Categories
রাজনীতি

সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিজেপির হাতিয়ার মহামারী, অভিযোগ তৃণমূলের

ওয়েবডেস্ক,মে ২৭,২০২১: পুরুলিয়ায় ঘৃণ্য রাজনীতির অভিযোগ উঠলো বিজেপির বিরুদ্ধে! অতিমারী কে হাতিয়ার করে বিপাকে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকারকে। ফাঁস হলো এমনি এক হোয়াটসআপ চ্যাট।

যেখানে বিজেপি কোর কমিটির একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বলা হচ্ছে, “ঘর পাবে বলে প্রশাসনের ত্রাণ শিবির বা স্কুলগুলিতে বেশি করে লোক ঢুকিয়ে দাও। ফলে করোনা হবে। সরকার ফাঁসবে।” বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর এই নির্দেশে সম্মতি দেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা দলের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কোর কমিটির এই গ্রুপের কথোপকথন স্ক্রিন শটের মাধ্যমে ভাইরাল হয় স্যোসাল মিডিয়ায়।

বুধবার দুপুর থেকেই পুরুলিয়ায় রটে যায় ত্রাণ শিবিরে গেলেই ঘরের জন্য টাকা মিলবে। ফলে যাদের পাকা বাড়ি তাঁরাও দুর্যোগ মোকাবিলায় স্কুলের ত্রান শিবিরে আসতে শুরু করেন। যদিও ,পুলিশ বরাবাজার থানা এলাকায় প্রচারে নেমে বলে, ‘এটা মিথ্যে রটনা।’

এরপরই মেলে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কোর কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দলের জেলা সভাপতির এমন নির্দেশ! আর তা প্রকাশ্যে আসতেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে। যদিও পুরুলিয়া জেলা বিজেপি জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ওই স্ক্রিনশট গুলি ভিত্তিহীন।

বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “পুরোটাই ফেক। এ কাজ তৃণমূলের করা। আমি আইনত ব্যবস্থা নেব।” তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের শিক্ষা–সংস্কৃতি–তথ্য–ক্রীড়া স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডু বলেন, “ওদের নোংরা রাজনীতি প্রকাশ্যে চলে আসতেই বিপাকে পড়েছেন। যা খুশি তাই বলছেন।” পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন তথা জেলা পুলিশের কাছেও ওই ভাইরাল হওয়া স্ক্রিন শট গিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এস. সেলভামুরুগণ বলেন, দ্রুততার সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তারা।

ভাইরাল হওয়া ওই স্ক্রিনশটগুলিতে দেখা যাচ্ছে , বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলছেন, “সব থেকে ভালো হবে বেশি করে লোক স্কুলগুলিতে ঢুকিয়ে দাও আর সবাইকে বলে দাও যে সবাই ঘর পাবে। যত বেশি লোক একসাথে থাকবে করোনা হবে আর সরকার ফাঁসবে, প্রত্যেকটি অঞ্চলে খবর দিয়ে দাও।” এই নির্দেশের পরই বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলছেন, “আপনি বলে দিন। সেন্ট্রালকে বলে আমি মিডিয়াতে দিয়ে দেব। আমাদের কর্মীদেরকে বলতে হবে বেশি করে ফটো ভিডিও করে।”

অপরপক্ষে ,তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এই রকম একটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন স্বয়ং নির্বাচিত একজন সাংসদ! এর আগেও বারবার বিভিন্ন রকম চক্রান্ত রচিত হয়েছে, যেগুলো আমরা বুঝতে পারিনি। কিংবা হয়ত বুঝতে পারলেও আমাদের হাতে প্রমাণ ছিল না। আজ সবটা জনসমক্ষে! ভাবতেও লজ্জা করছে!”

এই বিষয়ে সাংসদ কে ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। বিজেপির জেলা সভাপতির ওই নির্দেশ ভাইরাল হওয়া স্ক্রিন শট অনুযায়ী সম্মতি জানান জয়পুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন সাংসদ নরহরি মাহাতোও।

23

Leave a Reply