Categories
কুলিক রোববার

নর্দান আয়ারল্যান্ড : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সুন্দর-বৈচিত্রময় দ্বীপভূমি 

উৎপল ঝা

পর্ব ১

অবশেষে নর্দান আয়ারল্যান্ড  

স্টেনা লাইনসের জাহাজে প্রায় সোয়ো দুঘন্টা  ভেসে অবশেষে দেখা মিলল নর্দান আয়ারল্যান্ডের তটরেখার।  এই  সময়টুকু আমরা লাউঞ্জের জানলার ধার ঘেঁষে বসে অকূল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থেকেছি । সমুদ্র তার অসীম বিস্তার নিয়ে আবিষ্ট করে ফেলে ঠিকই কিন্তু মাঝ- সমুদ্রের নিস্তরঙ্গ রূপ কিছুক্ষণ পরেই কেমন একঘেঁয়েমিতে পৌঁছয় ।

আগে যখন  মাসের পর মাস সমুদ্রযাত্রা ছাড়া কোন গত্যন্তর ছিল না তখন সমুদ্রযাত্রা   কতটা অসহনীয় ছিল তার খানিকটা আন্দাজ পাওয়া গেল । আমরা অবশ্য খানিকক্ষণ পরেই জানালা ছেড়ে উঠে পড়লাম , ঘুরে ঘুরে জাহাজের মধ্যেই বিভিন্ন শপিংস্টোর  চাক্ষুষ করলাম ,কারণ  প্রতিটি জিনিসই তাঁর পাউন্ড-মহিমা নিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে ,  দূর থেকে তাদের সমুচিত নমস্কার করাই ভাল ! 

প্রহরী গাংচিল

তারপর অবশ্য খোলা ডেক, ডেক থেকে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ডেকের ছাদে এবং সেখানে জাহাজের দুলুনি,  হাওয়ার বেগ  সামলে  নিজেদের ছবি তোলা হল । এরপর এক একজনের ব্যাগ থেকে বের হতে থাকল নানারকম দিশি-মুখোরোচক , সেসবেরও   সদ্ব্যবহার হল । কারণ , জাহাজের রেস্টুরেন্টের  খাদ্যদ্রবের ধারে কাছে ঘেঁষবার সাহস নেই, প্রয়োজনও নেই আমাদের।  দ্বিতীয়ত,  যে সাহেবরা  প্লেটে করে খাওয়ার পরিবেশন করছে , তাদের অনায়াসে বড় বড় কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় ,  তাদের কী করে শুধুই কফির অর্ডার দেওয়া যায়   ! আমরা , ফ্লাস্কে বয়ে আনা চা দিয়েই কফির  তৃষ্ণা মেটালাম। 

পোরট্রাশ – সমুদ্রতীরে অশেষ বাবুর সাথে

যাইহোক,  জাহাজ Portrush  বন্দরে ভিড়লে আমরা ধীরেসুস্থে নিজেদের গাড়িতে  সওয়ার হলাম   এবং অল্পক্ষণেই পৌঁছে গেলাম Portrush Hostel-এ । এখানেও দেখি মূল দরজা এবং আমাদের একটি বড় ডর্মিটরির দরজার ভিন্ন ভিন্ন কোড ব্যবহার করে ভেতরে ঢুকতে  হবে । আপনাদের সেটা ফাঁস করে দিই ,আপনারা কখনও সেখানে গেলে  গুপ্তবিদ্যা প্রয়োগ করতে পারেন !  কোডগুলি হল যথাক্রমে 1397# এবং C1234X .ঠিক আছে ? 

সামনে সবুজ তার ওপারেই অকূল সমুদ্র

 জিনিসপত্র রেখে  বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ,আমি , অশেষবাবু এবং তপেনবাবু ছুটলাম  কাছের সমুদ্র তীরের দিকে । নর্দান আয়ারল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম সীমায় ছোট্ট এক সমুদ্রবন্দর Portrush এক জনপ্রিয় পর্যটনস্হল । কিন্তু বৃষ্টির জন্যই হোক বা যে কারণেই হোক পুরো সমুদ্র তীর এখন ফাঁকা এবং পুরোপুরি  আমাদের দখলে । ছোট ছোট ঢেউ এসে ভেঙে পড়ছে এবরো-খেবড়ো পাড়ে । জলের রং ততটা নীলাভ নয় । সামনের চত্বর খুব   সুন্দর ভাবে সাজানো । সেই চত্বরে বৃষ্টির মধ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু গাঙচিল । একা একা ভিজছে পর্যটকদের জন্য বানানো সুন্দর রঙিন বেঞ্চ ! 

বাকি কথা না হয় পরে হবে, আজ এই পর্যন্তই ….

35

Leave a Reply