ওয়েবডেস্কঃ রায়গঞ্জ শহর জুড়ে পোস্টার, “রাষ্ট্রের হাতে যদি বন্দুক থাকে আমাদের হাতে শুধু পতাকা কেন?” পোস্টারে আরো লেখা আছে “খেলা একপেশে হবে না। আসছে অভিসন্ধি।” আর এই পোস্টারের বক্তব্যে মাওবাদী হুমকি খুঁজে পেল একাধিক সংবাদ মাধ্যম। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে তারা জানতে চাইছে যে এই হুমকির পোস্টার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেলেও পুলিশ কেন হাত গুটিয়ে বসে আছে? সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে এক সময় জঙ্গল মহলে এই ধরনের পোস্টার দেখা যেত যা এখন রায়গঞ্জ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

একটু খোঁজ নিতেই জানা গেল এটা মোটেই কোনো রাজনৈতিক পোস্টার নয়। আসলে একটি বিজ্ঞাপনী পোস্টার। ২০১৩ সালে রায়গঞ্জে প্রথম ‘অভিসন্ধি’ নামক ক্ষুদ্র পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কিন্তু পত্রিকাটি অনিয়মিতভাবে কিছুদিন প্রকাশিত হওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায় তার প্রকাশনা। আগামী মে মাসে পুনঃ প্রকাশ হতে যাচ্ছে আরো ভালো ভাবে। তারই বিজ্ঞাপন হিসেবে এই পোস্টার ছড়ানো। বিভিন্ন সময়েই রায়গঞ্জে এধরনের সাসপেন্স তৈরি করা বিজ্ঞাপন আগেও লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেমন এখনও রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ‘হ্যায় তৈয়ার হাম’ লেখা হোর্ডিং দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এটা কিসের বিজ্ঞাপন তা মোটেই পরিস্কার নয়। তবে ‘অভিসন্ধি’ পত্রিকার এই বিজ্ঞাপনী ভাষা শুধু অভিনব নয়, সাহসীও বটে। কিন্তু বিজ্ঞাপনে এই ভাষাই কেন? প্রশ্নের উত্তরে পত্রিকার সম্পাদক শান্তনু মিশ্র জানিয়েছেন, ” আসলে প্রথম লাইন দুটো কবি রঞ্জন আচার্যর কবিতা থেকে তার অনুমতি নিয়েই নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যখনই যা প্রতিবাদ হয়, অধিকার আদায়ের আন্দোলন হয় তার উপর রাষ্ট্র যখন দমন পীড়ন নামিয়ে আনে তখন এই প্রশ্ন মনে আসে। এটা নতুন কোনো কথা না।” তিনি আরও বলেন যে অভিসন্ধি যে একটা পত্রিকা এটা কেউ জানে না ব্যাপারটা মোটেই এমন না। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেমন হিরণ মিত্র( বিখ্যাত প্রচ্ছদ শিল্পী), অনিন্দ্য ভট্টাচার্য, নাট্যকার সৌরভ পালধী সহ আরো অনেকেই ইতিমধ্যে এই পত্রিকায় লেখা পাঠানোর সম্মতি দিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যম যারা এটিকে হুমকি পোস্টার হিসেবে দাগিয়ে দিয়েছেন তাদেরও নিজেদের আরো ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। তাঁরা একটু অনুসন্ধানী হলেই মুল বিষয়টি জানতে পারতেন। ” হয় তো মুল বিষয়ের চেয়ে খবর হিসেবে ‘মাওবাদী পোস্টার’ পাঠক বা দর্শকের মনে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করে। তবে পুলিশের গোয়েন্দা দফতর আগেই এই বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল। তাদের আমি বিষয়টি বোঝাতে পেরেছিলাম। সংবাদ মাধ্যম পুলিশের কাছে জানতে চাইলেও সঠিক তথ্য জানতেই পারতো। ‘

শান্তনু বাবুর আক্ষেপ যে সংবাদ মাধ্যমের কথায় প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোটা বিষয়টি জানার আগেই শুধুমাত্র ধারণার বশবর্তী হয়ে যে ধরনের মন্তব্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে করেছেন সেটা তাকে হতাশ করেছে।

125