Categories
জেলা

অভিশপ্ত নীল চাষের ঐতিহাসিক সাক্ষী বহনকারী করণদিঘির নীলকুঠি

ওয়েবডেস্কঃ ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে কাঁচামালের আমদানির প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় নীলের। না, এই নীল আমাদের কাছে প্রিয় নয়। আমাদের কাছে নীলরঙ আজও অভিশপ্ত ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে। আমরা জানি, ইংরেজ নীলকর সাহেবরা কৃষকদের জোর করে নীল চাষ করাতো আর চাষীদের কাছে তা জলের দরে কিনে নিতো।

কৃষকদের বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকতো নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং লাঞ্ছনা। তাই স্লোগান উঠেছিল- জমির শত্রু নীল। বিদ্রোহীরা রব তুলেছিলেন জান দেব তবু জমিতে নীল বুনবো না। বিদ্রোহী কৃষকদের জোর করে নীলকুঠিতে নিয়ে গিয়ে লাঠিপেটা করা হতো। মহিলারাও নীলকর সাহেবদের নানান অত্যাচার থেকে রেহাই পেত না। শতাব্দীপ্রাচীন এমনই এক রোমহর্ষক ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি ব্লকের লাহুতারা ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অতি পরিচিত স্থান নীলকুঠি। এক সময় এই এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে নীল চাষ করা হতো। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম এর মাঝে ছিল নীলকর সাহেবদের নীলকুঠি। সেখানে আজও দেখা যায় ইংরেজ নীলকর সাহেবদের পাকা ইটের তৈরি ছয়টি কুঠীর অংশ।

যে উনুনে নীল সেদ্ধ করা হতো তা আজও বিদ্যমান। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকাটি হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে সংরক্ষিত করা হয়েছে। ২০২০-২১ সালে করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে সেখানে একটি বিনোদনমূলক পার্ক গড়ে তোলা হয়। এছাড়াও হয়েছে কল্যাণ মঞ্চ নামক একটি মুক্ত মঞ্চ। স্থানটিতে রক্ষনাবেক্ষনের অভাব থাকলেও বর্তমানে করনদিঘির নীলকুঠি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

118

Leave a Reply