Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি : ১৫

সাধন দাস

আতিথেয়তা

বেদম ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি। সবে ধরেছে। মিঃ আলিবক্সের বাতিল ব্যাঙ্কের বাড়িতে মেস। রাস্তার দিকে জানলা খুলে বসে আছি। ম্যানেজারবাবুর কোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে, কাজের মেয়ে ছাতি মাথায় ছুটছে। 

– ও মেয়ে, ম্যানেজারবাবুরা কী করছে? 

– বাবু বিবি নেপের নিচে। খোকাবাবু শিল কুড়ুচ্চে। বিষ্টিতে নাফাচ্ছে। 

খোকাবাবু ছ’ বছরের বিচ্ছু রূপম। ঝড়ে হরিহরপাড়া তছনছ হয়ে গেছে। খড়ের ঘরে রূপমের বয়সী মেয়ে আছে। দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে কাজের মেয়ে ছুটছে। 

তখনো ঝাপ্টা দিচ্ছে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি। ছুটতে ছুটতে মেসে ঢুকে পড়লেন ঘোষদা, দুধের যোগানদার। মাথার সপসপে গামছা খুলে ভিজে হাত পা মুছতে মুছতে বন্ধ নিশ্বাসে বলে চললেন- ঘরের চাল উড়ে গেছে। সজনেগাছ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের আগে মেয়ে বেরিয়েছে, ফেরেনি। 

বোগলে এক বাণ্ডিল সজনে ডাঁটা। ভাঙাগাছ ভেঙে এনেছেন। 

– রাতে কোথায় থাকবেন? 

– যা হয় একটা ব্যবস্থা হবে।

– মানে? ঘরের চাল? 

– যেখানে যায় যাক। 

– সেকি! 

– টিনের চাল উড়ে যদি কারো গলায় বেঁধে, দু’ ফাঁক। কোথায় গিয়ে অনাছিষ্টি বাঁধিয়েছে কে জানে? যদি কেউ খোঁজ দেয়, ভালো। নইলে বিপদ খুঁজতে কে যাবে? 

– মেয়ে ? 

– এবার বেরুবো। 

– তাহলে দুধ, ডাঁটা এসব কেনো? আগে মেয়ে দেখবেন তো! 

– যদি রাতের রান্না হয়ে যায়!¬ খেতে পাবেন না যে! 

– মেয়ে কোথায় গেছে? 

– ছাগল চড়াতে। ছাগল ফিরেছে। মেয়ে ফেরেনি।

– মাঠের দিকে তো খুব বাজ পড়েছে! 

– হ্যাঁ, তা পড়েছে। চলুন, সবাই মিলে খুঁজতে যাই। 

– বৃষ্টি থামেনি। আপনারা মেহমান। ধুধু মাঠে কোথায় খুঁজবেন? যাই, কপালে যা আছে, তাই হবে। 

বেহুঁশ ঘোষদা। মাথার গামছা কাঁধে ফেলে, হাতের তালু মাথায় উপুড় দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। 

76

Leave a Reply