Categories
রাজ্য

জানুয়ারি মাসে থেকে রেশনে কমছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ

১/১/২০২১,ওয়েবডেস্কঃ

রাজ্যের নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য দুঃসংবাদ। কেন্দ্রীয় সরকারের গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার অতিরিক্ত চাল, গমের যে বরাদ্দ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বহাল ছিল কেন্দ্রীয় সরকার সেটা বন্ধ করায় জানুয়ারি মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গের ছয় কোটিরও বেশি উপভোক্তার চাল, গম, আটার বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত বরাদ্দ রাজ্য নিজেই দেবে বলে কয়েকদিন আগে জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে তা দেওয়া যাবে না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে।
সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় এদিন বলেন, কেন্দ্র অতিরিক্ত বরাদ্দ দেবে না। ফলে চাল, গমের পরিমাণ কমবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যায় পড়বে। এসব খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণ যাতে না কমে যায় তা রাজ্যেরই আগে দেখার দায়িত্ব। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বৃহস্পতিবার বলেন, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে বিনামূল্যে রেশন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে টাকা দিয়ে সব কিনে তা বিনামূল্যে রাজ্যের মানুষকে দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। কিছু সময়ে জন্য কেন্দ্র ওই ব্যবস্থা করেছিল। এটা প্রচুর টাকার বিষয়।খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রের খবর, রাজ্যের ৯ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি মানুষ রেশন সামগ্রী পান। তাঁদের মধ্যে ৬ কোটি ১ লক্ষের বেশি মানুষ কেন্দ্রের অতিরিক্ত বরাদ্দ পেতেন। তাঁদের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার কার্ড রয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে এই ৬ কোটি ১ লক্ষ মানুষের রেশনের পরিমাণ কমে অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে।প্রসঙ্গত করোনা অতিমারীর দরুন খাদ্যসঙ্কট এড়াতে লকডাউনের সময় জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য কেন্দ্র অতিরিক্ত পাঁচ কেজি করে চালের ঘোষণা করে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার অধীনে যাঁদের অন্ত্যোদয় যোজনার কার্ড ছিল সেই পরিবারগুলি ১৫ কেজি করে চাল এবং ২০টি আটার প্যাকেট পায়। যাঁদের এসপিএইচএইচ এবং পিএইচএইচ কার্ড রয়েছে তাঁরা প্রত্যেকে প্রতি মাসে দুই কেজি করে চাল এবং তিন প্যাকেট করে আটা পান। মে মাস থেকে লকডাউনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় অতিরিক্ত আরও পাঁচ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে অক্টোবর মাস থেকে ওই চালের পরিবর্তে দুই কেজি করে চাল এবং তিন কেজি করে গম দেওয়া শুরু হয়। চলতি মাস পর্যন্ত সেই বরাদ্দ বজায় ছিল। জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্র এই বরাদ্দ না পাঠানোর কথা জানানোয় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যা মেটাতে উপভোক্তারা উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও রাজ্য সরকারকে এজন্য দায়ী করা হয়েছে।

151

Leave a Reply