ফেব্রুয়ারি ৮,২০২১:গত বছরের মার্চ মাস থেকে গোটা পৃথিবীর মত আমরাও এক ভয়ংকর সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি।এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ত বিগত কয়েক প্রজন্মকে হতে হয়নি ।কোভিড ১৯ নামক virus আমাদের জীবনকে করে তুলেছে ভীত, উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত ।লকডাউন এর সময় থেকে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আমিও ছিলাম আতঙ্কিত বিশেষত বয়স্কা মা ও শিশু কন্যা কে নিয়ে । যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সত্যেও আমি সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ কোভিড আক্রান্ত হই । আমার প্রবল জ্বর না থাকলে ও পাঁচ ছয় দিন ধরে শরীরটা খারাপ লাগছিল । খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া, দূর্বলতা এবং শেষে গন্ধ না পাওয়া । মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ে হাসপাতালের fever clinic যাই ।ওখানে আমাকে পাঁচ দিনের Antibiotic দেয় এবং RTPCR TEST এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ।প্রচন্ড মানসিক উৎকণ্ঠা নিয়ে রাত কাটিয়ে পরদিন জানতে পারি আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছি। আমি অবশ্য আগেই বাড়ির দোতলায় নিজেকে isolate করে নিয়েছিলাম । স্বাস্থ্য দফতর থেকে যোগাযোগ করলে জানাই আমি home isolation এ থাকতে চাই । পরদিন বাড়ি sanitized করে যায় । Dr P S.Das এর সাথে যোগাযোগ করেওষুধের ব্যবস্থা করা হয় । যে দু চার জন বন্ধু শুধু ফোনে খোঁজ না নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস বাড়িতেদিয়ে গিয়েছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে অপরাধ করা হবে । ঈশ্বরের কৃপায় বাড়ির আর কেউ আক্রান্ত হয় নি । সেই সময় টা প্রচন্ড মানসিক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে কাটিয়ে ছিলাম ।আমার স্ত্রী আমাকে সময় মত খাওয়ার দিয়ে যেতো আর বাসনজামা কাপড়কাচা সবই নিজেই করেছি যাতে আমার থেকে আর কেউ আক্রান্ত না হয় ।সরকারি ভাবে Repeat test এর সুযোগ না থাকায় জানতে পারিনি কবে আমি negative হয়েছিলাম ।প্রায় মাসখানেক দূর্বলতা থাকার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠি।
করোনা নামক অতিমারি কে পরাস্ত করে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবো কিন্তু স্বজনমানুষের ক্ষত কোনো দিন পূর্ণ হবে না ।এই অতিমারি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অস্ত্রের জোরে উন্নত না হয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরো উন্নতি করতে হবে ।শুধু ভোগবাদ আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে পারে না ।

109