Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার: মেগা প্রবন্ধ :পর্ব ৩৪

বাংলা ছোটগল্পে মুসলিম জনজীবন

পুরুষোত্তম সিংহ

দেশভাগের পর এপার বাংলার কথাসাহিত্যে মুসলিম জনজীনের কথা বিশেষ ভাবে পিছিয়ে পড়ে। অভিজ্ঞতার অভাব সহ ছিল পাঠকরুচির অভাব। সদ্য একটি দেশের খণ্ডিত অবস্থার জন্য মানুষ সেই সম্প্রদায়কেই দায়ী করে বসল। আর কথাকাররা পাঠক হারানোর ভয়ে সে সমাজের প্রতি নজরই দিলেন না। ফলে নিজস্ব সমাজের কথা নিজের মতো করে বলার দায়িত্ব তুলে নিতে হল সৈয়দ মুস্তফা সিরাজকে। সেই ধারাতেই পরবর্তীকালে এসেছেন আবুল বাশার, সোহারাব হোসেন, আনসারউদ্দিন, নীহারুল ইসলাম সহ একাধিক কথাকার। আনসারউদ্দিনের( ১৯৫৯) বড় হয়ে ওঠা নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ার শালিগ্রামে। পেয়েছেন ‘সোমেনচন্দ্র পুরস্কার’, ‘ইলাচন্দ্র পুরস্কার’ ও সাম্প্রতিক ‘অহনিশ পুরস্কার’। আনসারউদ্দিনের প্রথম গল্প সংকলন প্রকাশিত হয় ধ্রুবপদ থেকে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ‘আনসারউদ্দিনের গল্প’ নামে। ইতিমধ্যেই আনসারউদ্দিনের অনেকগুলি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে – ‘আনসারউদ্দিনের ছোটোগল্প’ (১৯৯৮), ‘আনসারউদ্দিনের গল্পসংগ্রহ’ (২০০৩), ‘শোকতাপের কথামালা’ (২০১৪) ও ‘গণিচাচার খেত খামার’ (২০১৭)। রুশতি সেন ‘সমকালের গল্প উপন্যাস : প্রত্যাখ্যানের ভাষা’ গ্রন্থের ‘কথার কথা’ অংশ আনসারউদ্দিন সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে লিখেছিলেন-

“আনসারউদ্দিনের সঙ্গে পাঠকের অপরিচয় হয়তো কোনো সরলীকৃত মন্তব্য বানিয়ে তুলতে পাঠককে সাহায্য করে। যে নিরাবরণ ভাষার অন্বেষণ দেবেশ রায়ের অভিজ্ঞ লেখনী হাহাকার করেছে, সেই ভাষা কি আনসারউদ্দিনের নাগালের অনেক কাছাকাছি ? এরকম প্রশ্ন তুলতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই, আধুনিকতার যে সংকটে সমকালীন বাংলার শক্তিমান কথাসাহিত্যিক এবং তাঁর খানদানি পাঠক-আলোচকরা বিড়ম্বিত, সেই সংকট থেকে তো আনসারউদ্দিনের পরিত্রাণ নেই। তাই তিনি বরং নিজের একেবারে মৌলিক অভিজ্ঞতাকে অথবা কল্পনাকে খানিকটা বর্জন করতে প্রস্তুত ; কিন্তু এতদিন ধরে এত রথী মহারথীর স্পর্শে সমৃদ্ধ আমাদের বাংলা গদ্য ভাষাকে তিনি আঁকড়ে ধরতে চান। শিক্ষিত পাঠকের অভ্যাসকে প্রত্যাখ্যান করবেন, এমন সাহিত্যিক আস্থায় তিনি চট্‌জলদি পৌঁছতে পারেন না। আনসারউদ্দিনের সমসাময়িক বা কিছু আগে-পরের লেখকরা অনেকেই যে প্রচুর পরিমাণে আজকাল লেখেন বা লিখতে পারেন, তেমন পরিমাণগত প্রাচুর্যও আনসারের সাধ্যের বাইরে। জীবনযাপনের ভিতর থেকে লিখবার সামান্য সময়টুকু বের করে আনতেই তাঁকে অনেক যন্ত্রণা, অনেক বিরুদ্ধ চাপ সইতে হয়। এখনো পর্যন্ত তাঁর একটিও উপন্যাস পাঠক হাতে পাননি। বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ ইতিহাস আনসারউদ্দিনকে আলোচনার যোগ্য লেখক হিসেবে মানবে কিনা, তা নিয়ে এখনো বিস্তর সন্দেহ আছে।“ (পৃ. ৭)

লেখিকা এ মন্তব্য লিখেছিলেন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে। আজ আর সন্দেহ নেই আনসারউদ্দিন এ সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য কথাকার। বৃহত্তর বঙ্গের পাঠকের কাছে তিনি আজ পৌঁছে গেছেন লেখনীর গুণেই। আনসারউদ্দিনের জীবনের প্রথম গল্প ‘আবাদ’, যা প্রকাশিত হয়েছিল দিলীপ মজুমদারের ‘বনামি’ পত্রিকায়। একদিন ছেলের বাতিল খাতায় লিখে ফেললেন ‘আবাদ’ নামে একটি গল্প, তা নিয়ে গেলেন গ্রামের শিক্ষক সুন্নাত সাহেবের কাছে। তিনি গল্প পড়ে খুশি হলেন, এমনকি পরিবারের সবাইকে দ্বিতীয়বার গল্প শোনালেন। বাকিটা লেখকের মুখ থেকেই শোনা যাক –“সুন্নাতসাহেবের হাঁকডাকে তাঁর স্ত্রী ছেলে মেয়ে সবাই অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে এল। পরিবারের সবাই হুড়মুড়িয়ে চটজলদি বেরিয়ে এলে বাড়ির একমাত্র বেড়াল একা থাকে কী করে ? সে এসে তার পছন্দসহ এক কোণে লেজ গুটিয়ে বসে থাকল। সুন্নাতসাহেব আবার পড়তে শুরু করলেন। এবার জোরে জোড়ে পড়া শেষ করে পড়ার দোকান থেকে মিষ্টি আনলেন। বললেন, আজ শুভ দিন। বাবাজি ভবিষ্যতে বড়ো গল্পকার হবে।“ (জীবনের কথা যাপনের কথা, অভিযান, প্রথম প্রকাশ ২০১৯, পৃ. ৪৮ )। এরপর অনেকগুলি কবিতা ও এই গল্পটি পাঠিয়ে দিলেন ‘বনামি’ পত্রিকায়। সম্পাদক কবিতা বাদ দিয়ে গল্প ছাপলেন, আমরা পেলাম কথাকার আনসারউদ্দিনকে।

        প্রথম গল্পেই তিনি গেলেন মুসলিম বিপন্ন দরিদ্র মানুষের কাছে। আসলে অভিজ্ঞতাই তাঁকে দিয়ে গল্প লিখিয়ে নিয়েছে। চাষির জীবনের বিপন্নতা, অর্থহীনতা, দৈনিক শ্রেণি সংগ্রামের যে ধরাবাধা জীবন তাই তিনি তুলে ধরেছেন। শুধু অর্থহীনতা নয় কৃষককে সংগ্রাম করতে হয় প্রকৃতির সঙ্গেও, প্রকৃতির লীলার কাছে মানুষ যেন এক অসহায় জীব। সেই প্রকৃতির কাছেই পরাজয় মেনেছে ‘আবাদ’ গল্পের মোমিন। আনসারউদ্দিনের গল্প থেকে গ্রামীণ কৃষি বিবর্তনের চিত্র খুব সহজেই আবিষ্কার করা যায়। কেননা লেখক নিজেও কৃষক বলে কৃষি চিত্রের বিবর্তন তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। এ গল্পেও মোমিন বহু কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছে। জলের অভাবে নিজেই হাতকল চালিয়ে দিনের পর দিন জল দিয়ে ধান গাছকে প্রস্তুত করে ফেলেছে। অথচ কৃষকের মুখে যখন হাসি ফোটার কথা তখনই বজ্রবিদ্যুৎ এ সমস্ত হাসি মলিন হয়ে গেছে। কৃষকের করুণ আর্তনাদে সাড়া দেয় নি প্রকৃতি। শোনে নি কৃষকের দরিদ্রের কথা। সাড়া মাঠ বজ্রবিদ্যুৎ এ সাদা হয়ে গেছে। প্রথম গল্পেই আনসারউদ্দিন যে ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্প ব্যবহার করলেন তা বিশেষ মর্যদা দাবি করে। সহজ সরল বাক্যে কৃষিজীবনের এক অচেনা দিক নিপূণ ভাবে দেখালেন –

“নধর ধানগাছগুলো এখন ঝাঁটার মতো গোছা করেছে। এই মুহূর্তে সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলে যায়। গেরিলা কায়দায় আল বরাবর শুয়ে ক্ষেত বরাবর নজর দেয়। ধানগাছগুলোর লাইন একটুও বাঁকা চোরা হয়নি। যেন বড় জামাতের নামাজীদের মতো প্রতিটি গোছা ইদের ময়দানে দাঁড়িয়ে গেছে। মোমিনের মনে আছে চাষের মরশুমের আগে সরকারি অফিস থেকে লোক এসেছিল। গাঁয়ের বেবাগ লোক ডেকে বলেছিল, লাইন করে ধান লাগাবেন। তারজন্য জীবাণুমুক্ত বীজ চাই। বিঘেতে চল্লিশ কেজি সুপার ফসফেট, বিশ কেজি ইউরিয়া, বিশ কেজি পটাশ। প্রয়োজন মতো কীটনাশক বুঝেছেন।“ (‘আবাদ’, ‘আনসারউদ্দিনের গল্পসংগ্রহ’, প্রথম প্রকাশ ২০০৩, পৃ. ৫)

                আনসারউদ্দিন গল্প লেখেন বিপন্ন মানুষদের নিয়ে।  তিনি উজান স্রোতে হাঁটতে ভালোবাসেন। নিজের ভূগোলে বসে নিজের সমাজের কথা বলেছেন নিজের মতো করে। সেই বিপন্ন সমাজের কথা তিনি কথকতার আঙ্গিকে তুলে ধরেন। দেশজ- লোকজ ঘরনাকে নিয়েই সৃষ্টি ভুবনের পটচিত্র সাজান। আনসারউদ্দিন নিজেও উঠে এসেছেন এক প্রান্তিক অঞ্চল থেকে। স্বাধীনতার পর একটি দেশ সত্তর বছর অতিক্রম করে গেছে। একটি দেশের অথনৈতিক উন্নয়নের জন্য সত্তর বছর কম সময় নয় ! প্রযুক্তি বিজ্ঞানের জগতে মানুষ পাড়ি দিয়েছে মহাকাশে অথচ সেই ভারতবর্ষেই এক শ্রেণির মানুষ আজও অভুক্ত। সেই অভুক্ত শ্রেণি বিভক্ত পিছিয়ে পড়া মানুষদের কথা তুলে আনেন আনসারউদ্দিনের মতো কথাকাররা। আঞ্চলিক রঙে সেই সব মানুষেরা কখনই মিলিয়ে যায় না। নিজস্ব যাপনচিত্রের এক স্বতন্ত্রতায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মুসলিম জীবনে ধর্মান্ধতা যেমন আছে তেমনি আছে ধর্মীয় আদর্শের প্রতি বিশ্বাস। এক দ্বন্দ্ব টানা পোড়েনের মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলেছে একটি সমাজ। ‘গাজির বিচার’ গল্পে মুসলিম ধর্মান্ধতা থেকে দূরে দাঁড়িয়ে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যের প্রতি কলম নিয়ে গেছেন। এ গল্পের বিষয় খুব সামান্য-একটি চুরির ঘটনা। এ চুরি করেছে খেদু নামে এক দারিদ্র মুসলিম। লেখক ‘কেন’ এর প্রতি নজর দিয়েছেন। খেদু কেন চুরি করল? দরিদ্রতা , অসহয়তা, বিপন্নতা ও অনাহার আজ খেদুকে এই পথে নিয়ে গেছে। ইদের আগের রাতে চুরি করে খেদু। খেদুকে যখন সবাই প্রহারে উদ্যত তখনই গাজি সাহেব মুসলিম জীবনে ধর্মীয় আদর্শের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। মুসলিম জীবনে এক পবিত্র উৎসব ইদ। এই উৎসবে সকলেরই আনন্দের অধিকার।সেখানে থেকে আজ বঞ্চিত হচ্ছে খেদু। গাজির নির্দেশে মতো সবাই আজ মেনে নেয় খেদুও এই আনন্দ উৎসবে যোগ দিক। কিন্তু খেদু তো অসহায়, খাদ্য টুকুও ঘরে নেই। এই বিপন্নতায় গল্প কথকের বাবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে-“ বাবা শৈষমেশ দাদুর উদ্দেশ্যে বললে- খেদুর জন্য সবাই করছ যখন তখন ইদের  পাব্বণে ওই বান দেওয়া মোরগটা দিয়ে দাও। ওটা জবাই করে বাড়ির গোস রুটি করে খাক।“(‘ গাজির বিচার’,’গণিচাচার খেত-খামার’, প্রথম প্রকাশ ২০১৭, অভিযান , পৃ.২০১)। এ গল্পে লেখক মুসলিম জীবনের গোষ্ঠীচেতনা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উদার সহানুভূতির দিকগুলি তুলে ধরেছেন। ইসলাম পবিত্র ধর্ম, সেখানে দাঙ্গা- বিভেদের স্থান নেই। রয়েছে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা ও সোহাদ্যপূর্ণ উদারতা। গাজি সাহেব সেই মহান বাণীর কথা মনে করিয়ে দিয়ে আজ উদ্ধার করেছে খেদুকে। গাজি সাহেব এই অবক্ষয়িত মূল্যবোধহীন পৃথিবীতে একটি অঞ্চলের সমস্ত মানুষদের নব দর্শনে নিয়ে গিয়েছেন।

                ##  আজ গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব ভোট। প্রতিটি লেখককে নজর দিতে হয় সমাজ বাস্তবতার উপর। তবে নিছক বাস্তবতার বর্ণনাই সাহিত্য নয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন – বাস্তবের মাটি থেকেই ঝড় তুলতে হবে হাওয়ার আকাশে। অমর মিত্রের ‘ভোটের আগের রাত্রি’ গল্পে দেখেছিলাম রাজনৈতিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলগুলি কীভাবে নিজেদের শক্তি অপব্যয় করে। আনসারউদ্দিন তাঁর ‘ভোট’ গল্পে মুসলিম জীবনের প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাজনীতির নক্কারজনক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সময়ের ব্যবধানে পাল্টে গেছে মূল্যবোধ, আজ সমস্ত বিষয়েই প্রবেশ করেছে রাজনীতি। জন্ম, প্রমাণপত্র, রেশন কার্ড, বি. পি.এল এ নাম তোলা থেকে শুরু করে কলেজ ভর্তি, এমনকি কবর স্থানেও চলছে রাজনীতি। যে মুসলিম জীবন ধর্মীয় সত্তায় বিশ্বাসী ছিল তারাও আজ রাজনীতির শক্তি আয়ত্ত করেছে। আর এই রাজনীতির ফলে গ্রাম্য জীবনের কঙ্কালসার রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। আনসারউদ্দিনের গল্পে মাটি মেশানো সোঁদা গন্ধ পাওয়া যায়। তিনি নিজস্ব ভূগোলের মাটি থেকেই চরিত্রগুলিকে তুলে আনেন। চলমান নদীর মতোই আনসারউদ্দিনের চরিত্ররা সহজ-সরল। সাবলীল ভাবেই লেখক তাদেরকে শিল্প সত্তায় উত্তীর্ণ করেন। গ্রাম জীবনে আজ প্রবেশ করেছে জটিল রাজনীতি। দ্বন্দ্ব সংঘটিত হচ্ছে দুই ভাইয়ের। রাজনীতির ক্ষমতাদখল করতে প্রতিবেশী বন্ধুটি আজ দাঁড়িয়েছে গোঁজপ্রার্থী হয়ে। লেখক গ্রাম জীবনে অসহনীয় বিপন্নতার দিকেই নজর দেন। সামান্য কাঁঠালের জন্য সন্তানের হাহাকার ও কৃষিজীবী মানুষের কন্দনের ইতিবৃত্ত তিনি তুলে ধরেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আজ দ্বন্দ্ব – বৃদ্ধ মাতা কোন পার্টিকে ভোট দেবে। লেখক অত্যন্ত কৌশলে এই কাহিনি পরিবেশন করেছেন। আজ কবরস্থানেও রাজনীতি। রাজনীতির ক্ষমতা পুষ্ট দলে না থাকলে মৃত্যুর পর কবর স্থান হবে না। লেখক সেই দ্বন্দ্ব ক্ষতবিক্ষত চিত্র তুলে ধরেছেন-

“ মা আকাশের দিকে হাত তুলে আল্লার কাছে মৃত্যুর আর্জি জানলেও আমি জানি, আকাশ নয়, মৃত্যুর পর এই মাটিতেই তাঁকে সমাহিত করা হবে। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই মায়ের। বারোয়ারি কবরের জমিন রাজনীতির যাঁতাকলে দু-খণ্ডে ভাগ হয়ে গিয়েছে আজ। আমি ভাবতে পারছি না, সেই কবরের জমিনের কোনদিকে থাকবে মায়ের মাথা, আর কোনদিকে পা।“(‘ভোট’, তদেব, পৃ.১৬৬)

51

Leave a Reply