Categories
কুলিক রোববার প্রথম পাতা

 কুলিক রোববার স্মৃতি- ৮

সাধন দাস

ইউনিয়ন ভেঙে যায় 

সুইপার দিলিপদার বিয়ে। নিমন্ত্রণ খেতে গেলাম, রিজিওনাল ম্যানেজার (আশিটা ব্রাঞ্চের আরএম) থেকে ক্যান্টিনের মাসি। হৈ হৈ। কোট টাই পরলেও সেদিন সাহেব কেউ ছিলো না। মিলেমিশে একাকার। ব্যাঙ্ক জুড়ে একটাই ইউনিয়ন। আরএম থেকে সুইপার এক লাইনে একই মিছিলে। জলট্যাঙ্কির মোড় থেকে পৌনেমাইল লম্বা। এক আওয়াজে ইনকিলাব জিন্দাবাদ। আস্ত শহর হাঁ। এমন গর্বের মিছিলে মাত্র একবার হেঁটে ছিলাম। সমস্ত কর্মচারী মিলে স্যুভেনির বেরিয়েছিলো। সেবারই শেষ। তারপর ইউনিয়ন ভেঙে যায়।

আজ সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায়

ডিআরএম ( ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার) গাঙ্গুলিদা সবার প্রিয়। লিখতে না পারলেও লেখা দিতে হবে। রিকোয়েস্ট নয় আবদার। লেখা দিচ্ছেন না। স্যুভিনিয়র বেরুচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কবিতা দিলেন। প্রভাতকুমার গঙ্গোপাধ্যায় নামে মহা খুশিতে ছাপা হয়ে স্যুভেনির বেরুলো। পরদিন অনুষ্ঠান, বিলি হবে। গাঙ্গুলিবৌদি ডেকে পাঠিয়েছেন, চা খাওয়ার নেমন্তন্ন। দল বেঁধে গেলাম। বাড়ি থমথমে। মুখ চুন, বসে আছেন গাঙ্গুলিদা। ঢুকতেই বৌদি ঝাঁপিয়ে পড়লেন। 

– ছিঃ ছিঃ! মেয়ের কবিতা নিজের নামে ছাপতে লজ্জা করেনি। এই তোমাদের মহাপুরুষ দাদা! নাম ঠিক না করে খবর্দার পত্রিকা যেনো বাইরে না বেরোয়। 

সর্বনাশ! হাজার পত্রিকা ছেপে বাইণ্ডিং হয়ে চলে এসেছে। গাঙ্গুলিদার দোষ নেই। মেয়ের কবিতা লেটারহেড প্যাডে লিখে নিয়ে গেছেন, একদম নিচে মেয়ের নাম লেখা ছিলো। কম্পোজার লেটারহেডের নাম দেখে কম্পোজ করে দিয়েছে। এখন উপায়? সবাই মিলে রাত জেগে এক হাজার গাঙ্গুলিদার মেয়ের নাম জপ করতে করতে- ছেপে এনে, কাঁচি দিয়ে কেটে, কবিতার নিচে আঠা দিয়ে সেঁটে তবে রেহাই। বৌদি অবশ্য পরে মাংস ভাত খাইয়েছিলেন। কিন্তু একসাথে খাওয়া আর জোটেনি। ইউনিয়ন ভেঙে দু’টুকরো। গাঙ্গুলিদার ভাগের টুকরোরা বিষন্ন মুখে গিলেছিলাম। কারো কারো দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়েছিলো। অমন বিষাদের মাংস আর কখনো খায়নি।

21

Leave a Reply