Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার: কবিতা: দৃশ্যত

প্রদীপ গুপ্ত

লাল ইটের সেকেলে বাড়ির 

আকাশছোঁয়া সিঁড়িতে উঠতে উঠতে 

বাবা বলেছিলেন —

সিঁড়িটা ভীষণ একা

ওর কোনো বন্ধু নেই। 

পরে বুঝেছিলাম 

দুটো ধাপের মাঝের ল্যান্ডিংটা 

বন্ধুর মতো জুড়ে রাখে 

ওপরের আর নীচের ধাপগুলোকে। 

বাড়ি বানানোর সময় 

আব্দুল মিস্ত্রিকে ডেকে মা বলেছিলেন

ঘরে যেন ভেন্টিলেটর রেখো আব্দুল।

ভেন্টিলেটর না থাকলে দুপুরগুলো হারিয়ে যায়। 

ভেন্টিলেটরগুলো থেকে কতো যে 

ঘাসের টুকরো, কাঠির টুকরো বিছানাময় পড়ে থাকতো

মা খুঁটে খুঁটে সব পরিষ্কার করে রাখতেন।

আর রোজ বিকেল হলেই উঠোনময় ছড়িয়ে দিতেন

চাল গম ডাল মেশানো শস্য। ভেন্টিলেটরে বাসা বেধে রাখা 

পায়রাদের বকম বকম, শালিক আর চড়ুই পাখিদের 

কিচিরমিচির শব্দে ভরে উঠতো দুপুরগুলো। 

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে

পাশের বাড়ির কাকু কানে খড়কে বোলাতে বোলাতে

দুচোখ বন্ধ করতেন, আর মিটিমিটি হাসতেন।

সে-সময়ই আমার কেমন যেন মনে হতো

চোখ খুলে দেখায় আর চোখ বন্ধ করে দেখার ভেতর 

একটা ধুয়ো ওড়ানো তৃপ্তির পার্থক্য আছে। 

চোখ খুলে সামনেরটা দেখা যায়। 

আর চোখ বন্ধ করে দূরেরটা।

49

Leave a Reply