Categories
Uncategorized

কোভিড কথা : রানা দেবদাশ

সেযাত্রা বেঁচে ফিরলাম

ছ’দিন পরে হাসপাতাল থেকে বেরোবার সময় নার্সকে বললাম ,এবার আমাকে একা ছেড়ে দিন, আমি পারবো। ভাড়া গাড়ির ড্রাইভার যদি আমাকে স্ট্রেচারে নামতে দেখে ভয় পায় এবং জেনে ফেলে যে আমি পজিটিভ। তাই । নাহলে তখনো শরীর খুব দুর্বল। ভালো করে হাঁটার ক্ষমতা নেই। ঘড়িতে রাত আটটা।সাতাশে জুলাই, ২০২০।

মুখে ডাবল লেয়ার মাস্ক ও হাতে স্যানিটাইজার। ডিসচার্জ সার্টিফিকেটসহ, অন্যান্য কাগজপত্র রমার(স্ত্রী) হাতে। আমার এই ছদিন হাসপাতলে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে একমাত্র সঙ্গী। বাড়িতে ছেলে জানতো। আর অরূপ। এই কটি মানুষ ছাড়া কেউ জানতে পারেনি যে আমি কোভিড আক্রান্ত। অনেক পরে জেনেছে। পাড়াতে কর্মস্থলে কেউ না। সবাই অনুমান করেছে, অকারণ ভীতি ছড়িয়েছে কেউ কেউ। ভুলভাল রটিয়ে মজা পেয়েছে কেউ। কিন্তু আমার কোভিড লড়াইয়ের সাথী মাত্র এই ক'জন । খোঁজ নিয়েছেন কেউ কেউ, কিন্তু পাশে থাকার উৎসাহ দেখাননি কেউ, আমরাও সচেতনভাবেই চাইনি। তখন যা পরিস্থিতি ছিল তাতে বাড়িতে ধোপা নাপিত বন্ধ হতো। অবশ্য নিজেদের থেকেই কাজের লোক ও অন্যান্যদের বাড়িতে আসতে বারণ করা হয়েছিল। বাড়ি ফিরে আমিও ঘরে একা ছিলাম আরো দশদিন। পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ থেকেছে ফোনেই। লকডাউন এর সময় রায়গঞ্জে আমি একা। ট্রেন বাস বন্ধ। বাড়ি থেকে বহুদিন দূরে। অফিসের চাপ কম। সকালে উঠে কুলিকের তীরে একটু হাঁটাহাটি, ঘরে ফিরে রান্না, অফিসে ঢু-মারা ,বিকেলে আবার একটু নদীর পাড়ে প্রকৃতি উপভোগ। সন্ধ্যা সাতটায় আবার ঘরে ফেরা। বেশ চলছিল, এই না চলা সময়। অধ্যাপক বন্ধু সুকুমার বাড়ই, জেলা রেজিস্ট্রার সুদর্শনবাবু, কবি ও শিল্পী অঞ্জনবাবু, কবি ও শিক্ষক যাদববাবু-- এই ছিলো চার পাঁচ জনের ক্লাব। কখনো সখনো সুদর্শন বাবুর ফ্ল্যাটে সাহিত্য আড্ডা। সঙ্গে খাওয়া দাওয়া। রাঁধুনী আমি ,যোগানে অধ্যাপক মশাই। জনতার সাথে যোগাযোগ নেই, ভীড়ে যাওয়া আসা নেই,সকলের থেকে দু গজ কেন পঞ্চাশ গজের দূরত্ব। আত্মীয়তা শুধুই প্রকৃতির সাথে। তবুও..... জুলাই এর দ্বিতীয় সপ্তাহ। দিনটা ছিলো রবিবার। আনলক এর বিভিন্ন পর্বে সবকিছু একটু একটু করে খুলছে। এক নৈশাহারের নিমন্ত্রণে আমরা জেলার দু-তিন জন আধিকারিক নিমন্ত্রিত। অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন)ও তার মধ্যে একজন। তখন আমাদের প্রবল প্রকৃতি প্রেম। নাগর নদীর কাছে এক বাড়িতে ওই নিমন্ত্রণের ডাককে উপেক্ষা করতে পারিনি। অধ্যাপক বাড়ুইকে নিয়ে সেই নিমন্ত্রণে যোগ দেওয়ার আগে ছুটে গেলাম নাগর নদীর সূর্যাস্তের ছবি তুলতে। বিহার সীমান্তের নদী,উত্তর দিনাজপুরের। শেষ বিকেলে তার অসাধারণ রূপ। অঞ্জনবাবুর সামান্য জ্বর। একটু খুক খুক করে কাশছিলেন। আগেরদিন বৃষ্টির জলে ভিজেছেন। আমার আবার মনটা একটু খারাপ ছিলো। গল্প অনেক হলো। কিন্তু খাওয়াটা জমলো না। আমার খেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না। অঞ্জনবাবুতো কিছুই খেলেন না প্রায়। অধ্যাপক মশাই ও তাই। পরদিন সামান্য জ্বর । মাত্র দুদিনের। তখন ডাক্তার বসছিল না। তাই প্যারাসিটামল খেয়েই জ্বরটা কমানো হচ্ছিল। একা থাকা। তারপর খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ। ইচ্ছেটাই নেই। তাই বারণ করা সত্ত্বেও স্ত্রী পুত্র কোনভাবে গাড়ির ব্যবস্থা করে দ্বিতীয়দিন রায়গঞ্জ চলে এলো। অফিসের বকেয়া ফাইলপত্র বাসায় আনিয়ে সই সবুদ করে, রায়গঞ্জ ছাড়লাম চতুর্থ দিন। সেদিন জ্বরটা একেবারেই নেই। ভাবলাম বাঁচলাম। হয়তো সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা। পথে অরূপ টেনে নিয়ে গেল কান্দিতে ওর থানায়। সপরিবারে ওখানে দুদিন। রাতের দিকে জ্বরটা থাকছে সামান্য আর সারাদিনই শুকনো কাশি। অরূপ এর ব্যবস্থাপনায় কান্দিতে স্থানীয় একজন ডাক্তারকে দেখানো হলো। তিনি টিপেটুপে বললেন সাধারণ জ্বর। অ্যান্টিবায়োটিক ও কাশির ওষুধ দিলেন। টেস্ট করানোর দরকার নেই। তখন সরকারি জায়গায় টেস্ট করাতে হলে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন জরুরি ছিল। ওই একটা বড় ভুল ছিলো। বাকিদের খবর নিতে অধ্যাপক বাড়ুইকে ফোন করলাম। বেশ কয়েকবার টানা বেজে গেল। ধরলেন না। এমন তো করেন না। এবার অঞ্জনবাবুকে। তিনি বললেন তার ফোনও নাকি ধরছেন না। তবে তিনি সুস্থ আছেন। ডাক্তার দেখিয়েছেন। পারলে পরেরদিন সুকুমার বাবুর বাড়ি যাবেন। দুদিন ওষুধ খেয়েও কাশিটা কমলো না, জ্বরটাও থাকছে। বাচ্চারা তো অনেকদিন পর একসাথে হয়ে খুব মজা করছে। সীমার নতুন শেখা রান্নাগুলো সকলে টেস্ট করছে, আমার কিন্তু কোনো খাবারই মুখে রোচেনা।

তবে সচেতন ভাবে দেখছি স্বাদ এবং গন্ধ কিন্তু রয়েছে।
তাহলে তো বেশি ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু শুয়ে থাকতেই বেশী ইচ্ছে করছে কেন? বাথরুমের শাওয়ার চালালে, কেন শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে! টয়লেট করতে গেলেও। হয়তো অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য এই দুর্বলতা। যাইহোক কলকাতা ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম।

বাড়িতে ফিরেও একই অবস্থা। শুলেই ঘুমিয়ে পড়ছি। খাওয়া-দাওয়াতে রুচি নেই। আর বাথরুমের নাম শুনলেই ভয় লাগছে। সে কেমন একটা অনুভুতি বলে বোঝানোর নয়। ছোটবেলা থেকে কোনদিন শ্বাসকষ্ট হয়নি। তাই সেটা শ্বাসকষ্ট কিনা জানিনা।
সকলের চাপাচাপি তে সিদ্ধান্ত হলো মঙ্গলবার মুকুন্দপুর আমরিতে টেস্ট করানো হবে। সেইমতো গাড়ি যোগাড় হল। কঠিন সময়। হাসপাতালের নাম শুনলে ড্রাইভাররাও যেতে চায়না।
যাই হোক।
আমরিতে স্যাম্পল দেওয়ার পর আর এন টেগর আউটডোরে একবার চেস্ট স্পেশালিস্ট কে কনসার্ট করে নেবো ঠিক করলাম। হাইপারটেনশনের রোগী। চেষ্টে কোন প্রবলেম আছে কিনা সেটা বুঝবার ইচ্ছা। এ ক’দিনে হাঁটার শক্তিটা অনেক কমে গেছে। দরজা টেনে ডাক্তারের সামনে যাওয়ার সময়টুকুর মধ্যেই ডাক্তার বুঝে গেলেন। আঙ্গুলের অক্সিজেন লেভেল টেস্ট করে বললেন ,করেছেন কি, এত কেয়ারলেস। এখনো হাসপাতালে ভর্তি হন নি। আমি বললাম জ্বর হওয়ার পর থেকে 10 দিন কেটেই গেছে। আবার বকা দিলেন ডাক্তার, এই দ্বিতীয় সপ্তাহটাইতো সবচেয়ে মারাত্মক, সবচেয়ে ঝুঁকির। এরপর লড়াই বেড পাওয়ার। কোন নামী প্রাইভেট নার্সিং হোমে বেড নেই। সরকারি ও ছোট ছোট নার্সিংহোমে গিয়ে লাভ নেই। সংবাদ মাধ্যমে তাদের অব্যবস্থা নিয়ে এত কিছু রটছে! দুপুর দুটো থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এদিক-ওদিক যোগাযোগ করেও কিছু হলো না। কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট ছাড়া কেউ ভর্তি নেবে না। সাসপেক্ট হিসাবে ভর্তি হওয়ার বেড একেবারেই নেই নাকি। অতঃপর আমাদের দপ্তরের হস্তক্ষেপে মুকুন্দপুর আমরিতেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ মিললো। চেস্ট রিপোর্ট খুব খারাপ, অক্সিজেন লেভেল 85। স্ট্রেচারে করে যখন কেবিনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ইমারজেন্সি থেকেই বিদায় জানালাম স্ত্রীকে। এরপর ওকে ঢুকতে দেবেনা। ছাড়া পাওয়ার আগে আর দেখা করতেও দেবে না। মনটা হু হু করে উঠলো। যদি না ফিরি! কি বা বয়স ছেলেটার। এই বয়সে পিতৃহীন হবে। মোবাইলটা নিয়ে নেওয়ার আগে শেষ ফোন করলাম অরূপকে, গলাটা ধরে এলো। বললাম, আমার কিছু হলে ওদের দেখিস

চোখে দু ফোঁটা জল। কত কিছু করা হলো না!
বাবা মায়ের কি হবে!!!
এসময় তো পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই! যে দু একজনের উপর ভরসা ছিলো, তারা তো খোঁজ অব্দি নেয়নি।

চারতলার একটি কেবিনে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। আই সি ইউ। সেখানে আগে থেকেই এক মোটাসোটা ভদ্রলোক মেশিনের সাহায্যে অক্সিজেন নিচ্ছেন। প্রবল শ্বাসকষ্ট তার। কিছু বলতে চাইছেন। পারছেন না।আমাকে অক্সিজেন দিয়ে সমস্ত যন্ত্রপাতি হাতে আর গায়ে লাগিয়ে দিল। হাতে চ্যানেল করে স্যালাইন দিয়ে দিল এক পিপিই কিট পরা নার্স। তারপরে পটাপট কয়েকটা ইঞ্জেকশন। রাত বারোটা নাগাদ ঘোর একটু কাটতেই দেখি পাশের লোকটার অবস্থা খুবই খারাপ। মেশিনের সাহায্যেও অক্সিজেন নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। নার্স বিভিন্ন প্যারামিটার বারবার করে দেখছে। আমার অক্সিজেন লেভেলটা তখন একটু স্টেবল হয়েছে। কিন্তু মাক্স খুলে দিতেই আবার নেমে ছিয়াশি। সঙ্গে সঙ্গে আবার মাস্ক পরিয়ে দিল।

পরেরদিন আমাকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত করা হলো। কারণ আমার ঘরের লোকটির রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। সে ঘর থেকে সরিয়ে আবার পাঁচ তলার একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। এই একদিনে আমি নেগেটিভ থেকে পজিটিভ হলাম না তো!!

ছয়দিনের হসপিটাল যাপনে এই ঘর বদল চলেছে অন্তত বার ছয়েক। কেন ওরা বারবার কেবিন বদলিয়েছে তা আমার বোধগম্য হয়নি। একটা জিনিস খুব স্পষ্ট ছিল যে ওই সময়ে কোন ডাক্তার বাবু বেডের কাছে এসে রোগী দেখেন নি। ভিন রাজ্য থেকে আগত নার্সরা কিছু সময় পর পর বিভিন্ন প্যারামিটার চেক করত। খাবার ওষুধ এগিয়ে দিতো। আর ডাক্তারদের বোর্ড নাকি তা পরীক্ষা করে রোগীর কন্ডিশন জানতো।
23 তারিখে আমার রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। মনে সে কি আনন্দ। বাড়ি যাবো।আমাকে জেনারেল ওয়ার্ডের ট্রান্সফার করা হলো পরদিন ছুটি দেওয়া হবে।
বিকেলে জেনারেল ওয়ার্ডে আমার তো যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। পরদিন বাড়ি যাবো। সব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেগেটিভ হওয়ার রিপোর্টটা পোস্ট করলাম। চারদিকে বহুকিছু রটছে আমার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে।সবার মুখ অন্তত বন্ধ হবে। মোবাইলটাও হাতে পেলাম।
সুদর্শনবাবুর ফোন। সুকুমারবাবু রায়গঞ্জ মেডিক্যালে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি। পৌরসভার লোক এসে বাড়িতে স্টিকার সেঁটে গেছে। সেদিনের ভোজসভায় থাকা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করলাম। তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতা ফরটিস এ ভর্তি। তখন স্টেবল। এডিএম সাহেব ও ফরটিসে ভর্তি। তবে তার অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল। আর বাকি দুজনও পজিটিভ। তবে উপসর্গহীন।
নিজেকে বেশ ভাগ্যবান মনে হচ্ছিলো। আমি তো নেগেটিভ ।
সব আনন্দ উবে গেল ডাক্তারবাবু রাউন্ডে আসার পর। আমাকে জেনারেল ওয়ার্ডের ট্রান্সফার করার জন্য তিনি হসপিটাল স্টাফদের খুব বকাবকি করলেন। আমার নাকি আবার কোভিড টেস্ট করতে হবে। চেস্ট রিপোর্ট খুব খারাপ। এই অবস্থায় আমাকে ছাড়া যাবে না। এমনকি তিনি সেই জেনারেল ওয়ার্ড কে স্যানিটাইজার করার কথা বলে গেলেন।

মন ভেঙে গেল। হসপিটালে একদিন থাকাও খুব কষ্টকর। সেখানে চার দিন হয়ে গেল। রমা এসেছিল আমাকে ডিসচার্জ করাতে। বিনিময় আমার মোবাইল ফোনটা ওর হাতে তুলে দিতে হলো। আবার আমি কোভিদ ওয়ার্ড -এ স্থানান্তরিত হলাম।
এই চার দিনে আমার শরীরে শক্তি কিছুটা ফিরে এসেছে। প্রেসার সুগার প্রায় স্বাভাবিক। যদিও খুবই দুর্বল। আসলে রোগটাই এমন। উপরে উপরে বোঝা যায় না। ভিতরে দ্রুত ফুসফুসকে বিকল করে দেয়। ডাক্তারের কিছু করার থাকে না। নার্স এসে নমুনা নিয়ে গেল। আরো দুদিন কেটে গেল হাসপাতালে। পাশের বেডের রোগীও স্যাম্পেল দিয়ে রিপোর্টের অপেক্ষায়।কিন্তু যথেষ্ট উপসর্গ। তার সাথে মন খুলে গল্প করলাম। টিভিতে সিনেমা দেখলাম। খবরের চ্যানেলে শুধু কোভিড আর কোভিড।

২৬ তারিখে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বাড়িতে ফোন গেল। আমি নাকি কোভিদ পজিটিভ। ওই সময় ওই পরিস্থিতিতে খুব ভেঙে পড়ার মত অবস্থা।মনে হল জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ফেল করে ফেলেছি।প্রায় সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হবে। পাড়া অফিস সব জায়গায়। স্ত্রীর সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলাম এই রিপোর্টের কথা আমরা বাইরের কাউকে জানাবো না। আর আমার যেহেতু সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে তাই হাসপাতাল থেকে হোম আইসোলেশন এ ছাড়ার জন্য ডাক্তার বাবুদের রিকোয়েস্ট করব। এবং বাড়িতে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবো।

২৭ তারিখে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি ছাড়া পাওয়ার দুপুরে দেখি আমার বেড পরিবর্তন হচ্ছে। ততক্ষনে আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। একটা মানুষ কতক্ষণ আর হাসপাতালে থাকতে পারে। প্রবল চেঁচামেচি করলাম। নার্সরা সিদ্ধান্তহীনতায়। আমি নাছোড়। বন্ড দিয়েই বেড়োবো। এখানে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বো। গরম জল চাইলে পাইনা স্যালাইন শেষ হয়ে গেলেও কেউ আসে না। রাউন্ডে থাকা ডাক্তার বাবু শেষে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট লিখে দিতে বাধ্য হলেন। সময়মতো হাসপাতাল যাওয়া আর ট্রিটমেন্ট চালু না হলে কি হতো তা এখন বলা হয়তো সম্ভব নয়। কারণ এই মারণ রোগের যারা মারা যাচ্ছে তাদের শারীরিক অবস্থা একদিনের মধ্যেই অবনতি হচ্ছে। এডিএম সাহেব তো একমাস পর ছাড়া পেলেন। আমাদের পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো তিনমাস। তাই আমি ভাগ্যবান। সময়মতো আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল । নাহলে...

” যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন …”

82

Leave a Reply