Categories
রায়গঞ্জ

একাধিক দাবিতে শহর জুড়ে পোস্টার ‘রায়গঞ্জ শ্রমজীবী সমন্নয়’ সংগঠনের।

ওয়েবডেস্কঃগতবছর কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা করা অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে বহু মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিলো। সে সময় দেখা গেছে অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার সমস্যা, পথে মৃত্যু । সে সময় বহু শ্রমজীবী মানুষ কাজ হারিয়েছিলেন।

কর্মী ছাঁটাই করেছে বহু কোম্পানি। এমনকি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার কঙ্কালসার চিত্রটাও বাইরে এসেছে। যখন দেখা গেছে করোনা সামাল দিতে গিয়ে সাধারণ রোগে (যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার, টিবি প্রভৃতিতে) বহু মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে। এমনকি অ-করোনা রোগীর পক্ষে হাসপাতালে শয্যা জোগাড় করাও কঠিন হয়েছে, শয্যা-সঙ্কটের ফলে।

এবারে যখন আবার প্রায় লকডাউন ঘোষণা হয়, তখন থেকেই রায়গঞ্জ শ্রমজীবী সমন্নয় নামে একটি সংগঠন তৈরি করে রায়গঞ্জের কিছু নাগরিক, একত্রিত হয়েছে মানুষকে যাতে এই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে না হয়। এই সংগঠনের মতে, শ্রমজীবী মানুষদের অধিকার রয়েছে সুস্থভাবে বাঁচা। এই লক্ষ্যে অল্পবয়সী কিছু যুবক জয়র্ষি, জ্যোতির্ময়, অরণ্য, কৌশিকী, মোহন, কিছু দাবী নিয়ে শহরে প্রচার করে চলেছে। শিলিগুড়ি মোড়, বকুলতলা মোড়, বাসস্ট্যান্ড সহ শহরের আটটি জনবহুল এলাকায় ফ্লেক্স লাগাচ্ছে তাঁরা। এছাড়া গোটা শহরে পোস্টার লাগানো হচ্ছে। কিছু খাদ্য ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার মূলগত দাবী রেখেছে তাঁরা। যেমন-

১. প্রতিটি অঞ্চলে প্রস্তাবিত ‘মা ক্যান্টিন’ বা অনুরূপ শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালু করতে হবে।
২. প্রত্যেকের বাড়িতে রেশন পৌঁছে দিতে হবে।
৩. লকডাউনের ফলে শ্রমজীবী মানুষদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। লকডাউনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সেটা পূরণ করতে হবে।
৪. সরকারি বেডের সঙ্কট মেটাতে, সেফ হোম চালু করতে এবং করোনা ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা, যেমন বহির্বিভাগ ও জরুরিবিভাগ সুষ্ঠভাবে চালনা করতে বেসরকারি হাসপাতালের বেড সাময়িকভাবে সরকারিকরণ করতে হবে।
৫. পৌরসভার উদ্যোগে ভ্রাম্যমান অক্সিজেন পরিষেবা চালু করতে হবে।
৬. বহু ছাত্রছাত্রী অনলাইন শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হবে।
ইত্যাদি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবিষ্যতে প্রশাসনের কাছেও এই সকল দাবী রাখা হবে। আশা করি প্রশাসন শ্রমজীবী মানুষের কথা মাথায় রেখে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে। রায়গঞ্জের জনগণ অসহায় মানুষদের এই অধিকারগুলো পূরণে যাতে এগিয়ে আসে, সেই প্রত্যাশা রাখছে সকলের কাছে।

91

Leave a Reply