস সেন্সর-শিফট অপ্টিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন, যা এর আগে iPhone 12 Pro Max ফোনেও দেওয়া হয়েছিল। এই দুই ফোনের নাইট মোড অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং তীক্ষ্ন শটসও ক্যাপচার করতে পারে। একটি 12MP আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরাও দেওয়া হয়েছে, যার অ্যাপার্চার f/2.4। নতুন এই সিনেম্যাটিক ভিডিয়ো মোড র‌্যাক ফোকাস সাপোর্ট করে, যার সাহায্যে ক্যামেরা মুভ করার সময়ও খুব সহজেই সাবজেক্টে ফোকাস শিফট করা যায়। রিয়্যাল টাইম বেসিসেই একটি সাবজেক্ট থেকে আর একটি সাবজেক্টে স্থানান্তর করার সময়েই এই ট্রান্জিশন সম্পন্ন হয়।

iPhone 13 Pro এবং iPhone 13 Pro Max এই দুটি ফোনে রয়েছে নতুন 77mm টেলিফোটো ক্যামেরা, যা 3X অপ্টিক্যাল জুম সাপোর্ট করবে। এছাড়াও, থাকছে একটি আলট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সর, যা ম্যাক্রো শটস তুলতে সাহায্য করবে এবং একটি প্রাইমারি ওয়াইড ক্যামেরা, যার অ্যাপার্চার f/1.5 এবং একটি 1.9um সেন্সর পিক্সেলস রয়েছে সেই ক্যামেরায়। এই ক্যামেরা সেটআপ আরও আলো, কম নয়েজ়, দ্রুতগামী শাটার এবং দীর্ঘ ব্র্যাকেটস দিতে পারবে, যদি ট্রাইপড ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশিই আবার কম্পিউটেশনাল ফোটোগ্রাফির কারণে এই প্রতিটি ক্যামেরাই আবার নাইট মোড সাপোর্ট করবে। iPhone 13 Series-এর প্রতিটি মডেলই 5G সাপোর্টেড।

34

Leave a Reply