৯/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

দেশের ধনী শ্রেষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম মুকেশ আম্বানির নাকি দুঃসময় আর কাটছে না!এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির তালিকা থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে এবার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনকুবেরদের তালিকাতেও আরও নিচে নেমে গেলেন মোদী সরকারের প্রিয় ব্যবসায়ী। কয়েক দিন আগেই ব্লুমবার্গের তালিকার সেরা দশ থেকে ছিটকে এগারো নম্বরে নেমেছিলেন মুকেশ। এবার তাঁর স্থান হল তেরোয়। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পত্তির মূল্য ৭৩.৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় হিসেবে ৫.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত বছরের গোড়ায় তা ছিল প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা ৬.৬২ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমেছে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ।কিন্তু কেন এমন হল দেশের ধনীতম ব্যক্তির, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত আগস্টেও ব্লুমবার্গের তালিকায় চার নম্বরে ছিলেন তিনি। মাত্র কয়েক মাসে বেশ কয়েক ধাপ নেমে যেতে হয়েছে তাকে।

দেশের অধিকাংশ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন আম্বানিদের বিরুদ্ধে।দিল্লির আন্দোলনরত কৃষকদের ডাকে মানুষ হু হু করে বাদ দিয়েছেন জিও সিম। পঞ্জাব, হরিয়ানায় আম্বানিদের হাজার হাজার মোবাইল টাওয়ার ভেঙেছেন বিক্ষুব্ধ মানুষ।ফলে গত তিন মাসে রিলায়েন্সের শেয়ার হু হু করে পড়েছে। আর এর ফলেই কমেছে আম্বানিদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ।গত আগস্টে ২৪,৭১৩ কোটি টাকার বিনিময়ে ‘ফিউচার গ্রুপ’-এর খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা এবং লজিস্টিক্স ও ওয়্যারহাউজিং ব্যবসা কিনে নিয়েছিল রিলায়েন্স। সেই সময় সংস্থার শেয়ার দর ছুঁয়েছিল সর্বোচ্চ অবস্থান। সেখান থেকে ১৮.৩ শতাংশ পড়ে গিয়েছে শেয়ারের অঙ্ক। এর পিছনে রয়েছে মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের সঙ্গে রিলায়েন্সের ব্যবসায়িক সংঘাত। মুকেশ আম্বানির সংস্থার সঙ্গে ‘ফিউচার গ্রুপ’-এর চুক্তি নিয়েই আপত্তি আমাজনের। গত বছরই ‘ফিউচার কুপনসে’ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে তারা। এই অবস্থায় ‘ফিউচার গ্রুপ’ রিলায়েন্সকে সব সম্পত্তি বেচে দেওয়াতেই আপত্তি তাদের। এই বিতর্ক ও প্রতিবাদের ধাক্কাতেই কমে গিয়েছে আম্বানির সংস্থার শেয়ার দর।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, উপার্জন কমছে রিলায়েন্সের। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে ই-কমার্স ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জোর দিতে পারেন মুকেশ আম্বানি।

দেশে মোদি সরকার আসার পর থেকে আম্বানি, আদানির মত গুজরাটের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বেড়েছে হাজার হাজার গুণ। দেশের মানুষের মধ্যে এই কোম্পানি গুলির বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে ব্যপক ক্ষোভ।তাই মানুষের দেশের মানুষের কাছে সিমপ্যাথি আদায় করতেই সংবাদ মাধ্যমে এসব রটনা তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ।

39