Categories
রাজ্য

পাচ্ছেন না সরকারি সহায়ক মূল্য, ফড়েদের দৌরাত্ম্যে সমস্যায় রাজ্যের কৃষকরা

১/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

দিল্লিতে বিজেপি সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে একমাস ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।মমতা বন্দোপাধ্যায় দিল্লির কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।কিন্তু তাতে রাজ্যের কৃষকদের হয়রানি কমছে না। কারা তারা পাচ্ছেন না সহায়ক মূল্য। ফড়েদের দৌরাত্ম্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন রাজ্যের কৃষকরা।সরকারি সহায়কমূল্য আসলে থাকছে শুধু খাতায় কলমে। কৃষকরা তার কোন। সুবিধাই পাচ্ছেন না। বরং সয়ায়ক মূল্যের সুবিধা পরোক্ষভাবে ফড়েদের সহায়ক হচ্ছে।

এমনই ঘটনার কথা বারবার সামনে আসছে। উত্তর দিনাজপুরে কৃষকদের থেকে ধলতা বাবদ ৮-১০কিলো ধানের দাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় সারা ভারত কিষান সভার পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়াসহ লাগাতার আন্দোলন করছেন কৃষকরা।

এবার আলিপুরদুয়ার জেলার কৃষকরাও একই সমস্যায় পড়ার ঘটনা সামনে চলে এলো। জানা গেছে যে, সহায়কমূল্যে ধান বিক্রি করতে আলিপুরদুয়ারের কৃষকদের হয়রানি দিনকে দিন বাড়ছে। এক একজন কৃষকের কাছ থেকে যে পরিমাণ ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তার থেকে অনেকটাই কম পরিমাণে ধান কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এক একটি ক্রয়কেন্দ্রে এক একদিনে খুব বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে না। সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে এক একজন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল ধানে চার কেজির দাম দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। পাশাপাশি, জেলার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে তাঁরা আরও বেশি সংখ্যক সরকারি সহায়কমূল্যের ধান ক্রয়কেন্দ্র খোলার দাবিতেও সরব হয়েছেন কৃষকরা।

আলিপুরদুয়ার জেলার কৃষকরা পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকারি উদাসীনতার অভিযোগে সরব হয়েছেন। জেলার খাদ্য নিয়ামক প্রেসিকা মোক্তান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।২রা নভেম্বর থেকে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের কৃষক বাজারে সরকারি সহায়কমূল্যে ধান ক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ক্রয়কেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত করা কৃষকরা ধান বিক্রি করতে এলে ১,৮৬৮ টাকা সরকারি সহায়কমূল্যে প্রতি কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। চলতি বছর আলিপুরদুয়ার জেলায় ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ধান বিক্রি করে বহু কৃষক শীতকালীন বিভিন্ন চাষবাস করে থাকেন। বহুদিন হল সমস্ত কৃষকের ঘরে ধান উঠেছে। কিন্তু সরকারি সহায়কমূল্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানির মুখে পড়ছেন। একদিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ধান ক্রয়কেন্দ্র নেই, অন্যদিকে যে কয়েকটি ক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে সেখানেও প্রতিদিন হাতেগোনা সীমিত সংখ্যক কৃষকের ধান স্বল্প পরিমাণে কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তার উপর এই কেন্দ্রগুলি থেকে দাম না দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু পরিমাণে ধান হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আলিপুরদুয়ারের ঘরঘড়িয়া গ্রামের কৃষক সুশীল মোদক বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে নাম নথিভুক্ত করে মাত্র ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারলাম। এক-একজন কৃষকের কাছ থেকে ৯০ কুইন্টাল করে ধান কেনা হবে বলে সরকার জানিয়েছিল। এখন দেখছি ৩০ কুইন্টাল ধানও বিক্রি করতে পারছি না। ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান প্রথম দফায় নেওয়া যাবে না বলে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে বলা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ধান বিক্রি করতে কত মাস অপেক্ষা করতে হবে সেটা ক্রয়কেন্দ্রের আধিকারিকরাও বলতে পারছেন না। বাবুরহাটের কৃষক ভগীরথ অধিকারী হলেন, ধান বিক্রির জন্য সম্প্রতি নাম লেখালাম। কিন্তু কবে ধান কেনা হবে সেই তারিখ এখনও কেন্দ্র থেকে জানানো হয়নি। ৮০২ ক্রমিক নম্বরে আমার নাম লেখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৩৫ নম্বরে নথিভুক্ত ব্যক্তির ধান কেনা চলছে। আমাকে মাসখানেক পরে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। পাকুরিতলার কৃষক গৌতম দাস বলেন, ধান বিক্রির জন্য প্রায় এক মাস আগে নাম নথিভুক্ত করেছিলাম। মাত্র ১৫ কুইন্টাল ধান কেনা হয়েছে। আরও অন্তত ২০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করা দরকার ছিল। পরবর্তীতে আবার কত দিন পর ধান কেনা হবে বুঝতে পারছি না। এত কম পরিমাণ ধান কেনার ফলে আমাদের কোনও লাভই হবে না। পাশাপাশি, ক্রয়কেন্দ্রে প্রতি কুইন্টাল ধানে চার কেজি করে ধানের কোনও দাম দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকদের অনেকের অভিযোগ, পরিস্থিতির জেরে তাঁদের অনেকে ফড়েদের কাছে কুইন্টাল প্রতি ২০০-২৫০ টাকা কম দামে ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সমস্যা মেটাতে বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় তাঁরা সহায়কমূল্যে ধান ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবি জানিয়েছেন।

একদিকে দিল্লির বুকে কৃষকরা অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছেন মাসাধিক কাল সময় ধরে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই আন্দোলনের সমর্থন করলেও বাংলার কৃষকদের সমস্যার সমাধান হয়নি এখনও।

66

Leave a Reply