Categories
Uncategorized

কোভিড কথা : নারায়ন চন্দ্র দাস

ফেব্রুয়ারি, ৩,৩০২২১:বড্ড খারাপ গেল  ২০২০ সালটা।করোনা যেন চারপাশের সকল স্বাভাবিক জিনিসগুলোকে এক লহমায় অস্বাভাবিক করে তুলল। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী।জীবনের দীর্ঘ সময় ফুটবল খেলার সাথে যুক্ত থেকেছি। একদিকে যেমন বয়স হলো ৮০ বছর অন্যদিকে ২০১৫ সালে অপারেশনে একটা কিডনি ও বাদ গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক নিয়মের মধ্যে চলি। কোভিড পরিস্থিতিতে আমার মেয়ে বাড়িতে আরো নিয়ম জারি করল। সেই সকল নিয়ম এবং আমার চিকিৎসকের পরামর্শ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে দীর্ঘ নয় মাস অতিক্রম করে ফেললাম। এত সাবধানতার পর গৃহবন্দি জীবনে কোভিড আক্রান্ত হলাম। নভেম্বর মাস,অল্প অল্প করে শীত পড়তে শুরু করেছে, এমন সময় বাড়িতে আমার মেয়ে জামাই নাতনিরা কোভিড আক্রান্ত হল। বাড়িতেই টেলিফোনে ডাক্তার সুদেব সাহা পরামর্শে ওদের চিকিৎসা চলছিল। আমায় যাতে সুস্থ রাখতে পারে তার চেষ্টা ওরা অনেক করেছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কালীপুজোর রাতে জ্বর ও বেশ গলা ব্যথা অনুভব করতে শুরু করি কিন্তু কাউকে কিছুই জানায়নি। এভাবেই দু দিন কেটে যায়। শরীর আরো খারাপ হতে থাকে অতঃপর বাধ্য হয়েই বাড়ির লোকজন দের জানাই। ডাক্তার পারভেজ আলমের পরামর্শে টেস্ট করাই,পরদিন রিপোর্ট পজেটিভ আসে। স্বাস্থ্যভবন,জেলা কোভিড হেল্পলাইন নানান জায়গা থেকে ফোন আসতে শুরু করে জামাইয়ের ফোনে এবং বলা হল আমি নাকি সুপার স্প্রেডার অতএব আমার বাড়িতে থাকা চলবে না। মেয়ে জামাই আমাকে নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত হয়ে পড়ে। আমার খাওয়া-দাওয়া ওষুধপত্র প্রত্যেক সপ্তাহের ইনজেকশন এত সব নিয়মকানুন এবার কি করে চলবে?যাইহোক দু’ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স আসে নাতনিরা আমার সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয়, আমি একাই সব জিনিসপত্র নিয়ে এম্বুলেন্সে উঠে বসি। গন্তব্য স্থানীয় কোভিড হাসপাতাল মিক্কি মেঘা। শরীরে খুব বেশি সমস্যা কিছু হচ্ছিল না কিন্তু একদিন পর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেল হিমোগ্লোবিন যথেষ্টই কমে গিয়েছে। হাসপাতালে পরিবেশে প্রথমে খুব অসহায় লাগলেও আস্তে আস্তে মানিয়ে নিয়েছিলাম। যেহেতু আমার খাবারের যথেষ্ট বিধিনিষেধ আছে তাই খাওয়া-দাওয়া ওষুধ পত্রের ব্যাপারে অনেক শুভানুধ্যায়ীর যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। কোভিড আক্রান্তদের সমাজ যেমন অনেক ক্ষেত্রে বয়কট করে তেমন আবার অনেক ভালো মানুষ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। হাসপাতালে অনেক মানুষের মাঝে ভয় কাটিয়ে মানিয়ে নিচ্ছিলাম ঠিক সেই সময়ই আমার বন্ধু স্থানীয় রমেন সান্যাল কে নিজের চোখের সামনে চলে যেতে দেখলাম। ওর মৃত্যু আমায় যথেষ্টই আঘাত করেছিল খুব ভেঙেও পড়েছিলাম। পরদিন হাসপাতালে নিচের তলা থেকে টেস্ট করিয়ে ফেরার সময় অধ্যাপক দিলীপ ঘোষকে দেখে এলাম। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন এই দেখে আমি আবার একটু আশ্বস্ত হলাম। এভাবেই মনে পরিবারের সকলের চিন্তা নিয়ে আরো দুদিন কাটিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে ছুটি পেলাম।

বাড়ি ফিরে এসে দুদিন বিশ্রাম করে আবার ফুটবলার স্পিরিট নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলাম। হাসপাতালে কর্মরত কিছু মানুষ এবং শুভানুধ্যায়ীরাযেভাবে সাহায্য করেছিলেন, আমরা সবাই তাদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। সব কিছু আগের অবস্থায় ফিরে আসুক, সকলের সুস্থতা কামনা করি।আমার অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করতে পারার জন্য কুলিকইনফোলাইন কে অনেক ধন্যবাদ।

62

Leave a Reply