১৯/১২/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

চকচকে সোনালী রংয়ের প্রায় সাড়ে তিন ফুটের প্রায় অচেতন দেহ টেবিলে শোয়ানো। শরীরে চলছে ছুরি-কাঁচি দিয়ে পিঠের গভীর ক্ষতের মেরামতির কাজ। মাঝে মাঝেই ওষুধের প্রভাব সত্ত্বেও যন্ত্রনায় প্রবল ছটফটানি দেখা দিচ্ছে হিলহিলে দেহটায়। যদিও শক্ত করে আটকে রেখেছেন চিকিৎসকেরা,কারণ মুঠো ফসকে একবার বেরিয়ে গেলেই বিষের থলি উজাড় করতে খুব বেশি হলে কয়েক সেকেন্ড লাগবে! যমের দক্ষিণ দুয়ার কেউ আটকাতে পারবে না।সাড়ে তিন ফুটের সেই মৃত্যুদূতটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনাটাই ছিল বনদফতরের চ্যালেঞ্জ। সেই কাজ ভালভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসক। সফল অপারেশনের পর পূর্ণবয়স্ক বিশাল আকারের চন্দ্রবোড়াটি খাঁচার মধ্যে ধীরে হলেও চলাফেরা শুরু করেছে। দিনকয়েকের মধ্যে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা। পুরো ঠিক হয়ে গেলে তাকে ফের প্রকৃতির মাঝে ছেড়ে আসা হবে। আপাতত সেটির ঠিকানা ওয়াইন্ড লাইফ রেস্কিউ অ্যান্ড ট্রানজিট ফেসিলিটি সেন্টার। সল্টলেকের এই ব্লকের বনদপ্তরের অফিস সেটি।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার গড়িয়ার শচীন্দ্রপল্লি থেকে চন্দ্রবোড়াটি উদ্ধার করেন বনদপ্তরের কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দা শান্তনু দাস সাপটিকে দেখার পর ইন্টারনেট ঘেঁটে বনদপ্তরের টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করেন দুপুর দেড়টা নাগাদ। তার খানিকক্ষণ পরে সল্টলেক থেকে চারজনের একটি টিম গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে। সেটির পিঠে প্রায় তিন ইঞ্চির মতো ক্ষত ছিল। রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে ঢেকে ছিল জায়গাটি। কোনও কিছু দিয়ে সেটিকে মারা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনওভাবে আঘাত লেগেছে তা এখনও স্পষ্ট নয় বনকর্তাদের কাছে। বনদপ্তরের সল্টলেকের রেঞ্জ অফিসার মনোজ কুমার যশ বলেছেন, “আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। স্টিচ করার ফলে সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।” এখন চন্দ্রবোড়াটিকে শুধুমাত্র ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। খাবার খাওয়ার মতো সুস্থ হয়ে উঠলে ছোট আকারের ইঁদুর বা ব্যাঙ খেতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মনোজবাবু। মানুষের ভিড়ে জীব জন্তুর অস্তিত্ব যখন তীব্র সংকটে,তখন বিরল এই সরীসৃপ টিকে সারিয়ে তোলায় স্বভাবতই খুশি বন দফতর ।

47