১৮/৩/২০২১,

ওয়েবডেস্কঃ ছোটবেলা থেকে উচ্চ শিখরে থাকাই তার একমাত্র ধ্যান। সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল মধ্যমিকেও। ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে রাজ্যে ৩য় স্থানে ছিল রায়গঞ্জ কলেজপাড়ার ক্যামেলিয়া রায়।

আর এবারেও আবার নজির গড়ল সর্বভারতীয় স্কলারশিপের পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে । কিশোর বিজ্ঞানী প্রোৎসাহন যোজনার পরীক্ষায় সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ১০৬।

সর্বভারতীয় স্তরের স্কলারশিপের চুড়ান্ত পরীক্ষায় সফল হল, রায়গঞ্জ করনেশন হাই স্কুলের ছাত্রী ক্যামেলিয়া রায়। সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় তার নাম উঠতেই খুশির ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে পরিবারের সকলের মধ্যে। ভুপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাঞ্ঝিরাম রায় এবং একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা মাধুরী পাল রায়ের প্রথম সন্তান ক্যামেলিয়া রায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় রায়গঞ্জ গার্লস স্কুল থেকে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

এরপর আবারও সাফল্যের মুখ দেখালো ক্যামেলিয়া। আজ ক্যামেলিয়া জানায় যে আগামী দিনে সে বিজ্ঞানী হতে চায়। তাই পদার্থ বিদ্যা নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে গবেষণা করতে চায়। ক্যামেলিয়ার কথায়, কিশোর বিজ্ঞানী প্রোৎসাহন যোজনার পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১০৬ এ নাম আছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর যাবতীয় বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তার কথায়, ” অন্যান্য সব পরীক্ষার মতই এটারও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং পরীক্ষায় দিয়ে সফল হয়েছি। “

এই পরীক্ষায় সফলতা পাওয়ায় আগামী দিনে আমার উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য একটা বৃত্তি পাব।’ সে জানায়, ‘তার এই সফলতার পেছনে তার বাবা ও মায়ের অবদান অপরিসীম। এছাড়াও একটি প্রসিদ্ধ কোচিং সংস্থা ও প্রাইভেট শিক্ষকেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছেন।’ আজ এই সাফল্যের দিনে তাদের সকলকেই শ্রদ্ধা জানিয়ে সে বলে, ‘এই পরীক্ষার জন্য আলাদা ভাবে সময় বের করিনি। দিনে ১০-১২ ঘন্টা করে স্বাভাবিক নিয়মেই পড়াশোনা করেছি।’

ক্যামেলিয়ার মা মাধুরী দেবী মেয়ের এই সাফল্যে উৎফুল্ল। তাঁর কথায়, “ক্যামেলিয়া এই পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে, সেই পরীক্ষায় ও সফল হওয়ায় আমরাও খুশি।’ আগামীতে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনিস্টিউট অফ সায়েন্সে ওর পড়াশোনার ইচ্ছে রয়েছে জানিয়ে মাধুরী দেবী বলেন, ওর বাবা বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হওয়ায় বিষয় ভিত্তিক পড়াশোনা দেখিয়ে দিতেন। ক্যামেলিয়ার এই সাফল্যে খুশি তার পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক কৌশিক চক্রবর্তী। মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন হাই স্কুলের শিক্ষক কৌশিক বাবু বলেন, ক্যামেলিয়ার মত স্টুডেন্ট পেয়ে আমি ভীষণ সন্তুষ্ট।

ও ভীষণ পরিশ্রমী এবং লক্ষ্যে অবিচল। আগামী দিনে রায়গঞ্জের সুনাম আরও ছড়িয়ে পড়ুক। রায়গঞ্জ করনেশন হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভাশিস বসাক স্কুলের ছাত্রীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘ক্যামেলিয়া আমাদের স্কুলের উজ্জ্বল একটি তারা। দিন কয়েক আগেই খবরটা পেয়েছি। ক্যামেলিয়ার এই সাফল্যে ভীষণ ভালো লাগছে। আগামী দিনে ওর আরও সাফল্য আসুক।’

216