Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার: স্মৃতি-১৮

সাধন দাস

দয়া বনাম সহযোগিতা

বোকাপাঁঠা তাহজুল আসলে কসাই। হাতে একগাছা দড়ি। বলির পাঁঠার মতো ঘাড় এগিয়ে, সকাল বিকেল হত্যে দেয় উঠোনে। ক্ষীণ রোদ্দুরে দড়ির ছায়া পড়ে না। পড়ে তাহজুলের, দড়ি মার্কা ছায়া- লম্বা হয়ে ছুঁয়ে ফেলে বিক্রির খাসিটাকে কিংবা উল্টোটা। টাকা নেই। বেচা-কেনা হবে। উঠোন দোতলায় কাকুতি-হুমকি ওঠা-নামা করে। নমাজ পড়ার মতো তাহজুল নতজানু হয়। দড়ির দুই প্রান্তে দুটো ছাগল জবাইয়ের জন্যে আকুল। তাহজুল বেচে দাম চুকিয়ে দেবে সেই কড়ারে নরমে-গরমে দরাদরি চলে।
মালকিন-ভাবি বাকিতে দেবে সেই দয়াতে তাহজুল চড়া দামে রাজি। কিন্তু হিসেব জানে না। ব্যবসায় লোকসান করে মরে। এই দোষে ভাবিজান দিচ্ছে না। একটা খাসির জন্যে আসা যাওয়ার পথ তৈরি হয়ে গেছে তাহজুলের পায়ে।

একতলায় আমাদের মেস। তাহজুলের তৈরি পথেই আসা যাওয়া করি। দেখি, ক্লাসসিক্স বৌদিও, ক’অক্ষর গো-মাংস তাহজুলকে পাঁঠাই মনে করে। চটকদার ভাবির টক-ঝাল আড়ালে যতো গরিব-রোগাই হোক, যে টুকু দেখতাম, তাহজুলকে অনুগত-ভক্তই মনে হতো। আমাদের অন্তরে ক্ষোভ এবং সহযোগিতার মনোভাব গজিয়ে উঠলো। দয়া বনাম সহযোগিতা নেমে পড়লো লড়াইয়ে।

সপ্তাহে একদিন হাট। পুঁটি, ল্যাটা, পোনা ছাড়া হরিপাড়ায় মাছ জোটে না। ভাবি-বৌদিদের টক-ঝাল দয়ায় কসাই তাহজুলের (কাটা খাসির) মাংস হাটে বিক্রি হয় কালেভদ্রে। মাটনের নোলা শক্তিশালী। অফিসে মিটিং বসলো। তাহজুলকে ডাকা হলো। খাসি কেনার লোন দেওয়া হবে। ম্যানেজারবাবু, ফিল্ড অফিসার, ইউবিআই ফ্যামিলির মেস, বিডিও অফিসের মেস, সপ্তাহে মাংস কিনবে। দাম জমা পড়বে লোন এ্যাকাউন্টে। লোন শোধ হবে। জবরদস্তির ভয়ে হাত পা জড়িয়ে তাহজুল কেঁদে উঠলো- বাবু, মা নকখিরাই দয়া করে। ‘সযোহগিতা’র দরকার নেই। মা নক্ষিদের যদি পছন্দ না করেন, আজিজুলকে লোন দেন। আমার বড়োভাই। ছাগল কেনাবেচার দালালি করে। হিসেব জানে, চালাক চতুর। আমি ওর কাছে কিনবো।

65

Leave a Reply