Categories
দেশের খবর

পেগাসাস তালিকায় রাহুল গান্ধীর নাম এসেছে দু’বার

ওয়েবডেস্ক, জুলাই ২০,২০২১: পেগাসাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে আড়িপাতার তালিকায় দুইবার এসেছে ভারতের কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধীর নাম। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলের ব্যবসা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছিলেন এক সাংবাদিক। তিনিও আছেন এই তালিকায়। এসব নিয়ে তোলপাড় চলছে ভারতজুড়ে। তালিকায় আছে ৪০ জন সাংবাদিকের নাম। ইসরাইলের এনএসও গ্রুপের তৈরি করা হ্যাকিং বিষয়ক সফটওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে সন্দেহজনক বা টার্গেটেড ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতার কথা বলা হয়েছে। গতকাল সারাদিন ভারতে টক অব দ্য কান্ট্রি ছিল পেগাসাস। এর কারণ হলো এই, অনেক রাঘব বোয়ালের স্পর্শকাতর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ইজরায়েলের সংস্থা জানিয়েছে এই স্পাইওয়ার তারা শুধু কোনও দেশের সরকার বা সরকারি নিরাপত্তা সংস্থাকেই বিক্রি করে। এই তথ্য একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড। ‘‌দ্য ওয়্যার’‌–এ একটি প্রতিবেদনে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অন্তত ৩০০ জনের মোবাইলে আড়ি পাতা হয়েছিল। এবার একে একে প্রকাশিত হচ্ছে সেই নাম। আর তাতেই চমক বাড়ছে। তালিকায় সবার ওপর নাম রয়েছে রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি আড়ি পাতা হয়েছিল ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলে। শুধু তাই নয়, মোদির দুই মন্ত্রীর ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল। অন্যজন বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ২০১৮–১৯, ওই সময়টায় তিনি বিজেপি–র সাংসদ ছিলেন। তখনও মন্ত্রী হননি। সোমবার সংসদে অবশ্য নিজের সরকারের হয়েই ব্যাটন ধরেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। আইটি মন্ত্রীর কথায়, ‘‌গত রাতে একটি সংবেদনশীল খবর প্রকাশিত হয়েছে একটি নিউজ পোর্টালে। প্রতিবেদনে অনেক অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক একদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে রিপোর্টটি। এটা সমাপতন হতে পারে না।’‌ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার মোবাইলেই আড়ি পাতা হয়েছিল। এই লাভাসা প্রকাশ্যে মোদি–শাহর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাঁদের ক্লিনচিট দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। এই পেগাসাস স্পাইওয়ার বিক্রি করে ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও। তারা সব অভিযোগ উড়িয়ে বিবৃতি দিয়েছে। জানিয়েছে, ‘রিপোর্ট যা বলা হয়েছে সব ভিত্তিহীন। মনগড়া তত্ত্বের উপর নির্ভর করে এই রিপোর্ট তৈরি। রিপোর্টে বলা হয়েছে অসমর্থিত সূত্রের থেকে তথ্য পেয়েছে তারা। এই তথ্য বাস্তব থেকে অনেক দূরে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। তারা যে অভিযোগ তুলছে তার পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারছে না। এই অভিযোগ বাস্তব থেকে এতটাই দূরে যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে এনএসও।’ মোদি সরকারও হ্যাক করার কথা অস্বীকার করেছে। জানিয়েছে, এই অভিযোগ ‘‌ভিত্তিহীন, সত্যি নয়’‌। তবে পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনা বা ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেনি কেন্দ্র।

51

Leave a Reply