Categories
আশেপাশের খবর

কোভিড কালে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই রাজকুমার স্মরণ রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চের!

ওয়েবডেস্কঃ কোভিড ১৯শের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল সারা দেশের সাথে রায়গঞ্জ শহরও। তার মাঝেই কোভিড প্রোটোকল মেনেই গত পঞ্চায়েত ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে শহীদ রাজকুমার রায়ের তৃতীয় প্রয়াণ দিবস পালন করলো রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ। বড় জমায়েত না করে মঞ্চের সদস্যরা শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে রাজ কুমার রায় কে শ্রদ্ধা জানালো।

এদিন রায়গঞ্জের ঘড়ি মোরে রবীন্দ্র মুর্তির পাদদেশে রাজকুমার রায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন প্রয়াত রাজকুমার বাবুর স্ত্রী অর্পিতা রায় বর্মন। এছাড়াও শ্রদ্ধা জানান মঞ্চের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শাহীদুর রহমান, অনিরুদ্ধ সিনহা, আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, প্রিয়রঞ্জন পাল, অভিজিৎ কুন্ডু, শর্মিষ্ঠা ঘোষ সহ আরো অনেকে। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীপান্বিতা তালুকদার, শুভ্র শংকর নাগ, শহীদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ভাস্কর ভট্টাচার্য, শহীদুর রহমান।

প্রসঙ্গত গত ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন সন্ত্রাসের সাক্ষী ছিল রাজ্যবাসী। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের ছবি লক্ষ্য করা গেছিল উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও। এবং এই সন্ত্রাসের ভয়ঙ্কর তম পরিনতি ছিল প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের মৃত্যু। ভোট চলাকালীন তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। যদিও প্রাথমিক ভাবে ইটাহারের তৎকালীন রিটার্নিং অফিসার দীর্ঘ সময় নষ্ট করে মধ্যরাতে ইটাহার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবুও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পরদিন সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের সোনাডাঙ্গীর কাছে রেল লাইনে রাজকুমার বাবুর ক্ষত বিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আত্মহত্যা হলেও মানতে চাননি রায়গঞ্জ তথা জেলার শিক্ষক মহল সহ বিভিন্ন ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদে গণনার প্রশিক্ষণ বয়কট করে ঘড়ি মোরে ধর্ণায় বসে ভোটকর্মীরা। তৎকালীন মহকুমা শাসক অত্যন্ত অসংবেদনশীল ভাবে তদন্তের আগেই রাজকুমার আত্মহত্যা করেছেন বলে ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটকর্মীরা বিশেষ করে রাজকুমারের সহকর্মী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অভিযোগ এই সময়ে মহকুমা শাসক ভোটকর্মীদের দ্বারা নিগৃহীত হন। আন্দোলনকারীরা প্রথমে ঘড়ি মোর পরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। নজিরবিহীন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় এবং জেলা থেকে রাজ্যের সর্বত্র। গঠিত হয় রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ । আন্দোলন রাস্তা থেকে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আন্দোলনের ফলে সরকার রাজকুমারের স্ত্রী কে জেলা শাসকের দফতরে নিয়োগ করে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। কিন্তু সিবিআইয় তদন্ত এবং রাজকুমারের স্ত্রী কে ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকে। রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চের দীর্ঘ আন্দোলনের সুফল হিসেবে কয়েকমাস আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশন অর্পিতা দেবীর হাতে দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছে। তবে রাজকুমারের মৃত্যুর সিবিআইয় তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে মামলার এখনো কোনো নিস্পত্তি হয় নি।

236

Leave a Reply