ওয়েবডেস্কঃ কেউ কেউ আছেন, গরমকালে আর্দ্র আবহাওয়ায় এত ঘামেন যে মনে হয় স্নান হয়ে এসেছেন। ভিজে চুপচুপে হয়ে যায় জামাকাপড়, কাপড়ে ঘামের দাগ লাগে, দুর্গন্ধ হয়, ভারি বিব্রতকর ব্যাপারগুলো। ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর উষ্ণ আবহাওয়ায় তাপমাত্রা হারায়। ফলে শরীর শীতল হয়। এটি দেহের একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা কখনো রোগের উপসর্গ হতে পারে বৈকি।

কেন হয় এই ঘাম?
-জ্বর হলে ও জ্বর ছাড়ার সময় দেহ তাপমাত্রা দ্রুত হারায় ও প্রচুর ঘাম হতে পারে। এটি স্বাভাবিক ব্যাপার।
-আবার ব্যায়াম বা ভারী কায়িক শ্রমেও ঘাম হবেই।
-কারও কারও উদ্বেগ বা টেনশনে ঘাম হয়। সাধারণত উদ্বেগজনিত রোগে হাত-পায়ের তালু বেশি ঘামে।
-ওজনাধিক্য ও স্থূল ব্যক্তিরাও বেশি ঘামেন। এটা দেহের বিপাক ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।
-থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য হলে অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকে। এর সঙ্গে থাকে ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপা ইত্যাদি উপসর্গ।
-ডায়াবেটিসের রোগী হঠাৎ খুব ঘামতে থাকলে সতর্ক হবেন। রক্তে শর্করা কমে গেলে এমন হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোমিটারে শর্করা পরীক্ষা করুন, কম থাকলে চিনি বা শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
-বুকে ব্যথা ও ঘামতে থাকা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। এ ধরনের সমস্যা হলে সাবধান হওয়া উচিত। নানা ধরনের ওষুধ আছে, যাতে বেশি ঘাম হয়। চিকিৎসককে সে বিষয়ে বলুন।
-কিছু ক্যানসার, যেমন লসিকা গ্রন্থির ক্যানসারে প্রচুর ঘাম হয়। এই ঘাম বেশি হয় রাতের বেলা। আড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার ফিওক্রমোসাইটোমাতেও প্রচুর ঘাম হয়। যক্ষ্মা রোগীরও বেশি ঘাম হয়। রাত্রিকালীন ঘামের সঙ্গে জ্বর জ্বর ভাব, কাশি, লসিকা গ্রন্থি ফোলা, দুর্বলতা ইত্যাদি আছে কি না খেয়াল করুন।
-মেনোপজের পর মহিলাদের হঠাৎ গরম লাগে, ভাঁপ বোধ হয় ও প্রচুর ঘাম হয়। একে হট ফ্লাশ বলে। বিষয়টা কষ্টদায়ক হয়ে উঠলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ঘাম কি ক্ষতিকর?
আগেই বলেছি, ঘাম একটি শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। বেশি ঘাম হলে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা তেমন নেই। তবে অস্বাভাবিক ঘাম রোগের লক্ষণ হতে পারে বলে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো লক্ষ রাখা উচিত। খুব গরম আবহাওয়ায় বা রোদে বাইরে কাজ করলে অতিরিক্ত ঘামের কারণে জলশূন্যতা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে অবসন্ন বোধ করলে প্রচুর জল বা স্যালাইন খেয়ে নেওয়া উচিত।

হঠাৎ ঘাম হলে কি করনীয়?

ঘামের সঙ্গে যেহেতু সোডিয়াম, পটাশিয়াম বাই-কার্বোনেট বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর দুর্বল ও অস্থির হয়ে যায় তাই জলের সঙ্গে নুন, চিনি, পাতিলেবু মিশিয়ে সরবত খেলে ভাল হয়। গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাব খেতে পারেন। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে ফ্রেশ ফ্রুট জুস ও টাটকা ফল খান। ভিটামিন বি-১২’এর অভাবে যেহেতু হাইপারহাইড্রোসিস হয় তাই বি-কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার খান। পাশাপাশি থাইরয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন – এসপারাগাস, ব্রকোলি, রেড মিট, সাদা পিঁয়াজ, খাবার লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। চা-কফি কম খেতে হবে।

47