Categories
আন্তর্জাতিক

করোনায় মৃত্যুর ঢল দেশে, খবর করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন সাংবাদিক!

করোনায় মৃত্যুর হারে রেকর্ড করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা।সরকারের গাফিলতিতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী।হু হু করে মৃত্যু বাড়ছে সব থেকে শক্তিশালী দেশটিতে।যদিও বেশ কিছুদিন হল টিকাকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে আমেরিকায়। তবুও দাপট কমেনি করোনার । গত মঙ্গলবার একদিনেই মারা গিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ। যা সর্বকালীন রেকর্ড। রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ক্যালিফোর্নিয়ার । হাসপাতালে রোগী ভর্তি নেওয়ার আর জায়গা নেই। নেমেছে মৃত্যুর ঢল। এই পরিস্থিতিতে সিএনএনের এক রিপোর্টার টেলিভিশনের পর্দায় করোনার দাপট নিয়ে কথা বলতে বলতে কেঁদেই ফেললেন। মর্মস্পর্শী এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে।

স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ কর্মীদের পেশাগত কারণে বহু দুর্যোগ, বহু বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। সেই সময় ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে রিপোর্ট করতে হয় তাদের। কিন্তু সাংবাদিকরাও যে যন্ত্র নন তা আবার প্রমাণিত হলো এই ঘটনার ফলে। ইতিপূর্বেও মৃত্যুর তীব্র ভয়াবহতাকে চোখের সামনে দেখে সাংবাদিকদের কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে।

সিএনএনের সাংবাদিক সারা সিডনারের ঘটনা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলো এই বিষয়টি। প্রায় দশটি হাসপাতাল ঘুরে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন সারা। তিনি দেখেন কিভাবে করোনার ছোবলে একের পর এক পরিবারে নেমে আসছে বিপর্যয়। দেখতে দেখতে অজান্তেই বোধহয় গলার কাছে দলা পাকিয়ে উঠেছিল যন্ত্রণা। তাই রিপোর্ট করার সময় আচমকাই থেমে গিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে।
পরে অবশ্য সারা ক্ষমা চেয়ে নেন এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার জন্য। বলেন, ”এই নিয়ে দশটি হাসপাতালে গেলাম। চোখের সামনে দেখেছি কীভাবে পরিবারগুলি প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় আকুল হয়ে রয়েছে। আমি আর নিতে পারছি না।” তাঁকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় সঞ্চালক অ্যালিসনকে। তিনি জানিয়ে দেন, ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। বলেন, ”এই ভয়ঙ্কর সময়ে আমরা সবাই শোকাচ্ছন্ন. সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তোমাকে কাজ করতে হচ্ছে।”
পরে সারা সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন, কোভিড বিধি অত্যন্ত কড়া ভাবে মেনে চলার জন্য। প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়। এর আগে ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময়ও এভাবেই রিপোর্টিংয়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল সারাকে।

পেশাদারিত্বের নামে মানুষের মনকে পাথরে পরিণত করার প্রবণতা সমাপ্ত করার দিন কি এবার শেষ হওয়া উচিত? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

69

Leave a Reply