সাধন দাস

অনেক রাত। ডিলার-পাইকারী-খুচরো জুতো-দোকানীদের ‘মিছিল বিজয়’ উৎসব চলছে। জুতো কোম্পানিরা স্পনসর করেছে।  জানালার কাচ গলিয়ে হাসির হুল্লোড়, আলো ছড়িয়ে পড়েছে পথে। ঘরের মাতাল দোকানিদের হাততালি, নাচের শব্দ শুনে রাস্তার মাতালের মনে হতেই পারে তার পায়ে অসংখ্য পায়ের শব্দ এবং এক জোড়া পায়ের অসংখ্য নাচুনি-পা হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভাবতে পারে মদ খাওয়া অন্যায় অথবা পিছনে কেউ বা কারা তাড়া করেছে। সে দৌড়ুতে শুরু করে। এক পায়ের চটি খুলে যায়। চটির চেয়ে মাতালের বাঁচার মায়া বেশি। চটিখানা ফেলেই সে পালিয়ে গেলো।

ভোরের আলোয় ভিখিরিদের খিদে সূর্যের মতো ফুটতে শুরু করে। তারা চাল পয়সা খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছে। একজন ভিখিরির চোখে পড়লো, এক পাটি জুতো। গ্রীষ্মকাল। চটিখানা পায়ে গলিয়ে দেখলো পায়ের তলায় ফাগুন এসেছে। এক পা উঁচু এক পা নিচু, লেংচে, কাত হয়ে আর একখানা চটির আশায় হাঁটা শুরু করলো।

দিনের আলোয় দোকানি মাতালরা গুপ্ত বিপ্লবীর মতো নিজের ভিতরে চটির দাম ধরে থাকে। রাস্তার মাতাল প্রাণে ধরে, নিজের সাথে  একখানা পায়ের চটি লুকিয়ে রাখে। সোনা বাঁধানো কোনো এক একদিনে হারিয়ে যাওয়া চটি ফিরে আসবেই! পায়ের নীচে পুরো বসন্ত দখল নিতে ভিখিরি আর একখানা ফ্রি চটির খোঁজে এগিয়ে চলেছে।

জুতোর দাম কমাবার দাবীতে গতকাল মিছিল এসেছিলো এই পথে। এবারের শীতে সবাই যেনো জুতো পরতে পারে। জুতো শস্তা হোক। বিনি পয়সায় বিলি হোক। দোকানিদের পয়সায় পুলিশ পকেটের সুখে মিছিল বিপ্লবীদের বে-ধড়ক ঠেঙিয়েছে। পথে ভাঙা চশমা, ঝোলা ব্যাগ, রক্তমাখা পতাকা, ছেঁড়া চটি ছড়িয়ে ছিলো। একখানা হাওয়াইচটি ভিখিরির পায়ে খেটে গেলো। এক পায়ে ঘরের বিপ্লবী আনপায়ে পথের বিপ্লবীর চটি পরে ভিখিরি চলার প্রায়-ভারসাম্য খুঁজে পেলো। একখানা চামড়ার একখানা রাবারের চটিতে সে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। হাঁফ ছাড়ে। 

মনের আনন্দে গেরস্থের দরজায় গেয়ে ওঠে- একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি…

21