Categories
দেশের খবর

ত্রিপুরায় চাকরি হারিয়ে আত্মঘাতী শিক্ষক,সহমরনে যেতে উদ্যত অসহায় স্ত্রী!

৩/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃঘরে দুটি শিশু, স্ত্রী। মাথার ওপর বিরাট ঋণের বোঝা। কিন্তু রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। কারন চাকরি চলে গেছে বিজেপি সরকারের মর্জিতে।তাই সংসারের জোয়াল টানতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহননের পথই বেছে নিলেন সে রাজ্যের শিক্ষক উত্তম ত্রিপুরা। উত্তম ত্রিপুরার মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী শোকে বিহ্বল হয়ে মৃত স্বামীর চিতায় শুয়ে পড়েন।চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমাকেও আমার স্বামীর সঙ্গে পুড়িয়ে দাও। আমি এর বিচার চাই।” কারন ছোট দুই শিশুর জীবন বাঁচানোর আর কোন উপায় নেই তার কাছে। পরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে শান্ত করে চিতা থেকে নামিয়ে আনেন।

বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে ত্রিপুরার অবস্থা দিন দিনই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আসলে ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১০,৩২৩ জন শিক্ষককে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গলদের অজুহাতে তাঁদের চাকরি বাতিল করে যায়।সেটা ২০১৪ সাল। তারপর থেকেই অত্যন্ত সমস্যায় রয়েছেন এই শিক্ষকরা। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বামফ্রন্ট সরকার অ্যাডহক ভিত্তিতে কিছু শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগ করে। কিছু শিক্ষককে অন্যান্য সরকারি বিভাগে নিয়োগ করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে এই অ্যাডহক শিক্ষকদের নিযুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপর থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৯ হাজার শিক্ষক।

বিজেপি ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার আগে এই শিক্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু ভোটে জেতার পর আর ফিরেও তাকায়নি এই শিক্ষকদের দিকে।

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ৭ই ডিসেম্বর থেকে লাগাতার গণ অবস্থান করছেন এই শিক্ষকরা। শীতের মধ্যে তাঁরা গত ২৮ দিন ধরে আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে ধরনায় বসে আছেন।

59

Leave a Reply