২১/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলায় ভোটের কথা আসলেই রক্তক্ষয়, মারামারি , জ্বলন্ত ব্যালটবক্স চোখের সামনে ভেসে ওঠে।ফলে এমন পরিস্থিতিতে যখন রাজ্যে ভোটের কথা উঠলেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন রাজ্যবাসী তখন রাজ্যে পা রেখেই নির্বিঘ্নে ভোট করানোর বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
রাজ্যের আধিকারিকদের প্রতি তাদের স্পষ্ট বার্তা “নির্ভয়ে কাজ করুন। কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে যথাসম্ভব পদক্ষেপ নিন। আমরা জানি কীভাবে ভোট করাতে হয়।”
বুধবার শহরে পা রেখেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আজিজ আফতাবকে এমনই বার্তা দিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে পৌঁছেই সিইও আজিজ আফতাবের সঙ্গে বৈঠকে বসে। রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার তথা এডিজি আইন শৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিংয়ের সঙ্গেও এদিনই ফুল বেঞ্চের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয় সেই সূচি । আগামি বৃহস্পতিবার দিনের প্রথমার্ধেই তাকে তলব করেছে কমিশন। জ্ঞানবন্ত সিং জানিয়েছেন সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ তিনি ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করবেন।

এদিকে আরিজ আফতাবের সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের বৈঠকে নিজেদের কড়া মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে ফুল বেঞ্চ। সিইওর দপ্তরের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে অভয় দিয়ে কমিশনের বার্তা, এ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। কমিশনের চোখ, কান ও মুখ বলতে যা বোঝায় তা হল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। নির্দেশ পালনে যেন কোনও খামতি না থাকে। নির্বাচনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের যথাসম্ভব নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এবার পশ্চিমবঙ্গে ১০০ শতাংশ হিংসামুক্ত নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সেজন্য যা যা পদক্ষেপ প্রয়োজন তা কমিশন করবে। কোনওরকম ভুল বরদাস্ত করা হবে না। জেলা প্রশাসনগুলিকে কমিশনের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিতে বলেছে বেঞ্চ।

এবারের ভোটে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার হাল ফেরাতে উঠে পড়ে লেগেছে নির্বাচন কমিশন। বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার হিংসা ঠেকাতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের এক কর্তার কথায়, “বিগত ভোটগুলিতে যে হিংসার ছবি রাজ্যে ধরা পড়েছে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার প্রথম থেকেই হাল ধরতে চাইছে কমিশন। উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন রাজ্যে এসেই সেই মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।” গত কয়েকদিন আগেই রাজ্যে এসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন উপ নির্বাচন কমিশনার। অবিলম্বে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বলার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলার হাল ফেরাতে যথাসম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুদীপ জৈন। দিল্লি ফিরে কমিশনের দপ্তরে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের এমন কড়া মনোভাব রাজ্যবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে ভোট নিয়ে। তবে বাস্তবে তা কতটা প্রতিফলিত হয় তা দেখতেই সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজ্যের মানুষ।

41