Categories
অন্য খবর

বঙ্গোপসাগরের মাঝে নির্জন ‘ভাসান চরে’ একদল রোহিঙ্গাদের পাঠাল বাংলাদেশ

৩১/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

রয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ। তা উপেক্ষা করেই একদল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে পাঠালো বাংলাদশ সরকার। শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে নৌবাহিনীর চারটি জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের আরও একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

কোথায় এই ‘ভাসান চর’?
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ হল ‘ভাসান চর।’ দু’দশক আগেও সমুদ্রের নীচে তলিয়ে ছিল এই দ্বীপটি। আসতে আসতে পলি জমে গড়ে উঠেছে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ। ভারতীয় মুদ্রায় ৮০০ কোটিরও অধিক টাকা খরচ করে সেখানে হাসপাতাল, মসজিদ গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ সরকার। সেখানেই ঠাঁই হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। ডিসেম্বরের শুরুতে ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাদের পাঠানো হয়েছিল সেই দ্বীপে। এবার দ্বিতীয় দফায় সেখানে গেলেন আরও একদল রোহিঙ্গা।

বছর ২০ আগেও এই দ্বীপের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। তার পর আস্তে আস্তে পলি জমে এই দ্বীপটি তৈরি হয়েছে। বর্ষার সময় নাকি এখনও ডুবে যায় এই দ্বীপটি। তবে সরকারের তরফে বন্যা আটকানোর জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ভাসান চরে ভারতীয় মু্দ্রায় প্রায় ৮২১ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ঘর বাড়ি হাসপাতাল মসজিদ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সে বারও মানবাধিকার সংগঠনগুলি আপত্তি তুলেছিল। তাদের দাবি, অনেক রোহিঙ্গাই সেখানে যেতে রাজি নন। তাঁদের জোর করে সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সরকারি সংস্থার এক আধিকারিক জানান, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে চতুর্থ দফায় আরও অন্তত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে এক লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে উন্নতমানের আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা ঘর, আধুনিক সেনিটারি পদ্ধতি, বিশুদ্ধ খাবার জল, স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য হাসপাতালে ও ক্লিনিং এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদানের জন্য সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

61

Leave a Reply