Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : কবিতা : পশ্চিমবঙ্গ ২০২১

উত্তম দত্ত

মানুষ আত্মহত্যা করলে আমাদের ভাঙা ঘরে জ্যোৎস্না এসে পড়ে।

আমাদের উনুনে ভাত চড়ে।

প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যুকে মনে হয় : পিরামিডের কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণমুদ্রা।

ময়নাতদন্তের আগে ও পরে

ডেডবডির গলা কিংবা পেট চিরে সেলাই করে দিলে নগদ ৬৮ টাকা।

আর মাটি খুঁড়ে বেওয়ারিশ লাশ পুঁতে দিলে তিন টাকা বেশি। 

এই ৭১ টাকার লোভে তৃষ্ণার্ত শেয়ালের মতো জিভ বের করে সারারাত বসে থাকি 

মর্গের চৌকাঠে। 

আয় লাশ আয় লাশ : ভাত খাব।

আয় লাশ আয় লাশ : বুড়ো বাবার জন্য ওষুধ কিনতে যাব।

আয় লাশ আয় লাশ : অন্ধ মাকে নিয়ে চশমা বানাতে যাব।

আয় লাশ আয় লাশ : পুরোনো বান্ধবীর বাড়ির সামনে রেশন-দোকানে 

থলে হাতে লাইনে দাঁড়াব।

আমি হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়  

এম এ এম ফিল

মফসসল-মর্গের অস্থায়ী ডোম।

মড়কের বাতাসে আমার টিউশন বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন

শিক্ষক-তালিকায় নাম ওঠে

তারপর জনান্তিকে নাম মুছে যায়… 

ফুটপাতে তেলেভাজার দোকান দিয়েছিলাম কিছুদিন, পুলিশ তুলে দিয়েছে।

চরাচরে আর কোনও আলো নেই

শুধু মর্গে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন।

সফল বন্ধুরা কেউ পাশে নেই আর

প্রিয় মেয়েটিও চলে গেছে দূরে

পাছে কেউ তাকে ডোমের প্রেমিকা বলে ডাকে।

খালি হাতে বাড়ি ফিরলে ময়লা বিছানা থেকে ক্লান্ত বাতাসের মতো বাবার কণ্ঠস্বর ভেসে আসে : ‘খোকা, আজ লাশ ঢোকে নাই ঘরে?’

বাবা আসলে দেখতে পাননি

সাতাশ বছরের একটা মৃতদেহ

এইমাত্র তাঁর ঘরে এসে ঢুকল।

কাগজে দেখেছে সে : বড় শহরের লাশ কাটা ঘরে ডোম চাই। স্থায়ী চাকরি। বেতন পনেরো হাজার। গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার বলছিলেন : সেখানেও নাকি ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে দরখাস্ত পাঠিয়েছে কয়েক হাজার মৃতদেহ।

আমার চাকরিটা হবে তো স্যার?

37

Leave a Reply