Categories
করোনা

তৃতীয় ওয়েভ আসার আগেই অনিশ্চিত অন্তত ১লাখ শিশুর জীবন :-

দেশজুড়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কার মেঘ। একাধিক বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে এখনই রাজ্য সরকারগুলোকে সতর্ক ও তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনা তৃতীয় ওয়েভে মূলত টিকা পরিষেবার বাইরে থাকা ১৮ অনুর্দ্ধদেরই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সব মহল। কিন্তু করোনার বিগত দুটি ওয়েভেও কি শিশুরা সংক্রমিত হননি? সরাসরি করোনা সংক্রমনের হার হয়ত খুবই কম। কিন্তু মহামারী প্রথম থেকেই শিশুদের ওপর পরোক্ষে হলেও প্রভাব ফেলেছে! আর সে তথ্যই উঠে এল ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস (NCPCR) এর এক রিপোর্টে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে একটি হলফনামায় তাঁরা জানিয়েছেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত কোভিড মহামারীর কারণে এক লক্ষেরও বেশি শিশু হয় অনাথ হয়েছে কিংবা পিতা-মাতার একজনকে হারিয়েছে। তাছাড়া মহামারীর সময় একটা বড় সংখ্যায় শিশুরা পরিত্যক্তও হয়েছে।

দেশের শিশু অধিকার সংস্থাটি আরও একটি হলফনামায় শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে যাওয়া কিংবা বাবা-মার কোনও একজনকে হারনো শিশুদের যত্ন এবং সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি স্বতপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল৷ দেশের রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বাল স্বরাজ পোর্টালে আপলোড করা তথ্য অনুসারে,২৩ অগাস্ট পর্যন্ত মোট ১,০১,০৩২ জন শিশুর দেখভাল এবং সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুসারে ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ২ অগাস্টের মধ্যে এই শিশুরা বাবা-মায়ের একজন অথবা উভয়কে হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া হলফনামায় NCPCR-এর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে মোট ১,০১,০৩২ শিশুর মধ্যে ৫২,৫৩২ জন ছেলে, ৪৮,৪৯৫ জন মেয়ে এবং পাঁচজন তৃতীয় লিঙ্গের। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুসারে ৮,১৬১ জন শিশু অনাথ হয়েছে, ৯২৪৭৫ জন তাদের পিতামাতার একজনকে হারিয়েছে। ৩৯৬ জন পরিত্যক্ত হয়েছে। NCPCR এর রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে এই শিশুদের ১০,৯৮০ শিশুর বয়স ০-৩ বছর। ১৬,১৮২ জন শিশুর বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এছাড়াও দিল্লিতে মোট ৫,৩৯১ টি শিশু রয়েছে যাদের ৫,১০১ জন পিতামাতার একজনকে হারিয়েছে, ২৭৫ জন অনাথ হয়েছে এবং ১৫ জন পরিত্যক্ত। মহারাষ্ট্রে, মোট ১৫৪০১ জন শিশু করোনা মহামারীর শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ১৪৯২৫ জন বাবা-মায়ের একজনকে হারিয়েছে, ৪৭০জন অনাথ এবং ছয়জন পরিত্যক্ত হয়েছে। শিশু অধিকার সংস্থাটির পক্ষ থেকেই এই তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও এর এজলাসে মামলাটি নিয়ে শুনানি চলে। এখন এই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের সরকার কি সিদ্ধান্ত নেন,তার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

33

Leave a Reply