Categories
দেশের খবর

বিভ্রান্ত না হয়ে আন্দোলনরত অসুস্থ কৃষকদের নিরলস সেবারত স্বেচ্ছাসেবীরা

১৪/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

প্রচন্ড শীতের রাতেও ওঁরা রাস্তায় রয়েছেন ঘরের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে। কেউ কেউ পরিবার, পরিজন নিয়েই।সারা পৃথিবী পাশে দাঁড়িয়েছে দিল্লির আন্দোলনরত কৃষকদের।

অথচ নিজের দেশের শাসকদল বিজেপির নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিক্রিত মিডিয়া সকলেই বলেছে
পাকিস্তানি, খালিস্তানিরাই মদত দিচ্ছে কৃষক বিক্ষোভে। আড়ালে থেকে তারাই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে কৃষকদের। একবার নয় বারংবার বলা হচ্ছে।কিন্তু মানুষের সেবা করাই যাদের ধর্ম এসব কথায় তাদের কিছুই যায় আসেনা। বরং সংকটের দিনে কীভাবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানো যাবে, তাঁদের সাহায্য করা যাবে, সে বিষয়টিই তাদের কাছে গুরুত্ব পায় বেশি। তেমনই একটি সংস্থা ইউনাইটেড শিখ।কৃষক আন্দোলনে তাদের ভূমিকা কি জানতে হলে বলতে হয় যে, দিল্লির সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের আনা কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।খাঁ খাঁ রোদ, প্রবল শীত সবকিছুই সহ্য করে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই করছেন তাঁরা। রাস্তার ধারেই খাওয়া-দাওয়া করছেন। আবার খোলা আকাশের নিচে ঘুমোচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন বিক্ষোভকারী কৃষক বন্ধুরা। তাঁদের এই আন্দোলনের রাস্তার প্রতিকূলতা সামান্য দূর করতেই উদ্যোগী ইউনাইটেড শিখ। একটি তাঁবুতেই প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী মজুত রেখেছে তারা। শাল, গরম জামাকাপড় থেকে জুতো, তোষক, কম্বলসহ যা যা জরুরি জিনিস, এই সংস্থার সদস্যরা তুলে দিচ্ছেন কৃষকদের হাতে।

কিভাবে করছেন এতবড় কর্মকাণ্ড তা জানতে চাইলে সংস্থার এক সদস্য সুখদীপ সিং বললেন যে, এজন্য তাঁরা টোকেনের ব্যবস্থা করেছেন। আধার কার্ড দেখিয়ে দরকারি জিনিসটি কৃষকরা নিচ্ছেন এবং তার বদলে দেওয়া হচ্ছে একটি টোকেন। পরে জিনিসটি জমা করে গেলে টোকেনও ফেরত দিচ্ছেন তাঁরা। এভাবেই তাঁদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়াতে চান এই শিখ ভাইয়েরা।সুখদীপের কথায়, “আমরা সরাসরি বিক্ষোভে শামিল নই। তবে এই লড়াইয়ে কৃষকদের পাশে আছি তাঁদের সেবা করার মধ্যে দিয়ে। তাঁদের আন্দোলন সফল হোক, এই কামনাই করি।” শুধু এই সমস্ত সামগ্রীই নয়, কোনও কৃষক অসুস্থ হলে তাঁদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এই ‘অল ইন ওয়ান’ তাঁবুতে। এক কৃষক জানালেন, “কোনও সমস্যা হলে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ পাচ্ছি। তাও নিখরচায়। এভাবে মানুষের সেবা করলে ওরা আশীর্বাদ পাবে।”

এসব দেখেই মনে আশা জাগে যে, এত হিংসার মধ্যেও মানবতা এখনও বেঁচে আছে।

54

Leave a Reply