Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : গল্প : যদুবাবুর যন্ত্রণা

অমল কান্তি ঘোষ

যদুবাবু ৮০ ছুঁই ছুঁই। বছর দেড়েক বাড়ির বাইরে বেরোন না। ডাক্তার ও  বাড়ির সবাই বলেছেএই বয়সে করোনা হলে লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বুড়ো বয়সে সবারই  কোমরবিডিটি থাকে। যে যা পারে জ্ঞান দেয়। সবাই বিশেষজ্ঞ, কেবল তিনি ছাড়া। দুঃশ্চিন্তায় পড়লেন। লাশ পাওয়া না গেলে দাহ হবে কি করে? শ্রাদ্ধ হবে কি করে? শ্রাদ্ধ না হলে আত্মার শান্তি হবে কি করে? অতৃপ্ত আত্মার গতি কি হবে? ভাই বন্ধুদের বাড়িতে আসতে মানা করলেন। করোনা ভীষন ছোঁয়াচে। ১০০ বছরের মধ্যে নাকি এত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ দেখা যায় নি। কোনো অনুষ্ঠানে যান না। দাদা মারা গেলে শেষ দেখা দেখতে যেতে পারলেন না।

বাড়ি লাগোয়া বাজার। ওপর থেকে ব্যাগ ঝুলিয়ে সবজি, মাছ, মুদিখানার জিনিস ফল, ফুল এগুলো কেনেন। জল ও জীবাণু নাশক দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলেন। সারা দিন এই সব করেন। সময় কেটে যায়। ছেলে বাড়িতে থাকলে সে করে। যখন বুড়ো বুড়ি একা তখন তাদের করতে হয়। স্ত্রী বাতিকগ্ৰস্ত বলে গঞ্জনা দেন। দিক গে। বাঁচতে তো হবে। মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়, মস্তিকে যে কোটি কোটি নিউরোন আছে সে গুলো ঠিক মতো কাজ  করছে তো? এক দিকে বাঁচোয়া। বৃদ্ধবয়সের অবসাদ, একাকিত্ব, অবাস্তব চিন্তা ভাবনা এগুলো চেপে বসার সুযোগ পাচ্ছেনা করোনা আতংকে।যার সঙ্গে কথা হয় তিনিই বলেন ভ্যাকসিন নিয়েছেন? ভয়ে ভয়ে বলেন, না নিলে কি চলে?অবশ্যই নিতে হবে।  স্ত্রীকে ফিসফিস করেন, আমার মাথায় কি কোনো গন্ডগোল আছে? গিন্নী খেপে গিয়ে বলেন,হটো, আমার অনেক কাজ আছে।

কবে যে করোনা যাবে। ৬৮ রকম নাকি করোনা ভাইরাস আছে। তার মধ্যে কোবিড _  19 বলে ডেঞ্জারাস। এরপর এসে গেছে আরও মারাত্মক ডেল্টা, তারপর ব্ল্যাক ফাংগাস। ভবিষ্যত অনিশ্চিত। শঙ্খ ঘন্টা মোমবাতি কাজে আসে নি। যদুবাবু চিন্তায় ঘুমোতে পারেননা। তারপর প্রেসক্রিপশন পেলেন করোনাকে সংগে নিয়েই ঘুমোতে হবে। তবে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে, দু’ গজ দূরত্ব মেনে চলতে হবে। ঘন ঘন বিশেষ করে খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। চোখে মুখে নাকে কানে হাত লাগাতে হলে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কুনুই দিয়ে হাতের উলটো দিক দিয়ে এটি করা যেতে পারে। এই সব উপদেশ শুনতে শুনতে যদু বাবু পাশবালিশ সংগে নিয়েই ক্লান্ত হয়ে  ঘুমিয়ে পড়লেন।

37

Leave a Reply