Categories
অর্থনীতি

প্রত্যাহার করা উচিত কৃষি আইন, নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিত বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়

ওয়েবডেস্ক,ডিসসেম্বর,১৫,২০২০: কৃষকরাই যখন এত প্রবল বিরোধীতা করছেন তখন সরকারের উচিত এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করা।দেশের প্রবল কৃষক আন্দোলন নিয়ে এমনটাই জানালেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের মতে, মহামারীর পরে অর্থনীতি নিয়ে চারিদিকে যখন এত সংশয়, তখন কৃষি আইন কার্যকর করাটা একেবারেই বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বহু মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই সরকারের উচিত যতদিন না সংসদে এই আইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আপাতত অন্তত ততদিনের জন্যও এই আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া।কৃষি আইন সম্পর্কে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলছেন,”আমি বলব এই মহামারীর আবহে এই আইন কার্যকর করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। অনেক কৃষকই বুঝতে পারছেন না এরপর ফসলের দাম কেমন হবে। মনে হচ্ছে যেন অর্থনীতি অবাধ পতনের মুখে। এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক বিষয়গুলি মানুষকে আরও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। সরকারপক্ষ এবং কৃষকদের মধ্যেকার আলোচনা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ দু’পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের জায়গায় চিড় ধরেছে। তিনি বলছেন,এর দুটো কারণ। প্রথমত, সরকারের যা প্রস্তাব তা পুরোপুরি মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না। কৃষকরা ভাবছেন, এক বা দু’জন কর্পোরেট যদি আমাদের কুক্ষিগত করে ফেলে তাহলে কী হবে? সে তো অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু সরকারকে বোঝাতে হবে, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সামাল দেওয়ার জন্য কী পরিকল্পনা তারা করেছে। অভিজিৎবাবু মনে করছেন দ্বিতীয় কারণটি আরও ভয়ঙ্কর। তাঁর মতে,এই মুহূর্তে সরকারের উপর থেকে মানুষের আস্থা নেই। সরকার তো যা করছে, আমাদের ভালোর জন্যই করছে। কিন্তু মানুষ সেটা ভাবতে পারছে না। আর সেটার কারণও আছে।তাহলে এখন সরকারের কী করা উচিত বলে মনে করছেন তিনি?নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলছেন, সাময়িকভাবে হলেও এই আইন প্রত্যাহার করা উচিত সরকারের। তাঁর কথায়,মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যে ফারাক এখন বিস্তর। এখন সরকারের উচিত কৃষকদের বলা, যে আপনাদের কথা আমরা শুনলাম। আপনাদের সঙ্গে আমরা একমত নই। তবে, আপনাদের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে যতদিন না সংসদে এই আইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ততদিন এটাকে প্রত্যাহার করা হল।

তবে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদের কথা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুনবে বলে মনে করছে না ওয়াকিবহাল মহল। কারন, কেন্দ্রের মন্ত্রীদের অনেকেই কৃষকদের মাওবাদী যোগাযোগ সহ অন্যান্য তথ্য হাজির করে এই আন্দোলনকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টায় মেতেছেন।

73

Leave a Reply