Categories
দেশের খবর

“মোদী মিথ্যুক”,প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ গুজরাটের কৃষকদের

২৬/১২/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

সারা দেশে বাড়ছে কৃষকদের ক্ষোভ।
কিন্তু থেমে নেই বিজেপিও। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই এখন সারা দেশে আন্দোলনরত কৃষকদের বিরোধীরা ভুল বোঝাচ্ছেন বলে প্রচার করছেন। এমনকি হাল হাতে ছবিও প্রচার হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর। নিজের রাজ্য গুজরাটের শিখ কৃষকদের সাথেও আলোচনা করছেন নরেন্দ্র মোদী এমন ছবি প্রচারে আসে। কিন্তু এই ছবি নিয়েই এবার বড়সড় সমস্যায় পড়েছে বিজেপি। কেননা গুজরাটের শিখ কৃষকরা ছবিতে নরেন্দ্র মোদীর সাথে বসা লোকেদের কেউ আদৌ কৃষক নয় বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য,গত ১৫ই ডিসেম্বর গুজরাটের কচ্ছ জেলার শিখ কৃষকদের সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার ছবিও ভাইরাল করা হয়। কিন্তু গুজরাটের শিখ কৃষকদের মধ্যে থেকেই এবার উঠেছে মোদী বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ। মোদীর গুজরাট সফরের পরেই গুজরাটের শিখ কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী মিথ্যে কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি প্রধানমন্ত্রী মোদী আদতে কোন সাধারণ শিখ কৃষকের সাথে দেখাই করেননি। যাদের সাথে দেখা করেছেন তারা সবাই বিজেপির লোক। এরা আসলে বিজেপির কচ্ছ জোনের মহাসচিব জুগরাজ সিং রাজুর লোকজন।জুগরাজ সিং রাজু একজন বড়সড় হোটেল হোটেল ব্যবসায়ী।

সংবাদপত্র ‘কারাভান’-এর সাংবাদিককে কচ্ছের শিখ কৃষকদের নেতা সুখবিন্দর সিং ভুল্লর জানিয়েছেন যে, “যখনই নরেন্দ্র মোদীর শিখ কৃষকদের সমর্থনের দরকার হয় তখনই জুগরাজ সিং রাজুর লোকজনেরা শিখ সেজে মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে যায় এবং এমন ছবি তুলে ধরা হয় যেন শিখ কৃষকরা মোদী সরকারের কাজে অত্যন্ত খুশি হয়েছে। “

কারাভান পত্রিকার এই খবর প্রকাশের পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নানা মহলে।
এদিকে, শিখ কৃষকরা দাবি করেছেন যে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন সময়ে নরেন্দ্র মোদী সব জমি আম্বানি আদানিদের দিয়েছেন। এর ফলে কচ্ছের জমির ওপর রিয়েল এস্টেট ও কর্পোরেটের লোভ বেড়ে গেছে।
কারাভান পত্রিকার সাংবাদিক জানিয়েছেন যে, তিনি ২০১৩ সালে গুজরাটের শিখ কৃষকদের নিয়ে ‘দেশসেবক’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন লেখেন কিন্তু বিজেপির তৎকালীন সহযোগী পঞ্জাবের অকালি দল সরকার একটি প্রেস কনফারেন্স করে বলার চেষ্টা করে যে গুজরাটের শিখ কৃষকরা মোদী সরকারের আমলে খুব ভালো আছে।

আসলে গুজরাটের শিখ কৃষকদের প্রধান সমস্যা গুজরাটের একটি ভূমি আইন যার ফলে নিজেদের জমি জায়গা হারাতে পারেন শিখ কৃষকরা। শিখ কৃষকরা জানিয়েছেন যে, শুধু এই আইনই নয়, যখন তখন বিজেপির লোকেরা তাদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করে এবং গুজরাট ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়।

কিন্তু গুজরাটের কৃষকদের জমির অধিকার দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৬৫ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রণক্ষেত্রের ৫০০০কিলোমিটারের মধ্যে থাকা পঞ্জাবি কৃষকদের কচ্ছ ও ভুজ এলাকার পতিত অনবাদী জমি অত্যন্ত সস্তা দামে দান করে ছিলেন। শিখ কৃষকরা এই জমিকে চাষের উপযোগী করেন। টিউবওয়েল বসান এবং  তারপর থেকে অঞ্চলে আমেরিকান কাপাশ তুলোর ব্যাপক চাষ করেন। এই অঞ্চলে এরপর ফ্যাক্টরি তৈরি হয়।
১৯৭২ সালে কংগ্রেস সরকার ১৯৫৮ সালের বম্বে অভিধৃতি ও কৃষি (বিদর্ভ আর কচ্ছ এলাকা)অধিনিয়ম( যা অবসবাসকারীদের জমি কেনা বেচা নিষিদ্ধ করে) তা জারি করে গুজরাটের বাইরের লোকের গুজরাটের জমি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০১০ সালে গুজরাটের মোদী সরকার এই আইনকে ঢাল বানিয়ে শিখ কৃষকরা এই অঞ্চলের জমির মালিকানা পেতে পারেনা বলে উল্লেখ করে শিখ ও পঞ্জাবি কৃষকদের জমি ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। ফলে এই কৃষকরা এখন। না। তাদের জমি বিক্রি করতে পারছেন না কোন লোন পাচ্ছেন। কৃষকরা ভীত হয়ে আছেন কারন তারা জানেন যেহেতু তাদের জমির ওপর তাদের নিজেদেরই আর মালিকানা নেই বলে সরকার মনে করছে ফলে জমি অধিগ্রহণ করলেও তারা কোন ক্ষতিপূরণ পাবেন না।

২০১১ সালে গুজরাটের শিখ কৃষকরা গুজরাট হাইকোর্টে একটি আপিল
করেন এবং মামলায় জিতে যান ।এরপর গুজরাট সরকার এই রায়ের ওপর ‘স্টে অর্ডার’ দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে আপীল করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। তারপরেই গুজরাট সরকার কৃষকদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় কিন্তু সেখানেও স্টেশন অর্ডার না পেলেও মামলাটি ২০১৫ সাল থেকে ঝুলে আছে। সুপ্রিম কোর্টে কৃষকদের হয়ে মামলাটি লড়ছেন হিম্মত সিং শেরগিল।এর ফলে স্টেশন অর্ডারের অজুহাত দিয়ে গুজরাটের আধিকারিকরা কৃষকদের নিজেদের নামে জমি রেকর্ড করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

কৃষকনেতা সুখবিন্দর সিং ভুল্লার বলেন যে, “মোদী শিখ কৃষকদের পাশে থাকার নাটক করছেন। যদি সত্যিই মোদী আমাদের পাশে থাকতেন তাহলে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যেত না। “

পিরথী সিং নামে এক গুজরাটি কৃষক জানিয়েছেন যে, “মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সমূদ্র বন্দর লাগোয়া বিস্তীর্ন এলাকা অম্বানী আদানীর মতো কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ায় রিয়েল এস্টেটের জমি মাফিয়াদের লোভ বেড়ে গেছে। এখন আমাদের নিজেদের জমির ওপরেও ওদের চোখ পড়েছে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদী গুজরাটে যা করেছে তাই এখন সারা দেশে করতে চাই তাই বিক্ষোভে নেমেছে দেশের কৃষকরা।”

গুজরাটে জমি হারানো কৃষকদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাই এখানকার শিখ কৃষকরা পঞ্জাবে চলে যেতে শুরু করেছেন।

এই কৃষকরাই এখন দিল্লির আন্দোলনরত কৃষকদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।

147

Leave a Reply