Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি:১৪

সাধন দাস

নবীন বরণ

সিঙ্ক গভর্ণমেন্ট। ডোবা সরকার। ডুবতে ডুবতে বেঁচে যাওয়া ডোবাদা ব্যাঙ্কে আসেন না। যদি আসেন, চেকে সই করে নিয়ে, গেঞ্জি লুঙির হাফ হাফ নিচে কালো নাদা ভুঁড়িতে বোতাম খোলা হাওয়াই শার্ট। ভল্টে ক্যাশ সর্ট পড়লে ব্যাঙ্ক চালিয়ে দেন। টাকার কুমির। 

এ্যাকাউন্ট্যান্ট সুজয়দা ডাকতেন – শঙ্করদা (ব্যাঙ্কে লিখিত নাম), সই মেলেনি। ভিতরে আসুন।

অমনি ডোবাদা ঘামতে শুরু করেন। বাকি অক্ষর তেলাপোকার পায়ে যেমন তেমন ‘ঙ’ য় ‘ক’ জড়ানো ঘাড় ব্যাঁকা কাঁধে চাঁদের বড়শি লেখা ‘ঙ্ক’ পৃথিবীর সবচেয়ে আতঙ্ক। এক গো ডাউন পাটের হিসেব বলেন, সাড়ে তেরোশো টাকার সোওয়া সাত দিনের পৌনে ছ’টাকা হারে সুদের হিসেব চান, গেঞ্জির হাতা গুটিয়ে, তড়পে মুখেমুখে পাই টু পাই কষে এমএসসি পাশের কান মুলে দেবেন। 

সুজয়দা বার দু’ত্তিন – উঁহু, ‘ঙ’ য় ‘ক’ মিলছে না। 

বললেই দাঁড়ানো ডোবাদা টেবিলের উপর হুমড়ি খেতে খেতে শুয়ে পড়েন, কলমে জিভ ঠেকিয়ে বলেন- স্যার, মেঝেই বসে লিখি? আপনার বৌদি লেখার কৌশল বসিয়ে শিখিয়েছে কিনা! 

সুজয়দার মোটা গোঁফ আরো মোটা হয়ে বলতো- হুম! 

জামা, গেঞ্জি খুলে, (বৌদির সই শেখানোর কৌশল) ডোবাদার মাথার চুল খাড়া হয়ে, হাঁফাতে থাকলে তবেই সই মিলতো। 

ডোবাদার পাঁচ মেয়ে। ব্যাঙ্কে সই মেলানোর আইন থেকে রেহাই পেতে ব্যাঙ্কার একটা জামাইয়ের জন্যে একের পর এক লড়ে যাচ্ছেন। পোস্টিং পেয়ে নতুন কেউ ব্যাঙ্কে এলেই, ডোবাদার বাড়ি থেকে নেমন্তন্ন আসবেই। বিবাহিত হেড ক্যাশিয়ার, খোঁড়া ব্যাঁকা দপ্তরি, ক্ষয়া-কালো সাবস্টাফদের জন্যেও এসেছিলো, আমিও রেহাই পেলাম না। অফিসের নবীন বরণ উৎসব। 

খেতে বসেছি। সবার কাঁসার বগিথালায় মুক্তোদানা ভাতের চারপাশে রূপোর বারোটা বাটিতে রঙ বেরঙের সবজি, মাছ, মাংস, দৈ মিষ্টি এলাহি চক্রব্যুহ। খেতে খেতে মায়ের কাছে শুনতে হয়, মেয়েদের রূপ, গুণ বাখানি। মাথার উপর পালা করে হাতেটানা পাখার মিষ্টি মধুর ব্যজনের সাথে নতমুখ কন্যা দর্শন। আর গদগদ ডোবাদার মুখে বড়ো দুই মেয়ের বিয়েতে দানছত্রের সম কাহিনি। গা মোড়ানো গহনা, ম্যাটাডোর সহ উপচে পড়া রুপো,কাঁসা পেতল, মেয়ের ব্যাঙ্ক ব্যালান্স ইত্যাদি! চলে আসার মুখে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মিনমিন স্বরে হাত জোড় করে বলতেন- ভালো একটা জামাই না পেলে বিষয় ব্যবসা সব ডুবে যাবে! 

29

Leave a Reply