Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি ২০

সাধন দাস

মাগুরমাছের কাবাব

সিঁড়ির মাঝপথে ম্যানেজারবাবু পাথর। আর নামার ক্ষমতা নেই। পিছনে অফিস খোলা। হাতে চাবি। হ্যাণ্ডওভারের লোক নেই। মাটিতে ভাই, শোকার্ত মুখ। বাবা মারা গেছেন। ম্যানেজারবাবু বড়োছেলে, যেতেই হবে। অশ্রু গড়িয়ে চলেছে। পায়ের আঙুলে ভাই পাতাল খুঁড়ছে।

যাওয়ার সময় ফুরিয়ে গেলে, ম্যানেজারবাবু যেতে পারলেন। আমাকে বলে গেলেন, বৌদির ডেথ-ফোবিয়া আছে। যাবে না। রূপম (ছেলে) রইলো। সাধন, আমার ফ্লাটেই থেকো।

বাড়ি স্তব্ধ। রূপম টেবিলল্যাম্পের আলোয় ছবি আঁকছে।    

বৌদি জিজ্ঞেস করলেন- শোকের বাড়িতে মাগুরমাছই ম্যাচ করে কী বলিস, রূপম? 

রূপম ক্লাশ ওয়ান। চুপ। ঘরের কোণ থেকে উত্তর দিলাম- হ্যাঁ বৌদি, করে। শোক মানেই অসুস্থতা। 

টানা বারান্দায় অস্থির বৌদি, হাতে বেলা দের রান্নার বই। – পুচকিরমা, মাছটার গলা অর্ধেক কেটে নাড়িভুড়ি বের করো। আচ্ছা করে নুন, লঙ্কা মাখাও। তিন টুকরো করো। গরম জলে চাপাও। টগবগ করে ফুটুক।… সরো, এবার আমি দেখছি।… সাধনবাবু, জানেন? মিঃ ব্যানার্জি আমার রান্না লাইক করে না। আপনাকে মাগুরমাছের কাবাব খাওয়াবো। 

মিনমিন করে বললাম- নিশ্চয়ই।

রূপম কঁকিয়ে উঠলো– নাআ।  

ভয় পেয়েছে। পিঠে হাত রাখলাম। – কী হলো? 

রূপম চুপ। – কী এঁকেছো রূপম? মাগুরমাছ?  

ছলছল চোখ – না। দাদাই। মরে গেছে। 

তেল, মশলা, লংকা ভাজা পোড়ার গন্ধ,শব্দ। হাঁচছি, কাশছি। বিষম খাচ্ছি। রূপমের চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে।  

– দাদাই মরে তারাদের দেশে চলে গেছে। ওখানে রকেটে চেপে যেতে হয়, না কাকু?   

রূপম কাঁদতে কাঁদতে খেতে বসলো।  

আধ পোড়া মাগুর কয়লার টুকরো, তিতো। উৎকট ঝালে বুক পর্যন্ত জ্বলে যাচ্ছে। দুজনেই নিঃশব্দে গিলছি। বিটকেল স্বাদ। নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম। 

রূপম গলা ছেড়ে কেঁদে উঠলো- সাধন কাকু জানো, দাদাই, জ্বলে পুড়ে মরেছে। 

আমি বললাম- বৌদি, খুব সুন্দর হয়েছে। 

25

Leave a Reply