বামদিকে পুলিশের লাঠির ঘায়ে মৃত মইদুল ইসলাম মিদ্যা ও ডান দিকে নিখোঁজ যুবক দীপক পাঁজা।

বাম ছাত্র-যুব সংগঠন গুলোর আহ্বানে গত ১১ই ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ পাঁশকুড়ার ডিওয়াইএফআই-এর কর্মী দীপক পাঁজা। পাঁচ দিন হয়ে গেল দীপকের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে গতকাল শহীদ হয়েছেন বাঁকুড়ার কোতলপুরের ডিওয়াইএফআই-এর শাখা সম্পাদক মইদুল ইসলাম মিদ্যা। এই খবর আসার পর থেকেই চরম আতঙ্ক গ্রাস করেছে দীপকের পরিবার ও তার সহযোদ্ধা কমরেডদের! জানা গিয়েছে সাধারণ সমর্থক হয়েও দলের প্রতি টান ছিল খুব দীপকের। দলের প্রায় সব কর্মসূচিতেই অংশ নিতে দেখা যেত। নিখোঁজ দীপকের স্ত্রী সরস্বতী পাঁজা জানান, তাঁর স্বামী ১১ তারিখ সকালে বেরিয়ে যান, তারপর থেকে আর হদিশ নেই তাঁর। তাঁর স্ত্রীর কথায়, ‘দীপক কলকাতায় তেমন কিছু চেনেন না। সহজ সরল মানুষ। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’ পাড়ার ছেলের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বাহারকোটা গ্রামের বাসিন্দারাও। নিখোঁজের পরিজনদের দাবি, দীপক পাঁজা বৃহস্পতিবার বামেদের নবান্ন অভিযানে সামিল হয়েছিলেন। তারপর চারদিন পেরোলেও কেন ঘরে ফেরেননি তিনি তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। নিখোঁজ যুবকের ভাই অমৃত পাঁজা জানান, পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিক ৷ একটু তৎপর হয়ে তাঁর খোঁজ করুক।

লালবাজারের সামনে বক্তব্য রাখছেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি ।

ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যে কলকাতায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। মইদুল ইসলাম মিদ্যা ওরফে ফরিদের মৃত্যুর পর দীপককে নিয়েও চিন্তা বেড়েছে নেতৃত্বের মধ্যেও। আজ মধ্যরাতে লালবাজার অভিযানে বক্তব্য রাখার সময় সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি বলেন আমরা পুলিশ কে দুদিনের আলটিমেটাম দিয়েছি। তার মধ্যেই দীপক পাঁজা কে খুঁজে বের করতে না পারলে কলকাতা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার ছিল বাম-ছাত্র যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযান। যাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মধ্য কলকাতা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেধরক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বাদ যায়নি জল কামান থেকে কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার। কমপক্ষে চারশ নেতা কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মধ্যে গতকাল মারা যান মইদুল মিদ্যা। নিখোঁজ হওয়ার কথা জানতে পেরে দীপক পাঁজার বাড়িতে যান পাঁশকুড়ার বাম বিধায়ক ইব্রাহিম আলি৷ তিনি জানিয়েছেন, হাওড়ার দিক থেকে বামেদের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন দীপক৷
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সিপিএম পঞ্চায়েত সদস্য প্রবীর পাইকের নেতৃত্বে ওই এলাকার ছ’জনের একটি দল নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে ট্রেনে হাওড়া গিয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন দীপকও। ওই দিন কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে দীপকদের দলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপরে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বছর পঞ্চাশের দীপক পাঁজার।

168