Categories
কুলিক রোববার প্রথম পাতা

কুলিক রোববার: কবিতা : নীরার মত

বিপুল দাস

তুমি কি নীরা ?

তুমি যা ভালবাসো, তাই নীরা হয়ে ওঠে।

কেটি’র পিন্টু ? চাঁইবাসার সেই সাঁওতাল মেয়েটি ?

লক্ষকোটি নীরাবিন্দু দিয়ে প্রেমিকের নীরাসমগ্র তৈরি হয়। কোনও পাবলিশারের বাপের সাধ্যি নেই বইমেলায় উদ্বোধন করে।

বাতাস ? সোডা ? আমার পুকুরের মাছ ?

এখন আর স্পেসিফিক কিছু নেই। কোনও কথা নয়। মাটি, জল, আগুন, আকাশ, বাতাসে চিরকাল এক রকম নীরা লুকিয়ে থাকে। স্বর্ণময়। তাকে ছুঁয়ে দিলে গলে যায় কনকবিভা। কবি, চন্দনের বনে যাবে না ?

না। এখানে এত অন্ধকার কেন ?

কেন যাবে না ? একদিন ডাক শুনে যেতে চেয়েছিলে। মিথ্যে লিখেছিলে তবে ?

যদি সত্যি দেখা হয়ে যায় … ভয় করে। তুমি কে ?

আমি তোমার বাকি অর্ধেক জীবন। আমারও নীরা আছে। স্তননিতম্বজঙ্ঘায়, রক্তমাংসে …

চুপ করো মূর্খ, কবির কখনও বাকি অর্ধেক জীবন হয় না।

আমি আস্তিক। আমার স্বর্গ আছে, পরকাল আছে, উর্বশী রম্ভা মেনকা ঘৃতাচী মিশ্রকেশী, বেস্ট হুইস্কি … এসো, আমরা জীবন পাল্টাপাল্টি করি।

এত অন্ধকার কেন ?

ভালো করে চেয়ে দ্যাখো

তখন সেই অন্ধকার ভয়ংকর নাস্তির মত সর্বব্যাপী হয়। প্রথম আলোসহ সমস্ত প্রকার আলো চুষিয়া খায় কৃষ্ণগহ্বর। ভাটফুলের গন্ধমাখা যোনির পাশ দিয়া উড়িয়া যাইল কাতর হাওয়া। ইহা কেয়ামত হইতে পারে। চরাচরে গজব গজব রব উঠিল।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে কবি হাসছেন। প্রেমিক ও সন্তের মত। মনে মনে হয়তো বলছিলেন – মেরা পাস নীরা হ্যায়। কিন্তু সেখানে অন্ধকারহেতু কোনও ক্যামেরা ছিল না।

36

Leave a Reply