Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : কবিতা : এবং আমি

শঙ্করকুমার রায়

আমি আলো, আমি অন্ধকার।
কিভাবে এক হৃদয়ে দু’ দু’টো দুনিয়ার দুরন্ত রঙ…
রঙের খেলায় মেতে উঠেছে সখের সভ্যতা,

আমাকে নিয়ে আলোড়িত আকাশ বাতাস,
আমার সাহচর্যে সাহসিক সৎ নিষ্ঠাবান দলেরা
আজ ভিড় জমিয়েছে আমারই দুয়ারে,
তারপরও সরে যাই অনন্ত অন্ধকারে…..

তিল তিল করে গড়ে উঠা
এতবড় সভ্যতার
আমি অনিবার্য ইমারত!
এত মহার্ঘ হয়েও
বার বার হারছি সেই কবে থেকে….

সবার ভিড়ে আছো ঠাঁই আজও তুমি।

তবুও হারাচ্ছি দুরন্ত প্রহর।
তোমারই গহ্বর থেকে সবকিছু..,

যে হাতে তোমাকে শ্রদ্ধা করি,
সেই হাতে খাদ্য তুলি রোজ মুখে।
প্রাত:ক্রিয়া সম্পন্ন করি অবাধে,
প্রকৃতির নিয়ম শৃঙ্খলায় বন্দি নই শুধু আমি একা…
অথচ হতবাক
আমার সেই হাত স্পর্শ পায় দূষিত জলে,
বয়ে বেড়াই অবিরত অনাচারের আচার।
কেমন করে সম্ভব আমার হাতে
কলঙ্কিত করতল !
প্রিয় সন্তানের মাথায় হাত ছুঁয়ে
আশির্বাদ প্রার্থনা করি অনর্গল।
সেই হাতে ভবিষ্যত অন্ধকারের পথ প্রশস্ত করি নীরবে।
এটাও সম্ভব করেছ তুমি…..

সখের সংসার সাজাতে
অনায়াসে প্রলোভনের ফাঁক ফোঁকড়ের জলে
নিশ্চিন্তে যাই ভেসে….
সেখানে যেখানে যা আছে
কেড়ে কুড়িয়ে পাহাড় গড়ি
নিজের নিরালা নীড়ে,
সম্ভবনার বীজ দিয়েছ ছিঁটিয়ে তুমি …

যে হাতের আদরে আলোভরা নবজাতক জেগে উঠে একদিন
দুনিয়ার রুপ রস গন্ধে মেতে উঠে
সেই হাতে উদযাপন করি আঁধার জাগিয়ে তোলা বিজ্ঞানের জীবনকে ;
হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত স্বরে
সবাইকে এক উঠোনে বসিয়ে
কি মন্ত্র দিচ্ছ তুলে তুমি?
আর তাই তো
নিরাপদে ‘লাইক’ করছি যাকে
আবার তাকে
দিচ্ছি না ঢুকতে
ব্যক্তিগত বাগানে।
নিঃশব্দে আর সশব্দে
যাচ্ছি ভেসে…
বিপরীত তরীতে।
ছল চাতুরির
জোরালো জোয়ারে
এপাড় থেকে মুহূর্তে দিচ্ছি পাড়ি ওপাড়ে,
তুমি পারছ কই আমায় ধরতে
সাহস থাকলে ভাঙ,
ভাঙ মনের উথাল পাথাল দরজা জানলা
হা করে খোলা আজ
সব কিছু।

তবুও তোমার মুখোমুখি

দাঁড়িয়ে আমি।

67

Leave a Reply