স্নিগ্ধা সরকার

একটু ল্যাপটপটা চালিয়ে দে  বাবা। দিয়ার বিয়ের ছবিগুলো দেখি। 

নিজে চালু করো। 

দে না বাবা। আমি পারিনা জানিসই তো। 

দাও মা আমি বের করে দিচ্ছি। 

না বুনু । আজ মা নিজে করবে। কতদিন বলেছি এসো শেখাই। শুধু একটাই কথা আমি পারবোনা। 

আর যদি কিছু ভুল করে ফেলি। তখন ল্যাপটপটাতো নষ্ট হয়ে যাবে। 

একদম ফালতু এক্সকিউজ দিওনা।  গতসপ্তাহে সরলাপিসি ফেসবুকে আপডেট দিয়েছে ‘সস্তায় কাজেরলোক চাইলে কমেন্টবক্সে যোগাযোগ করুন।’ কাল আবার দেখি হোয়াটস অ্যপে স্ট্যাটাস দিয়েছে ‘দুদিনের ছুটিতে দেশেরবাড়ি।’ ওরা পারে আর তোমার খালি ভয়।  ওদের দেখে শেখো। 

আমিতো… 

আমিতো আবার কি। শুধু বাহানা … 

বড়মেয়ের কাছে আচ্ছা করে বকা খেয়ে মনে মনে বাগদেবীকে স্মরণ করে  ল্যাপটপ চালু করলো ভারতীদেবী। তারপর মেয়ের নির্দেশ মত শুরু হলো ল্যাপটপ হ্যান্ডেলিং করা। সেদিনের মতো ছবি দেখে ছুটি পেল ল্যাপটপ আর বড়মেয়ে পৃথার কাছ থেকে। 

এরপর থেকে চলে নিয়মিত ক্লাস। বড়মেয়ে বাড়ি না থাকলে যন্ত্রটাকে বাগে নেওয়ার প্রক্রিয়াটা শিখে নেয় ছোটমেয়ে তৃধার কাছ থেকে।

………………….

খুব ঘুড়ে এলি দেশের বাড়ি।

অনেকদিন বাদে গেলাম এবার। জায়গা-জমির ভাগাভাগি হলো যে।

পম বলল তুই কাজ খুঁজছিস। আমার কাজটুকুই না হয় কর। এই ঠান্ডা আর গাঁটের ব্যাথায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। 

ঠিক আছে কাল থেকে চলে আসবো। বৌদিগো তুমি এতসুন্দর গান করো জানতাম না তো। 

তুই কোথায় শুনলি।

তোমার বড়মেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছিল পরশু। তুমি গান গাইতে গাইতে রান্না করছিলে আমি দেখলাম তো।

………………….

চারজন একসাথে বসে ডিনার করার সময় ভারতীদেবী পৃথাকে বলে, “আমার গান তুই সবাইকে দেখিয়ে দিলি?” 

নিজের গুনগুলোকে  ধামাচাপা দিয়ে রেখে দিলে আজীবন। আমি এখন ঐ ধামা সরিয়ে সব সামনে আনবো। তোমার পেজ খুলে দিয়েছি ওটা হ্যান্ডেল করা শেখাবো এখন। 

 “মায়ের তাহলে খুব কড়া ট্রেনিং চলছে।” সুকেশবাবু বললেন। 

নানা তেমন না। বাবা তুমি মাকে একটা অ্যান্ড্রয়েড সেট কিনে দাও। 

আমার এটাতে তো হয়ে যায়। 

ওটা ফেলে দাও। ওটাতে আর কিছু হবেনা। 

বড়মেয়ের তত্ত্বাবধানে আর নিজের সুপ্ত প্রতিভার বলে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যুগোপযোগী করতে খুব বেশি সময় লাগলোনা ভারতী মুখার্জীর।

79