Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি: ১৯

সাধন দাস

আলিবক্স মণ্ডলের প্রেম 

দোতলায় ওঠার মুখে শ্বেতপাথরে খোদায় করা “ আলিবক্স মণ্ডল এ এস এফ”  (এ্যাপিয়ার্ড ইন স্কুল ফাইনাল)

একতলায় মেসবাড়ি। সামনে সবুজগালিচা মাঠ। ঝাঁকালো সজনেগাছে জড়ানো ঝাড় মাকালের নিচে ঝাঁক চেয়ার ছড়ানো। আলিবক্সের জগৎ। আঁধার নামলে আমরা সেই জগতে ঢুকি। আলিদার ডান-বাঁ দু’হাতই ‘স্পোক্সম্যান ব্যুরো’ ল্যাংড়া। সুখ দুঃখের কথা শোনায়, শোনে। আসর জমে ওঠে। 

হরিপাড়া আলো করে সবে রমনীআকার ধরছিলেন, আধবয়সী আলিদার দেরি সহ্য হয়নি। ক্লাস সেভেনের পথে হাইজ্যাক করেছিলেন দ্বিতীয় বৌদিকে। ছড়িয়েছিলো প্রেমিক-নাইট আলিদার নাম। 

নামী হওয়ার সাধ আলিদার জীবনভর। দ্বিতীয় ধাপে পাটের গোডাউন তুলে দিয়ে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইণ্ডিয়া, হেডঅফিস কোলকাতা-র হরিহরপাড়াশাখা, বসালেন একতলায়। হরিপাড়াকে করে তুললেন গ্রেটার ক্যালকাটা। 

দিল্লি গিয়েছিলেন। ফিরে নতুন বৌদিকে শোনালেন, পার্টি অফিসের দারোয়ান জিজ্ঞাসা করলে বুক ফুলিয়ে সটান জবাব দিয়েছেন- অ্যা’এ্যাম ইয়ালিবক্স মণ্ডল, ফ্রম খ্যালখাটা! 

ব্যাঙ্কে এক নম্বর এ্যাকাউন্ট তাঁর। এ্যাকাউন্ট খুলতে সব মামুকেই তাঁর সই নিতে হচ্ছে। সাঁ সাঁ করে নাম ছড়াচ্ছে। হরিপাড়ার উন্নতি হচ্ছে বাঁই বাঁই। রীতিমত সমাজসেবা। মাকালতলায় হাঁটুতে লুঙি তুলে আধ ঘন্টা পাবলিক মিট করেন, এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। নির্দল।  

মাকালতলা থেকে পোস্টার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড; আজ মালোপাড়া তো কাল হরিপাড়া, পরশু চোঁয়া। দিকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ছে, আলিবক্স মণ্ডল জিন্দাবাদ। পোস্টারে শেয়ালমুখো ছবি, আলকাতরায় বুড়োভামের নাম, কেটলি কেটলি চা, নতুনবৌদি জ্বলে যাচ্ছে। স্পোক্সম্যানের পাই টু পাই প্রি ইলেকশন ক্যালকুলেশন রেকর্ডভোটে জিতে যাচ্ছেন আলিদা। হৈ হৈ। মুড়ি, আলুর চপ। হাততালি। 

ফ্যামিলিতে মোট পাঁচটা ভোট। রেজাল্ট বেরুলে দেখা গেলো আলিদা সাকুল্যে পেয়েছেন চার। তা হোক, নাম, ছবি তো ছয়লাপ হয়েছে!   

কিন্তু ভোট দেয়নি, একজন! কে!! মনের দুঃখে ঠিক করলেন, এবার হজেই যাবেন। মক্কায় বলে আসবেন- অ্যা’এ্যাম আলিবক্স মণ্ডল ফ্রম ইণ্ডিয়া। 

62

Leave a Reply