১৬/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টিকা নেবেন কি নেবেন না এই নিয়ে টানাপোড়েনে ভুগছেন চিকিৎসকদের বড় অংশও। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, করোনাজয়ীদের করোনা টিকা দিলে তা ফলপ্রসূ তো হবেই না উপরন্তু অনর্থও ঘটাতে পারে। করোনাজয়ীর দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি যে প্রতিষেধকের তেজে নষ্ট হয়ে যাবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

রাজ্যের হাজারের উপর চিকিৎসক ইতিমধ্যে করোনার কবলে পড়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৮৭ জনের। এমতাবস্থায় করোনাজয়ীদের অনেকেই ঠিক করে উঠতে পারেননি টিকা নেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত হবে কিনা। একই সঙ্গে অন্য প্রশ্নও মাথাচাড়া দিচ্ছে। এমনিতেই টিকার জোগান কম। নিয়ম মেনে দু’ডোজ করে দিতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের নথিভুক্ত ছ’লক্ষ চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য ১২ লক্ষ ডোজ টিকা লাগবে। অথচ এসেছে ঠিক অর্ধেক। মানে সবাইকে দিতে গেলে একটি ডোজের বেশি হবে না। এই পরিস্থিতিতে করোনাজয়ী চিকিৎসকদের টিকা দেওয়াটা নিছক ‘অপচয়’ হয়ে যাবে কি না, এমন সংশয় দানা বেঁধেছে স্বাস্থ্যমহলে। ভাইরোলজিস্ট সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার আগে করোনাজয়ীদের শরীরে ‘অ্যান্টিবডি টাইটার’ কতটা আছে তার পরিমাপ করতে হবে। শরীরে অ্যান্টিবডি মজুত থাকলে তা ভ্যাকসিনের অ্যান্টিজেনকে নিউট্রিলাইজ বা নিষ্ক্রিয় করে দেবে। কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের সদস্য এসএসকেএম এর চিকিৎসক ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, কোভিডজয়ী চিকিৎসকদের টিকাকরণের দ্বিতীয় ধাপে রাখা উচিৎ। কারণ শরীরে অ্যান্টিবডি থাকলে টিকা দিলে কী হতে পারে তা নিয়ে কোনও গবেষণা নেই।

এদিকে স্বাস্থ্য দফতরের সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম ইতিমধ্যেই অযথা ভ্যাকসিন নষ্ট না করার নিদান দিয়েছেন। আজ থেকে শুরু হওয়া টিকাকরণে শামিল হবেন কি না তা নিয়ে করোনাজয়ী চিকিৎসকদের ধন্দ কাটছে না।

37