Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি ১৭

সাধন দাস

সুড়সুড়ি

রাঁধুনিদি ছুটি নিয়েছে। এক বুনোমাগিকে লাগিয়ে গেছে। কানাইদা কড়া মেস-ম্যানেজার! গুড়ে বালি সেঁধুবার জো নেই। মাগি কিনা ঠ্যাং ছড়িয়ে ভাতে জ্বাল দিচ্ছে আর ফুক ফুকিয়ে বিড়ি টানছে! উনুন ভেঙে চ্যালাকাঠ নিয়ে তাড়া! বিড়ি মুখে রাঁধুনি প্রাণভয়ে ছুটছে। পিছনে ঘাড় কাত করে খোঁড়া কানাইদা, । 

দু’দিন ম্যানেজারের হাত পুড়লো। তিনদিনের দিন পুনর্মুষিক ভব, সেই মাগি। তবে রান্নাঘরে ঢোকার আগে বিড়ি বাইরে। দু’হাত উঁচু করে বোগল, কোমর, আঁচলের গিঁট, ম্যানেজারের কড়া চেকিং। সুড়সুড়ি, টুসসুড়ি খিলখিল হাসি, মানামানি নেই। 

দিনদিন চেকিং কড়া হচ্ছে। খিলখিল হাসির শব্দে আমাদেরও ঘুম ভাঙছে। রাঁধুনি নির্বিশেষে যার আঙুলের ফাঁকে বিড়ির গন্ধ, ম্যানেজার স্যাংশনড, ল্যাট্রিনের কমন সাবানে হাত ধোও। 

সবার মুখে বিড়ির গন্ধ, হাঁ করলেই ভক করে নাকে লাগে! জরুরি মিটিং ডাকা হলো। নোংরামি চলবে না। “মাগি” “বুনো” অসভ্য ভাষা। টেম্পোরারি হলেও রাঁধুনিকে ‘দিদি’ ডাকতে হবে। সবাইকে রান্নাঘরে ঢোকার আগে দাঁত মাজতে হবে। ম্যানেজারের অনুরোধে, মুক্তোহাসি দাঁতের মাজন স্যাংশন হলো। সেজেগুজে দিদি রান্না করতে আসে, হাতে লাইফবয়ের গন্ধ, মুখে মুক্তোহাসি দাঁত, রাঁধুনিদির বয়স কমে যুবতী হয়ে গেছে। আজকাল আঁজলা ভরে শিউলি আনে। কড়া ম্যানেজারের ঘর সাজিয়ে দেয়। 

ম্যানেজারের তদারকিও বেড়েছে। ঘুম ভাঙছে আরো ভোরে। রাঁধুনি বিড়ি ফুঁকছে কিনা, হাত ধুচ্ছে কিনা, দাঁত মাজছে কিনা, চেকিংএর পর চেকিং। কাতুকুতু, হাসি আর শিউলির গন্ধে আমাদের ঘুমও সকাল সকাল ভাঙছে। 

হরিহরপাড়ায় সপ্তাহে একদিন হাট। গুছিয়ে বাজার না করলে হপ্তার ভোগান্তি। আজকাল বুনোদিদি ম্যানেজারের সঙ্গে হাটে যায়। পুরনো রাঁধুনিদি ফিরে এসেছে অনেকদিন। জানিই না। নালিশ করেছে, মেসপ্রেসিডেন্ট সুজয়দার কাছে। কানাইদার সঙ্গে বুনোমাগিকে নতুন শাড়ি পরে দেখা গিয়েছে হাটের পিছনে, বটতলায়। গায়ে গা ঠেকিয়ে এক ‘সিকারেট’ দু’জনে টানছিলো! 

38

Leave a Reply