Categories
জেলার খবর

পুরুলিয়ায় পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ মহিলাদের!

ওয়েবডেস্কঃ পানীয় জল প্রকল্প শুরু হবে এই আশায় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল জনতা। ভোট পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আজ পর্যন্ত ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম পানীয় জল প্রকল্পের কোনওরকম ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাই বিধানসভা ভোটের আগে পানীয় জলের দাবিতে পথ অবরোধ করলেন তাঁরা। পানীয় জলের সংকটে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদকে ঘিরে বিক্ষোভ মহিলাদের। সোমবার পানীয় জলের দাবিতে শিলদা বাজার এলাকায় পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কে অবরোধ শুরু করেন মহিলারা, অবরোধ চলাকালীন ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ। পথ অবরোধের জেরে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান সাংসদ। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের দাবি, বিজেপি সাংসদ প্রতিশ্রুতি দিলেও পানীয় জলের সংকট মেটাতে কোনও উদ্যোগ নেননি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি শিলদাতে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা, তাদের অভিযোগ ছিল,পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে দিচ্ছে না তৃণমূল । পথ অবরোধের দু’দিন পরেই পালটা পথ অবরোধ স্থানীয়দের।

উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খড়গপুর আইআইটি’র বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের কালিয়ামের পাথর খাদানের অগভীর জলাশয় থেকে শিলদা অঞ্চলে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংসদ।তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ।

এদিকে, এদিন পথ অবরোধের জেরে ৫ নম্বর রাজ্য সড়কে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিনপুর থানার পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে। অবরোধ উঠে যায়। এ বিষয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “আমাদের সর্বভারতীয় সভাপতি মঙ্গলবার আসছেন। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসার সময় শিলদাতে অবরোধে আটকে পড়ি। আমি অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। জল প্রকল্পগুলি কার কাজ? এটা রাজ্য সরকারের কাজ। আর এই জল প্রকল্পগুলির কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই বিক্ষোভ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ছিল। আমাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও আন্দোলন করেনি।”

অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম জানান, “করোনার জন্য সাংসদ তহবিলের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের অনুদান রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার করছে না। ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে তাও কোনও কাজ করছেন না জেলাশাসক। আর আগের সাংসদের কিছু টাকা রয়েছে তারও হিসেব দিচ্ছেন না জেলাশাসক। আমি চার পাঁচটি চিঠি লিখেছি জেলাশাসককে। কিন্তু উনি চিঠির কোনও জবাব দেননি। রাজ্য সরকার যদি জল প্রকল্পের কাজ না করেন তাহলে আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমি করে দেব।”

শিলদা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান শিপ্রা বেজ বলেন, “আমরা সব সময় উন্নয়নের পক্ষে। সাংসদ নিজে জলপ্রকল্পটি রূপায়িত করতে পারেননি। এখন আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছেন।”

53

Leave a Reply