১৩/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে নিজেদের ভাগ্য পুরোপুরি সঁপে দেওয়ার বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত যে ন্যূনতম সহায়ক মূ্ল্যের জোরে এত দিন কৃষিপণ্যের দাম কমানোর ক্ষেত্রে একটা সীমারেখা ছিল, নতুন আইনে সেই নিরপত্তার জায়গায় কিছুটা সমঝোতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তা ছাড়া চাল, ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজকে নিত্যপ্রয়োজনীয় তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ায় এগুলির মজুতকরণের উপরও আর বাধা থাকবে না কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে। বেশি মজুতের ক্ষমতা নিয়ে তারা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করতে পারবে, চাপ দিতে পারবে কৃষকদের উপর।

এই সব নিয়ে কেন্দ্র সরকার নতুন কৃষি বিল আনতে চলেছে। আর এর বিরুদ্ধেই কৃষকরা জানকবুল লড়াই বসেছে। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা বিরুপ মন্তব্য শুরু করেছে। এবার তালিকায় যুক্ত হলেন সাংসদ হেমা মালিনী।

লোকসভা নির্বাচনের আগে মথুরার সাংসদ হেমা মালিনী কাস্তে হাতে ধান কাটতে নেমে পড়েছিলেন চাষের ক্ষেতে। মাথায় ফসল চাপিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন আলপথ। ট্র্যাক্টরও চালিয়েছেন। ভোটে জিতে যাওয়ার প্রায় দু’বছর পর কৃষকদের সম্পর্কে সেই হেমারই উপলব্ধি—“এঁরা নিজেরা কি চান, তা নিজেরাই জানেন না।”

তবে হেমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এগুলো তেমন সমস্যা নয়। কৃষকরা এসব করছেন, স্রেফ কেউ বা কারা তাঁদের এসব করতে বলছে বলে।

হেমার এই বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে সামনে আসতেই তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাংসদ হেমা মালিনীকে ব্যাঙ্গ করে নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছে আম আদমি পার্টিও। চাষের ক্ষেতে মথুরার সাংসদের ধানকাটার ছবি পোস্ট করে তারা লিখেছে, ‘একমাত্র কৃষক, যিনি কৃষকদের সমস্যা বোঝেন না’।  

অবশ্য কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিজেপি নেতা ও সাংসদদের বিতর্কিত মন্তব্য এই প্রথম নয়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, খলিস্তানি জঙ্গিরা কৃষক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করছে। 

143