Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : গল্প : স্বগগো

আফতাব হোসেন

হেব্বি চাপ…
লকডাউনে ..
কাজ নাই তায় আবার সংসারী ।
বউ বলেছে লিখলে সংসার এ নাকি মন থাকে না আর । মাঝে আবার ফোন এর টাচপ্যাড ড্যামেজ ।
তাই খুব কম কলম ধরি এখন
তবে কলম মাঝে মাঝে ধরে ফেলে আমায় ।
এই যেমন কদিন আগেই..

হরদিগছ স্টেশন থেকে নেমে কিলোমিটার চার পূব দিক পর যে চা বাগান গুলো , তার ঠিক শেষ বাগান টার নীচে মরালি বুড়ি রোজ বসে । ভিক্ষা তে । সারাদিনে রাস্তায় গোটা কুড়ি লোক চলে তাও আশায় বসে । কোন কোন দিন নিরাশ হয় , কোনদিন কিছু জুটে । চা কামিনরা কাজ সেরে ফেরার সময় বাঁচা কুচি দিয়ে যায় । তা দিয়েই চলে কোনরকমে ।

আমি আবার বাউন্ডুলে । বউ সংসারের সব হওয়ার পর থেকেই বাউন্ডুলেপনা আরও বেড়েছে ।পরিচয় হবার কথা নয় , কিন্ত হল । নিত্য দিন ও পথে মাছ মারার শখে যাবার পথে ক্ষণিক মগজে ধোঁয়া , সঙ্গী মরালি বুড়ি । আমায় বলে তোর সাদা বিড়ির টেস্ট হেবি । ফোকলা হাসি দেখলে দূর বিদেশে মায়ের কথা বড্ড মনে পড়ে । জন্মধ্যাত্রীকে সিগারেট খাওয়াচ্ছি এটা ভেবেই রোজ মর্ডান মাদার্স ডে হয় আমার । বাদ দিন ওসব …

১৪ তে পরের ঘরে, ১৫ তে পেটভার, ১৬ এর শুরুতে একটা আধখোঁড়া বাচ্চা,আর ১৭ থেকে রোজ মরদটার মার..
অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত… মরালি বুড়ি শোনাচ্ছিল..
আমি ধোঁয়াতে সুখটান..অবসরে ছোট্ট প্রশ্ন এখন মরদ থাকে না সঙ্গে ?
কি করে থাকবে শুনি..আধখোঁড়া মরলো ৩ মাসে.. তারপর বলবুনি.. শরম লাগে । জোরাজুুরি তে বললো , খোঁড়া মরার পর থেকে আমিও মরা । মরদ ভেতরে গেলে খোঁড়ার লিকলিকে পা টা মনে করে বড্ড কান্না লাগতো মনে.. কামিন মরদের তাগতে হাঁফতাম..সুখ পেত না মনে হয় ।
কদিন পর থেকে আমিও শুখা । মাসের রক্ত বন্ধ । সব্বাই বললো শালী কুলটা । একবছর পরও যখন রক্ত নাই মাসে, মরদটা এখানে ফেলে গেল সাথে বদনাম , বাঁঁজা । তারপর কত কাল । কেউ নাই । মরদ খোঁজ নেয় না । খোঁড়া রাতে রোজ স্বপ্নে আসে । খাবার লগে কাঁদে । টিপে টিপেও বুকে দুধ নাই রে.. খোঁড়ার কান্নায় বুক ফেটে চিৎকার করে উঠে যাই মাঝরাতে । খুব চিৎকার করি কাান্নায় । লোকে বলে ডাইনি ডাকছে মাঠে ।

শুনছিলাম ।

বললো তোর ভয় লাগে না ? সব্বাই ডাইনি বলে আমায় ।
হাসলাম অল্প । বললাম রাখো কিছু টাকা । লকডাউন চলছে । বেেরোলে পুলিশ হল্লা করেে । কদিন পর আসবো আবার ।

চোখ নিচে টেনে আমতা আমতা । বললাম কিছু বলবে নাকি ? বললো

  • তোর ফোন আছে ? উতে ছবি উঠে ? মরদটা কে দেখার বড্ড লোভ হয় । বিয়ার দিন আমাকে বরফগলা জল দিয়েছিলো । বলিস মরার আগে একবার যদি লাল টিপ দেয় মাথায় , তাইলে স্বগগে যাব । বলেই ফিকফিক হাসি ।বললাম নামধাম দাও । সময় হলে ছবি নিয়ে আসবো । বলে দেখবো ।

লকডাউনে অনেক দিন যায়নি ও ধারে । তার বদলে ত্রাণ দিচ্ছিলাম । সাত আট জায়গায় ঘুরে ঘুরে । বিচিত্র অভিজ্ঞতা । আট প্যাকেট ত্রাণে বারো বার সেলফি দেখলাম , আবার হিরো হন্ডা নিয়ে ত্রাণ নিতে আসাও দেখলাম । ওসব থাক.. কদিন থেকে বড্ড মন চঞ্চল । লোকে বলে ইনটিউশন বলে নাকি কিছু হয় । বিজ্ঞান মঞ্চের ডাকে সকালে ফোন এলো । শুনলাম এক ডাইনিকে পিটিয়ে আধমরা করে ফেলেছে । জায়গাটার নাম আর লোকেশন শুনেই কু ডাকলো মনে । বিজ্ঞানের যুগেও ইনটিউশন মেলে । গিয়ে দেখি বাগানের মাঝে মরালি বুড়ি । প্রায় মরা । দু পায়ের মাঝে গ্যালন কয়েক রক্ত । কয়েকটা শ্বাস বাকি তখনো । ভিড়ের মাঝে চিনতে পারলো মনে হয় । চোখের চাউনি দেখে গিয়ে বসলাম পাশে । যন্ত্রনায় বাঁকা হাসলো ।
বললাম কি করে হল ? বললো

  • উরা ছিড়লো আমাকে । বললাম আমি ডাইনি । তাও ছাড়লুনি । খুুুউবব কষ্ট হল ।
    তারপর খুব রক্ত । খুব । ফিনকি দিয়ে ।
    ৪০ বছরের জমা রক্ত ।একসাথে বেরোলো ।

রক্ত দেখে উরা ভয় পেল । মারলো । বললাম মারিস না । আমি মরাই । কাউকে বলবুনি । শুধু মনভরে রক্ত দেখতে দে । কত যুগ রক্ত দেখিনি । উরা আরো ভয় পেল । বললো শালি ডাইনি । তুই মর ।

কষ্টে ঘাড় বেঁকিয়ে বললো দেখ কত রক্ত আমার । বলিস মরদ টাকে আমি বাঁজা নই । বলিস ।

মাথা টা একদিকে ঝুঁকলো । বুঝলাম শেষ ।
সাথের ডাক্তার বাবু বললেন ভ্যাজাইনাল টিউমার জাতীয় কিছু ছিল । ব্রুটলি রেপড । তাই ব্লাস্ট করেছে । বেশি ব্লিডিং এ মরলো ।

শুনলাম লোকজন তাড়াতাড়ি লাশ উঠানোর কথা বলছে ।

এক মেয়ের মুখে শুনলাম ডাইনির রক্ত তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলতে । অম্বুবাচি চলছে ।এ সময় নাকি বাঁজার বদ রক্ত মাটিতে ফেলে রাখতে নেই । পৃথিবী রাগ করে ।

আমার কি । আমি জাত বাউন্ডুলে । চললাম মরালি বুড়ির মরদ খুঁজতে । দেখি ডাইনির কপালে সিঁদুর জুটে নাকি ।

তাহলে স্বগগে যাবে ।

72

Leave a Reply